ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে আবারও মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৭:৩২আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৫, ১৭:৩২

ইয়েমেনের হুথি-সমর্থিত টেলিভিশন আল-মাসিরাহ জানিয়েছে, হোদেইদাহ বন্দর ও বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র ১৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর দুই দিন আগে হোদেইদাহর রাস ইসা বন্দরে আমেরিকার হামলায় অন্তত ৮০ জন নিহত ও ১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার আল-মাসিরাহ জানায়, রাজধানী সানার আল-থাওরা, বানি মাতার ও আল-সাফিয়া এলাকায় মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলা সত্ত্বেও হুথিরা আরও অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছে। 

কয়েক সপ্তাহ আগে হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর রুটে জাহাজ চলাচলে হুথিদের হুমকি বন্ধ করতেই এ হামলা। 

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিরা ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজে ১০০টির বেশি হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। 

শুক্রবার হুথি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি আল-মাসিরাহকে বলেছেন, আমেরিকা ইয়েমেনের জনগণকে গাজাকে সমর্থন করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না, বরং তাদের দৃঢ়তা ও সহিষ্ণুতা আরও বাড়িয়ে দেবে। 

১৯৯০-এর দশকে আত্মপ্রকাশ করা হুথিরা ২০১৪ সালে সানা দখল করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাবু মনসুর হাদিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। বর্তমানে ইয়েমেনের বেশিরভাগ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে। 

শনিবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রাস ইসা বন্দর ও এর আশেপাশে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল মার্কিন হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও পাঁচজন মানবিক কর্মী আহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও লোহিত সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন গুতেরেস। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, রাস ইসা বন্দরে হামলার লক্ষ্য ছিল হুথিদের সরবরাহ ও অর্থায়ন বন্ধ করা। ইরান-সমর্থিত এই গ্রুপের বিরুদ্ধে ১৫ মাসের অভিযানে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। 

ইয়েমেনের ৭০ শতাংশ আমদানি ও ৮০ শতাংশ মানবিক সহায়তা রাস ইসা, হোদেইদাহ ও আস-সালিফ বন্দর দিয়ে হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে, রাস ইসা বন্দর ও ইয়েমেনের প্রধান তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

/এএ/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সর্বশেষ খবর
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে