যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহার করতে না দেওয়ার ‘আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব’ রয়েছে এসব দেশের। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠন, বাস্তবায়ন বা সমর্থনের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইসরায়েল যাতে কোনও দেশের ভূখণ্ড বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে না পারে, তা প্রতিরোধ করার জন্য অঞ্চলের সমস্ত দেশের, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত দেশগুলোর আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মাথায় তেহরানের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানই ওই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ এবং ‘ইরানের অন্যায় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি সমানুপাতিক জবাব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরবর্তীতে সেন্টকম হামলা সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়ে জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে আঘাত হেনেছে।
এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ‘আরও কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা। পরবর্তীতে কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় আইআরজিসি।









