ইরান যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন কত তেল পরিবহন হচ্ছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও বেসরকারি বিশ্লেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আসলে কত তেল যাচ্ছে, সেটির স্পষ্ট চিত্র পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
যুদ্ধের আগে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পথে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য যেত। এর ওপর নির্ভর করে পেট্রলসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দামও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রতিদিন ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, হরমুজের তেলের প্রবাহ ফিরে এসেছে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও বলেছেন, সোমবার হরমুজ দিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য গেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের গড় প্রবাহ এর চেয়ে অনেক কম।
র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বব ম্যাকন্যালি বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সত্যটা, অথবা অন্তত তার কাছাকাছি জানতে পারব। যদি ওই পরিমাণ তেল বের হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোথাও না কোথাও যেতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত এর হিসাব পাওয়া যাবে।
ট্যাংকার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অবশ্য প্রশাসনের দাবির চেয়ে কম। তবে যুদ্ধের সময় তেলের চালান হিসাব করা কঠিন। অনেক ট্যাংকার তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিচ্ছে এবং তেল পরিবহনে নানা কৌশল ব্যবহার করছে।
এতে হিসাব আরও কঠিন হলেও এসব প্রতিষ্ঠান উপগ্রহচিত্র, পণ্য ওঠানোর তথ্যসহ বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে। তেল আমদানিকারক দেশগুলোর বন্দর ও শুল্ক তথ্য এবং মজুতের পরিমাণও পরে প্রকৃত চিত্র বুঝতে সহায়তা করবে। তবে কোনও কোনও বড় আমদানিকারকের কাছে ট্যাংকার পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লাগে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আরব উপসাগর থেকে বের হওয়া তেল ও তেলজাত পণ্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সবচেয়ে ভালো যে তথ্য পাওয়া সম্ভব, তা সংরক্ষণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনও নির্দিষ্ট দিনে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কয়েক দিনের গড়। জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, বুধবার হরমুজ দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য গেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাইট জানিয়েছিলেন, কয়েক দিনের গড় প্রবাহ প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল।
পণ্য পরিবহন ও বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার হিসাবে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৮ দিনের গড় প্রবাহ ছিল প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল। আর ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের প্রাথমিক হিসাবে, গত সাত দিনে শুধু অপরিশোধিত তেলের গড় প্রবাহ ছিল ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল।
ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ বলেন, সম্ভবত ট্রাম্প প্রশাসন যতটা দাবি করছে, ততটা নয়। তবে তিনি বলেন, কিন্তু এটি ট্রাম্পকে এই ধারণা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট যে সময় তার পক্ষে এবং ইরানিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

প্রথমবার ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদর দফতরে রাশিয়ার হামলা
ভারতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে কেন প্রতিবাদ করছে জেন-আলফা
যুদ্ধ থামাতে মস্কো-কিয়েভ যাচ্ছেন ট্রাম্পের দুই দূত







