যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী বিস্তৃত সংঘাতের মুখে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইরান সফরে যাচ্ছেন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা। সৌদি ভূখণ্ড সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পর দুইপক্ষের মধ্যে এটাই প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ।
সৌদি আরব ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক এই বৈঠকে ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরান বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি জানান, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এই বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথম ধাপ হতে পারে।
এদিকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরাও উত্তেজনা প্রশমনে রবিবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
সৌদি পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিভাগের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, বর্তমান সংকট হ্রাস, কূটনৈতিক সমাধানের প্রসার এবং কাতার ও পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার অংশ হিসেবে মক্কা চুক্তির দেশগুলো এ সফর করছে।
তিনি আরও জানান, এই সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মক্কা চুক্তির দেশগুলোর প্রতিশ্রুতির প্রকাশ।
আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, এক সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সব সদস্যের ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা তীব্র হওয়ায় মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশের মন্ত্রীরা সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যার জবাবে ইরানও কঠোর প্রতিরোধের হুমকি দিয়ে রেখেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এই যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করায় তা প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
সূত্র: রয়টার্স
দুই বাংলাদেশির ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সৌদির জেলে পশ্চিমবঙ্গের যুবক, দাবি পরিবারের
নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ডিজেলের নামে ইরানি জেট ফুয়েল কিনছে মিয়ানমার