এক সপ্তাহের মধ্যে জার্মানিতে দ্বিতীয় দফা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল। সোমবার ট্রেনে কুঠার হাতে কিশোরের হামলার পর শুক্রবার মিউনিখের অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে হামলা হলো। শুক্রবারের হামলায় হতাহতের নিশ্চিত সংখ্যা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া নয়টার দিকে এক আফগান শরণার্থী কিশোর ট্রেনে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর দক্ষিণ জার্মানির ওয়েজারবুর্গ শহরের হাইডেনজেগফিল্ড রেললাইনে হেলিকপ্টারে করে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ট্রেনটি ওয়েজারবুর্গে আসার কিছুক্ষণের মধ্যে কুঠার ও ছুরি নিয়ে এক কিশোর যাত্রীদের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে হামলাকারী ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে এবং পরে পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জার্মানির সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, হামলার সময় ওই কিশোর ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করছিল। হামলায় আহত চারজনের মধ্যে তিনজন গুরুতরভাবে আহত। এর আগে বলা হয়েছিল, হামলাকারীর কুঠারের আঘাতে ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে আফগান কিশোরের মৃত্যু হয়। কুঠার হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মিউনিখের দ্য অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে হামলা চালায় কয়েকজন বন্দুকধারী। মিউনিখের মোসাক জেলার অলিম্পিয়া-আইনকাউফুজেন্ট্রাম শপিং মলে এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ তিন জন হামলাকারীর কথা জানিয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে অন্তত দশজন নিহতের কথা বলা হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম মিউনেখার আবেন্দজেইটুং-এর বরাত দিয়ে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৫ জন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যম আরটি। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এনটিভি নিহতের সংখ্যা ১০ জন বলে জানিয়েছে।
নিজের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক শপিং সেন্টারে আটকে পড়া এক কর্মচারী ফোনে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, স্রোতের মতো দোকানে মানুষ ঢুকে পড়ে। আমি এক ব্যক্তিকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখেছি বেশ আহত অবস্থায়। নিশ্চিতভাবে ওই ব্যক্তি মারা যাবেন। তিনি বলেন, এর বেশি কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা স্টোররুমে লুকিয়ে আছি। এখনও পুলিশ আমাদের কাছাকাছি আসতে পারেনি।
টুইটারে স্থানীয় পুলিশ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরে আরেকটি টুইটে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। সাধারণ মানুষদের জনসমাগম স্থল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।
/এএ/








