আফগান ট্রাম্পের ‘কাফের নাম’ নিয়ে তোলপাড়

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:২৩, মার্চ ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৫, মার্চ ১৮, ২০১৮

‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ মতো ‘কাফের’ নাম রাখায় আফগানিস্তানে এক পরিবারকে হুমকি-হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। আফগানিস্তানের একজন শিক্ষক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের ছেলের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখায় অসন্তুষ্ট পরিবার থেকে প্রতিবেশী সবাই। ফেসবুকে এ নিয়ে হত্যার হুমকি ও দেওয়া হয়েছে।  একে আখ্যা দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হওয়ার কৌশল হিসেবেও। তবে আফগান আইন ভঙ্গ হয়নি ওই ‘অনৈসলামিক’ নাম রাখায়,  জানিয়েছেন ‘পপুলেশন রেজিস্ট্রেশন অফিসের’ রুহুল্লাহ আহমাদযি।  এএফপিকে আফগান ট্রাম্পের বাবা জানিয়েছেন, তিনি তার ছেলের নাম বদল করবেন না, সে যত সমালোচনাই হোক।

আফগানিস্তানের কাবুলে নিজেদের বাসায় বেখবর ছোট্ট শিশু ট্রাম্প যখন তার তার খেলনা গাড়িটিকে উল্টে পাল্টে ফেলছে তখন তার ‘কাফের’ নাম নিয়ে আফগানিস্তানের রক্ষণশীল মুসলমান সমাজে চলছে তোলপাড়। গোলাপি গালের ছোট্ট শিশুটির বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রের কোটিপতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছেলের নাম রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ফেসবুকে তার ওই নাম নথিবদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিয়েছে। তাদের সমালোচনার তোড়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন শিশুটির বাবা।

আফগান ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা সৈয়দ আসাদুল্লাহ পৌয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোটিপতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ভক্ত। তিনি ও তার স্ত্রী বলেছেন,  ট্রাম্পের নামে তাদের তৃতীয় ছেলের নাম রাখা নিয়ে যেসব অশ্লীল ও অপমানজনক মন্তব্য করা হচ্ছে সেগুলোকে তারা পাত্তা দেন না। ট্রাম্পের নামের সঙ্গে মিল রেখে নাম রাখার বিষয়টি প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ ছেলের জন্য ‘কাফের নাম’ বেছে নেওয়ায় আসাদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, তিনি তার ছেলের জীবন বিপন্ন করার জন্য দায়ী। পেশায় শিক্ষক ২৮ বছর বয়সী আসাদুল্লাহর বিরুদ্ধে  সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার জন্য এই কাজ করেছেন। আসাদুল্লাহ অস্বীকার করেছেন এই অভিযোগ।

আসাদুল্লাহ কাবুলের যে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাতে থাকেন সেখানে তার প্রতিবেশীরা পর্যন্ত তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছে এবং এলাকা ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে বলেছে। তিনি এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি শুরুতে বুঝতে পারিনি আফগান সমাজ একটা নাম নিয়ে এত স্পর্শকাতরতা দেখাবে।’ ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের কয়েক মাস আগে আফগান ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম। স্থানীয় পাঠাগার থেকে নেওয়া ‘হাও টু গেট রিচ’সহ একইরকম অন্যান্য বইয়ের পার্সিয়ান অনুবাদ পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন আসাদুল্লাহ। তারপর থেকেই ছেলেকে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প নামে ডাকতে শুরু করেন। তিনি আশা করেছিলেন, তার ছেলে বড় হয়ে ট্রাম্পের মতো সফল হবে। তার ছেলে নাকি এখনিই ট্রাম্পের ছবি দেখলে খুশি হয়ে ওঠে। নাম নিয়ে প্রথম বাধা আসে পরিবার থেকেই। আফগান ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাদা-দাদি যখন বুঝতে পারলেন, তাদের ছেলে সত্যিই তার ছেলের নাম রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তখন তারা তা মেনে নিতে অস্বীকার করেন। সেখান থেকে সম্পর্কে চিড় ধরে। আসাদুল্লাহ তার পরিবার নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের ফেলে কাবুলে চলে যান। শিশু ট্রাম্পের নাম নিয়ে সমালোচনা হলেও তা কোনও আইন বিরুদ্ধ কাজ নয়। আফগানিস্তানের ‘পপুলেশন রেজিস্ট্রেশন অফিসের’ রুহুল্লাহ আহমাদযি বলেছেন, অনৈসলামিক নাম রাখলেও তাতে কোন আইন ভঙ্গ হয়নি। তার ভাষ্য, ‘তারা তাদের সন্তানের যেকোনও নাম রাখতে পারে, সেটা যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয় তাহলেও।’ পরিবার, বিশেষ করে ছেলে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হলেও, আসাদুল্লাহ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, তিনি ওই নাম পরিবর্তন করবেন না। 

/এএমএ/

লাইভ

টপ
X