রাশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের দায়ে সাত 'নৈরাজ্যপন্থী'র কারাদণ্ড

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৪:৩০, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:১৮, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

রাশিয়ায় সন্ত্রাসবাদসহ তিনটি অভিযোগে সাত নৈরাজ্যপন্থীকে (অ্যানার্কিস্ট) বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওই সাত বামপন্থী অ্যাক্টিভিস্টকে কারাদণ্ড দেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাক্টিভিস্টরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও ২০১৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপের সময় হামলা পরিকল্পনার দায়ে ‘দ্যা নেটওয়ার্ক’ নামের একটি নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ওই বামপন্থী অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়। অভিযুক্তদের বেশিরভাগই প্রাদেশিক শহর পেনজার বাসিন্দা, যাদের বয়স ২৩ থেকে ৩১ এর মধ্যে।

অ্যাক্টিভিস্টরা ওইসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিযোগগুলো কল্পিত। তাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নিতে কারাগারে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। সোমবার সামরিক আদালতে তাদের রায় দেওয়ার সময় সেখানে ওই রায়কে ‘লজ্জা’ বলে স্লোগান দেন তাদের শতাধিক সমর্থকরা। আর ক্রেমলিনের সমালোচকরা আদালতের ওই রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, অ্যাক্টিভিস্টদের নির্যাতন করে এখন তাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই মামলার বিষয়ে সচেতন ছিলেন। তবে এতে তার হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতি বারবার খতিয়ে দেখেছেন প্রেসিডেন্ট এবং সবকিছু আইনানুযায়ী সঠিকভাবে হচ্ছে কীনা তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের বারবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।’

দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা আলেক্সি নাভালনি টুইটার পোস্টে এই দণ্ডাদেশকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নির্যাতন করে একটি কাল্পনিক সন্ত্রাসী সংগঠনের ব্যাপারে এই তরুণদের কাছে সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। রাশিয়া সরকারের যে কোনও মন্ত্রী একজন অপরাধীর থেকে ১০ গুণ এবং এই তরুণদের থেকে সমাজের জন্য বেশি হুমকি।’

বামপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ওই তরুণদের রাজনৈতিক কারাবন্দি বলে আখ্যা দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন মেমোরিয়াল।

সন্ত্রাসবাদের ওই মামলার বিরুদ্ধে দেশটিতে প্রতিবাদ হয়েছে। ওই মামলা বাতিল চেয়ে ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন।

/এইচকে/বিএ/

লাইভ

টপ