ভারতজুড়ে ১৪ ঘণ্টার কারফিউ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৯:৪৫, মার্চ ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫০, মার্চ ২২, ২০২০

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (রবিবার) ভারতজুড়ে ১৪ ঘণ্টার জনতা কারফিউ পালিত হবে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, এমন যে কাউকে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১ জনে। মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আপাতত করোনার থার্ড স্টেজের দিকে এগোচ্ছে মহারাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জনতা কারফিউর ডাক দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই জনতা কারফিউ পালনের ডাক নিয়ে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা কটাক্ষ করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর সমর্থনে ব্যাপক লেখালেখি হয়েছে।

মোদির ডাকে সাড়া দিয়ে রবিবার ছুটি  ঘোষণা করেছে প্রায় সব সরকারি ও  বেসরকারি সংস্থাগুলো। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এই প্রথম মোদির আহ্বানে সমর্থন জানিয়ে ট্রেন বন্ধ রাখা হচ্ছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের কোনো স্টেশন  থেকে কোনো প্যাসেঞ্জার ট্রেন ছাড়বে না। রোববার ভোর থেকে বন্ধ থাকবে  মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। এদিন কোনো বিমানও চালানো হবে না বলে জানিয়েছে একটি বিমান সংস্থা। অন্যরাও বিমান উড়ানোর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।

দিল্লিতে মেট্রো ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে কলকাতায় মেট্রো চলবে অর্ধেকের কম। অবশ্য মুম্বাই, পুনে ও নাগপুর ইতোমধ্যেই লকডাইন ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এবার বাড়ি থেকে কাজ করবেন ভারতীয়  সেনাবাহিনীও। শুক্রবার আর্মি  হেডকোয়ার্টারের তরফে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনীর ৩৫% অফিসার এবং ৫০% জেসিও (জুনিয়র কমিশনড অফিসারস) এক সপ্তাহের জন্য বাড়িতে  থেকে কাজ করবেন। ২৩শে মার্চ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে।

বিরোধীদের মতে, কোনো আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা না করে কারফিউয়ের ডাক ভড়ং ছাড়া কিছুই নয়। আবার সন্ধ্যা ৫টায় জরুরি পরিষেবার যুক্তদের উৎসাহ দিতে প্রত্যেককে ঘণ্টা বাজানোর জন্য মোদি যে আবেদন জানিয়েছেন তাকেও হিন্দুত্বের লক্ষণ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে, সামাজিক দূরত্বের অভ্যাস গড়ে দেবে এই কারফিউ।

বিশেষজ্ঞরাও এই কারফিউ পালনের পক্ষ নিয়ে মতামত জানিয়েছেন। তবে তারা বলছেন, মাত্র ১৪ ঘণ্টার এই কারফিউ সংক্রমণের হারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। অনেকে তো বলেছেন, এ রকম কারফিউ আগামী সপ্তাহে আরো ২ থেকে ৩ বার হওয়া উচিত। তাহলে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

ভারতের অন্যতম প্রধান ভাইরোলজিস্ট টি জেকব বলেছেন, এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউতে মানুষ যদি রাস্তায় না বেরিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন তাহলে সেদিনের জন্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে তো বটেই। তবে জেকব মনে করেন, এই জনতা কারফিউর সবচেয়ে বড় উপকার হবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অভ্যাস তৈরি হবে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের অধিকর্তা কমলেশ সরকার বলেছেন, আদতে এই কারফিউয়ে লাভই হবে ভারতবাসীর। তিনি মনে করেন গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনও বিকল্প নেই। তিনি বলেছেন, কয়েক ঘণ্টার কারফিউতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে সংক্রমণ বিশেষ ঠেকানো সম্ভব হবে না ঠিকই, তবে সামাজিক স্তরে মানুষকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করবে। যেটা এখন একান্তই প্রয়োজন। 

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ