যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বেবি পাউডারে ট্যালক ব্যবহার করবে না জনসন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:১৬, মে ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৮, মে ২০, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বেবি পাউডারে আর ট্যালক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। তবে ‘ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন’ গ্লোবাল মার্কেটের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে না। ২০২০ সালের ১৯ মে এক ঘোষণায় নিজেদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ইতোপূর্বে একাধিক বার জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাউডারে অ্যাসবেস্টস-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অ্যাসবেস্টস শিশু শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এর সংস্পর্শে এলে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। যদিও জনসন অ্যান্ড জনসন বেবি পাউডারে পাওয়া অ্যাসবেস্টস-এর মাত্রা খুবই কম। তারপরও বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। এ নিয়ে কয়েক বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বেবি পাউডারে ট্যালক ব্যবহার না করার ঘোষণা দেয় জনসন অ্যান্ড জনসন।

প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য জোর দিয়ে বলে আসছে, ট্যালক যুক্ত বেবি পাউডার থেকে সরে এলেও এর পক্ষে তারা জোরালো অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের দাবি, কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণাই তাদের এই বেবি পাউডারের সুরক্ষাকবচ। তারপরও ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্যের কারণে যেন তাদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে না যায়, সেজন্য নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকায় ট্যালক-ভিত্তিক জনসনের বেবি পাউডারের চাহিদা ভোক্তাদের অভ্যাস পরিবর্তনের কারণে অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে। পণ্যের সুরক্ষা ইস্যু এবং মামলার ফলে অনেকেই ‘ভুল তথ্য’ পেয়েছে।

সিএনএন জানিয়েছে, ট্যালকম পাউডারের স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার মামলা হয়েছে। বাদীদের দাবি, এসব পাউডারে ব্যবহৃত অ্যাসবেস্টস-এর ফলে তাদের ক্যান্সারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে অনলাইনে কেনা এক বোতল বেবি পাউডার পরীক্ষা করে সেটিতে অ্যাসবেস্টস পাওয়া গেছে। এর এক পর্যায়ে বাজার থেকে বেবি পাউডার তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় জনসন অ্যান্ড জনসন। সর্বশেষ মঙ্গলবার এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিলো প্রতিষ্ঠানটি।

ট্যালকম পাউডার তৈরির প্রধান উপাদান ট্যালক একটি খনিজ পদার্থ। মাটিতে অ্যাসবেস্টসের কাছাকাছি অবস্থান থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়। তবে নিজেদের ট্যালকম পাউডারে অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি থাকার কথা অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, তাদের পণ্য ব্যবহারে ক্যান্সার হওয়ার শঙ্কা নেই; তারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ওই পাউডার তৈরি করছে।

২০১৮ সালে পণ্যে ক্যানসার ঝুঁকির কারণে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনকে বিপুল পরিমাণ জরিমানা করে মার্কিন আদালত। তাদের পণ্য ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগকারী ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৯ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। জনসনের বেবি পাউডার ও কয়েকটি সামগ্রী ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয় সম্পর্কে সতর্ক না করায় এই জরিমানা করা হয়। ওই ২২ নারীকে প্রাথমিকভাবে ৫৫ কোটি (বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য ৪ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদেরকে দিতে হবে আরও ৪১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪,৪৭১ কোটি টাকা)।

এর আগে ২০১৭ সালেও একই ধরনের অভিযোগকারী এক নারীকে ৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত। একই বছর মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের এক জুরি বোর্ড জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত এক নারীকে ১১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দেয়। 

২০১২ সালে ভার্জিনিয়ার ৬২ বছরের নারী লইস স্লেম্প জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে ধরা পড়ে। এরপর তিনি কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বেবি পাউডার ও গোসলের বিভিন্ন প্রসাধন ব্যবহারে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কথা গোপন করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন। তার আগেও একই ধরনের বেশ কয়েকটি মামলায় জরিমানার মুখে পড়ে কোম্পানিটি। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ৭২,৭০ ও ৫৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয় জনসন অ্যান্ড জনসনকে।

/এমপি/

লাইভ

টপ