মার্কিন বিক্ষোভে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হামলার শিকার সাংবাদিকেরা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৪:৪১, জুন ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৩৭, জুন ০২, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট আর পিপার স্প্রের মুখে পড়ে আহত হয়েছেন তারা। সাংবাদিকদের দাবি অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পরও হামলার শিকার হতে হয়েছে। গত তিন দিনে একশ’রও বেশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্নকারী ঘটনা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে অলাভজনক প্রজেক্ট ইউএস প্রেস ফ্রিডম ট্রাকার। এই ধরনের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক গ্রুপ কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন বহু সাংবাদিক

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও প্রকাশ হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ শুরু হয়। টানা ছয় দিনে এই বিক্ষোভ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার বিক্ষোভের খবর সরাসরি সম্প্রচারের সময় সিএনএন’র এক রিপোর্টারকে গ্রেফতারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণের বিষয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকৃষ্ট হয়।

ওই ঘটনার পর সাংবাদিকদের ওপর আরও হামলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসতে  থাকে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মিনিয়াপলিস শহরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই টেলিভিশন কর্মীকে লক্ষ্য করে সরাসরি রাোর বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের কাছে বিবিসি’র এক ক্যামেরাম্যানকে আঘাত করে দাঙ্গা পুলিশের এক কর্মকর্তা। ওই একই দিন ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে রেডিও রিপোর্টার অ্যাডোলফো গুজম্যন লোপেজের গলায় রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে এক পুলিশ কর্মকর্তা।

এছাড়া শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউসের কাছে ফক্স নিউজের এক কর্মীকে ধাওয়া দিয়ে মারপিট করে মুখোশধারী এক দল ব্যক্তি। শনিবার ভাইস নিউজের সাংবাদিক মাইকেল অ্যান্থনি অ্যাডামস জানান, পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তার মুখে পিপার স্প্রে ছুঁড়েছে পুলিশ। এর আগের রাতে মিনিয়াপলিসে পুলিশের দিক থেকে আসা এক ধাতব বস্তু ফ্রিল্যান্স ফটোজার্নালিস্ট ও অ্যাকটিভিস্ট লিন্ডা টিরাডোর বাম চোখে আঘাত করে। তার ওই চোখ স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে গেছে। জার্মান আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক সাংবাদিকও পুলিশের ছোড়া ধাতব বস্তুর আঘাত পেয়েছেন।

এসব হামলার সময়েও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ঘৃণা আর নৈরাজ্য উসকে দিতে ক্ষমতায় থাকা সবকিছুই করছে প্রথাগত সংবাদমাধ্যম। সাংবাদিকদের তিনি ‘অসুস্থ এজেন্ডা বয়ে বেড়ানো সত্যিকার খারাপ মানুষ’ আখ্যা দেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস বলছে, এই ধরনের ঘটনা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরিষ্কার লঙ্ঘন। সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের উপদেষ্টা পরিচালক কোর্টনি রাডিশ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানো থেকে পুলিশকে বিরত রাখতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ