‘মাস্ক পরতে না চাওয়া মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর মতো’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৮:৫৭, জুলাই ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৩, জুলাই ০৮, ২০২০

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ঘরের বাইরে সবাইকে ফেস মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিজ্ঞানবিষয়ক একাডেমি রয়্যাল সোসাইটি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মাস্ক পরতে না চাওয়াকে মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর মতোই খারাপ চোখে দেখা উচিত।

রয়্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ভেঙ্কি রামাকৃষ্ণান বলছেন, জনবহুল প্রকাশ্য স্থানে যখনই কেউ যাবেন তখনই তার মাস্ক পরা উচিত। এতে যিনি মাস্ক পরছেন তিনি নিরাপদ থাকবেন। তার কাছাকাছি যারা আছেন তারাও সুরক্ষা পাবেন। এর পক্ষে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক সময় বলেছিল যে, মাস্ক পরার পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। কিন্তু জুন মাসে তারা তাদের পরামর্শে পরিবর্তন এনে বলে – যেখানে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা সম্ভব নয় সে রকম প্রকাশ্য স্থানে মাস্ক পরা উচিত।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, কথা বলা বা হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় নাক-মুথ দিয়ে যে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা বেরিয়ে আসে তার মাধ্যমেই করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল এডেলস্টাইন মাস্কের কার্যকারিতা সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রণেতা। তিনি বলেন, মাস্ক যে অন্য লোকদের সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করে তা সবসময়ই স্পষ্ট ছিল।

অধ্যাপক পল এডেলস্টাইন বলেন, ‘যেসব লোক ভাইরাস বহন করছেন কিন্তু দেহে কোনও উপসর্গ নেই – তারা তাদের অজান্তেই নাক-মুখ দিয়ে ড্রপলেট ছড়াচ্ছেন। তাদের মুখ ঢাকা থাকলে এসব ক্ষুদ্র পানির বিন্দুর বেশিরভাগই মাস্কে আটকা পড়বে – অন্য কাউকে সংক্রমিত করার আগেই। অন্যদিকে যিনি মাস্ক পরে আছেন তাকেও যে এটা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে – তারও কিছু প্রমাণ রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অবশ্য বলেছে, মাস্ক পরা ও খুলে নেওয়ার সময় ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি আছে। ফলে এ ব্যাপারে ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকতে হবে।

এপ্রিল মাসে এক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ লোক মাস্ক পরছেন। অন্যদিকে ইতালিতে ৮৩.৪ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫.৮ শতাংশ এবং স্পেনে ৬৩.৮ শতাংশ লোক মাস্ক পরেন।

মে মাসের শেষ দিকে অস্ট্রিয়ায় মাস্ক পরা সংক্রান্ত নিয়মগুলো তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রিয়ার উত্তর-পশ্চিমে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির একাংশে মাস্ক পরা আবারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ