নিজ দেশে ফ্রান্সের কর্তৃত্ব চান অর্ধলক্ষাধিক লেবানিজ!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৭:০১, আগস্ট ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৯, আগস্ট ০৮, ২০২০

বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শতাধিক প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে লেবানন। ৪ আগস্টের ওই বিপর্যয়ের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন তারা। সরকারের প্রতি তীব্র অনাস্থা জানিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে মানুষ। এরইমধ্যে আগামী ১০ বছরের জন্য লেবাননের কর্তৃত্ব ফ্রান্সের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশন খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।

পিটিশনে লেবাননের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেশটির শাসকগোষ্ঠীকে দায়ী করে সংকট উত্তরণে ফ্রান্সের হাতে কর্তৃত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পিটিশনে বলা হয়েছে, লেবাননের কর্মকর্তারা স্পষ্টতই রাষ্ট্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও দেশ পরিচালনায় তাদের অক্ষমতা দেখিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, একটি ব্যর্থ ব্যবস্থা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ এবং মিলিশিয়া বাহিনী দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্র ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এক সময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল লেবানন। এখন এই পিটিশনের উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লেবাননকে ফের ফ্রান্সের অধীনে ফিরে যেতে হবে।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট বিকালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পুরো বৈরুত শহর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের বন্দর এলাকা থেকে বড় গম্বুজ আকারে ধোঁয়া উড়ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে গাড়ি ও স্থাপনা উড়ে যেতে দেখা যায়। সরকারি হিসাবে, বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ হাজার মানুষ। ক্ষতি হয়েছে শত শত কোটি ডলারের। ঘটনার কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটিকে চার দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধানে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরক সামগ্রীর বিশাল মজুত থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কর্মকর্তারাও একই রকমের তথ্য দিয়েছেন। তবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন বলেছেন, ‘ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। রকেট বা বোমা কিংবা অন্য কোনও ভাবে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’

আউন আরও জানান, এ বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন পর্যায়ে তদন্ত চলছে। ‘প্রথমত, কিভাবে ওই বিস্ফোরকগুলো গুদামে ঢুকেছে ও মজুত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অবহেলা বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ওই বিস্ফোরণ হয়েছে কিনা। এবং তৃতীয়ত, বাইরের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা।’

এর আগে সরকারিভাবে বলা হয়েছিল, গুদামে মজুত ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়ে মারাত্মক ওই বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সাল থেকে এসব রাসায়নিক অনিরাপদ অবস্থায় সেখানে মজুত ছিল।

এ ঘটনায় রাজধানী শহরের বিভিন্ন স্থানে রাজপথে নেমে আসে লেবানিজরা। মুহূর্মুহূ সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে তারা। বিক্ষোভকারীরা বলছে, সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণেই এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফরাসি কর্তৃত্বে যাওয়া সংক্রান্ত পিটিশনের বক্তব্যও প্রায় একই রকম।

এদিকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়া লেবাননের রাজধানী বৈরুত সফর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এই সফরে তিনি দেশটিকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডাক দিয়েছেন সংস্কারের। টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘লেবানন একা নয়।’ তবে ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় আক্রান্ত লেবানন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ফলে জরুরিভিত্তিতে দেশটিতে সংস্কার আনা না হলে এই সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

ওই বিস্ফোরণের পর প্রথম কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে লেবানন সফর করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। বৈরুত পৌঁছে বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। সাগর পাড়ের জায়গাটি বর্তমানে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণে তৈরি হওয়া ১৪০ মিটারের বিশাল গর্তটি সাগরের পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া একটি ফার্মেসি পরিদর্শনে গেলে বাইরে সমবেত হয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। নিজ দেশের নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ‘শোষণ অবসানের’ দাবিতে স্লোগান দেয় তারা।

বৈরুতের গভর্নরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বিস্ফোরণের ফলে প্রায় তিন হাজার মানুষ সাময়িকভাবে আশ্রয়হীন হয়েছে। এসব মানুষের পুনরায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে ইতোমধ্যে ঋণ জর্জরিত দেশটির অতিরিক্ত তিনশ’ কোটি ডলার ব্যয় হবে বলে জানান তিনি।

/এমপি/

লাইভ

টপ