প্রশ্নের মুখে রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৬:২৬, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:২৮, আগস্ট ১২, ২০২০

দুই মাসেরও কম সময় মানবদেহে পরীক্ষা ছাড়াই মঙ্গলবার বিশ্বের প্রথম করোনাভাইরাসের অনুমোদন দিয়েছে। পশ্চিমা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মানবদেহে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়া যাচ্ছে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স’র এক প্রতিবেদনে এখবর জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের গবেষণার তথ্য হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরির অভিযোগ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যথাযথ ক্লিনিক্যাল না হওয়া সতর্কবার্তাও ছিল। এরপরও মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভ্যাকসিনটিকে অনুমোদন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার পর পশ্চিমা বিশ্ব থেকে তোলা হচ্ছে অনেক প্রশ্ন। বিশেষ করে তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল না করেই ভ্যাকসিন অনুমোদন দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন তারা।

করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের চেষ্টায় এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এসব দেশের ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট কোথাও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। মঙ্গলবার অনুমোদন দিলেও রাশিয়ার ভ্যাকসিনটির তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হবে বুধবার।

রুশ ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দুটি দলে ভাগ করে ভিন্ন ডোজে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকদের। সরকারি হাসপাতালেই তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম দলের সবার শরীরেই ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়েছে। কারও শরীরে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এই দলের স্বেচ্ছাসেবকদের ১৫ জুলাই হাসপাতালে থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দলকে ডিসচার্জ করা হয়েছে ২০ জুলাই।

যুক্তরাষ্ট্রের হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের সচিব অ্যালেক্স অ্যাজার বলেন,  ভ্যাকসিন তৈরিতে প্রথম হওয়া নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের মানুষের কাছে সেই টিকা কতটা নিরাপদ এবং কার্যকর।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা গডলিয়েবও রাশিয়ার তৈরি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরাও দাবি করেছেন, রুশ ভ্যাকসিনের উপযুক্ত পরীক্ষা হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত সপ্তাহে ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে পরীক্ষার সব প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। অনুমোদন দেওয়ার পর সংস্থাটি জানিয়েছে,  তারা ‘স্পুটনিক ভি’ সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে রুশ প্রশাসনের আলোচনা করছে। 

সোমবার ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অর্গানাইজেশনগুলির অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা সম্পূর্ণ না করে যেনও সাধারণ জনগণকে ভ্যাকসিন দেওয়া না হয়। কারণ তাতে মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। এ ব্যাপারে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে, তা যেন লঙ্ঘন করা না হয়। সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর স্বেতলানা জাভিডোভা ব্লুমবার্গকে বলেছেন, এরা প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিতে চাইছে। ভ্যাকসিনের ক্ষমতা যাচাই না করে টিকা প্রদান শুরু করে হলে কী হবে কে জানে!

তবে মস্কোর সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ভাদিম তারাসভ দাবি করেছেন, গ্যামেলিয়া একদিনে ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারেনি। এজন্য তাদের দীর্ঘদিন গবেষণা করতে হয়েছে। এই গবেষণার ভিত্তি শক্তিশালী। অ্যাডিনোভাইরাসের উপর ভিত্তি করেই করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে।

গ্যামেলিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গিন্টসবার্গ বলেছেন, অ্যাডেনোভাইরাসের স্ট্রেন থেকে ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলেও কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখাবে না। কারণ দুর্বল ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষমতা নেই। বরং শরীরের বি-কোষ ও টি-কোষকে সক্রিয় করে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াকে জোরদার করবে। ইমিউন সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

/এএ/

লাইভ

টপ