জলবায়ুতে আগুন দিচ্ছেন ট্রাম্প: বাইডেন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম মূল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দাবানল বিধ্বস্ত পশ্চিমাঞ্চল সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না আসলে যা ঘটছে তা বিজ্ঞান বুঝতে পারছে।’ অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন ট্রাম্পকে আখ্যা দিয়েছেন জলবায়ুতে অগ্নিসংযোগকারী হিসেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলীয় ক্যালিফোর্নিয়া, ওরিগন ও ওয়াশিংটন রাজ্যে আগস্টের প্রথমদিক থেকে শুরু হওয়া দাবানলে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ লাখ হেক্টর ভূমি পুড়ে গেছে ও অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ট্রাম্প দাবানলে ছারখার হওয়া ক্যালিফোর্নিয়ায় সফরে যান।  ব্যাপক দাবানলের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন একটি ফ্যাক্টর কিনা, একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি মনে করি ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিই দায়ী।” জলবায়ু পরিবর্তন ঘিরে উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “(আবহাওয়া) শীতল হতে শুরু করবে, আপনি শুধু দেখেন, আমি মনে করি না বিজ্ঞানই চূড়ান্ত।”

এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ু ইস্যুতে ট্রাম্পের অতীত রেকর্ড তুলে ধরে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন জো বাইডেন। উইলমিনটনের এক জাদুঘরে রাখা বক্তব্যে এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, কেবল বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতেই নয় মিডওয়েস্টে বন্যা এবং গাল্ফ কোস্টে হারিকেনের সময়েও নিষ্ক্রিয় থেকেছেন ট্রাম্প। বাইডেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করায় ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরও চার বছর ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা বিপজ্জনক হবে বলেও মন্তব্য করেন জো বাইডেন। বলেন, ‘ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অস্বীকৃতি যদি আরও চার বছর চলতে থাকে তাহলে দাবানলে আর কতগুলো উপশহর পুড়ে যাবে? আর কতগুলো উপশহর এলাকা বন্যায় কবলিত হয়ে থাকবে? আর কতগুলো উপশহর মারাত্মক ঝড়ে উড়ে যাবে? আপনি যদি জলবায়ুতে অগ্নিসংযোগকারী কাউকে আরও চার বছর হোয়াইট হাউসে থাকতে দেন তাহলে যদি আমেরিকা আরও বেশি পুড়ে যায় তাহলে কেউ কেন বিস্মিত হবে?’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকাতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সংশয়ী হয়ে উঠেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। তাদের আশঙ্কাকে সত্যি করে ২০১৭ সালের জুনে বৈশ্বিক জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সমর্থন তুলে নেয়। প্যারিস চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে ট্রাম্পের যুক্তি-এটি মার্কিন স্বার্থবিরোধী।

২০১৮ সালের শুরুতে ব্রিটিশ আইটিভি নিউজের পিয়েরস মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের জলবায়ু পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা যা বলেন এবং পরিসংখ্যানে যা উঠে আসে তার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। ট্রাম্পের দাবি, পৃথিবী একইসঙ্গে উষ্ণ ও শীতল। মেরু অঞ্চলের বরফ গলার খবর সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ