কারাবাখে আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না: ফ্রান্স

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৩৬, অক্টোবর ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৩, অক্টোবর ০১, ২০২০

আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সংঘাতে এবার সরাসরি আর্মেনিয়ার পক্ষ নিলো ফ্রান্স। বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ইস্যুতে নিজ দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, নাগরনো-কারাবাখে আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেবে না ফ্রান্স। বুধবার ইউরোপের দেশ লাটভিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি তুরস্কের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো (আজারবাইজানের পক্ষে) লক্ষ করেছি, যেগুলোকে আমি বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করি।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, তুরস্কের যুদ্ধংদেহী বার্তা নিয়ে ফ্রান্স উদ্বিগ্ন। তারা নাগরনো-কারাবাখ ফের আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পক্ষপাতী। কিন্তু আমরা এটি মেনে নেবো না।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের দাবি, গত সপ্তাহে আজারবাইজান এই সংঘাতের সূচনা করেছে।

চলমান সংঘাত নিয়ে দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান ম্যাক্রোঁ। এ সময় তিনি উভয় পক্ষের প্রতি নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

এদিকে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতি চলমান সংঘাত পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে দুই দেশই এমন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, এই তীব্র শত্রুতার মুহূর্তে আলোচনার কথা বলা যথাযথ নয়।

কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ড হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। মূলত এ নিয়েই সংঘাতের সূত্রপাত। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে জানা গেছে। এরমধ্যেই বুধবার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নেতা আরায়িক হারুটুনিয়ান বলেছেন, ‌“আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।‌‌”

চলমান সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর্মেনিয়ার দাবি, এ সংঘাতে এরইমধ্যে প্রতিপক্ষের ১৩০ সেনা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক। বিপরীতে নিজ দেশের ১০৪ সেনা এবং ২৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে আর্মেনিয়া।

এদিকে নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলে বিদ্যমান লড়াইয়ে আর্মেনিয়ার দুই হাজার তিনশ’ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আজারবাইজান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিজেদের অঞ্চলে চালানো হামলা প্রতিহত করতে আজারবাইজান সেনাবাহিনীর পাল্টা হামলায় আর্মেনিয়ার এসব সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষের বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসেরও দাবি করেছে দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক দিনের সংঘাতে আর্মেনিয়ার প্রায় ১৩টি ট্যাংক ও সামরিক যান, দুই শতাধিক আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রায় ২৫টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ছয়টি কমান্ডান্ট ও অবজারভেশন পোস্ট, পাঁচটি অস্ত্র গুদাম, প্রায় ৫০টি ট্যাংক ধ্বংসকারী গান এবং ৫৫টি গাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে অবস্থিত হলেও ইয়েরেভান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৬ এবং এই বছরের শুরুতেও সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা।

/এমপি/এমওএফ/

লাইভ

টপ