শরণার্থী ইস্যুতে তুরস্ক-ইইউ সমঝোতা ‘ধোঁকাবাজি’: অ্যামনেস্টি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:২৯, মার্চ ১৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৯, মার্চ ১৯, ২০১৬

ইউরোপগামী অভিবাসীঅবশেষে তুরস্ককে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তার দেওয়ার বিনিময়ে ইউরোপে যাওয়া শরণার্থীদের দেশটিতে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে চুক্তিতে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আঙ্কারা।  শুক্রবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুর সঙ্গে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক-এর তিন দফার বৈঠকের পর এ সমঝোতার খবর নিশ্চিত করা হয়। রবিবার থেকে চুক্তিটি কার্যকর করার কথা রয়েছে। বিতর্কিত এই সমঝোতার  মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় নেতারা ধোঁকাবাজিকরছেন বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
গত বছর তুরস্ক থেকে ইজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ শরণার্থী গ্রিসে পৌঁছান এবং সেখান থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে জার্মানিতে পাড়ি জমান। আর তাই অভিবাসীদের ঢল ঠেকাতে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চুক্তির আওতায় যেসব অভিবাসন প্রত্যাশী গ্রিসে পৌঁছাবেন কিন্তু অভিবাসনের অনুমতি পাবেন না তাদেরকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যদিকে শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় ইইউ থেকে কোটি কোটি ইউরো অর্থ সহায়তা পাবে তুরস্ক। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোতে তুর্কি নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের অনুমতিও চাওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলুর সঙ্গে আলোচনার পর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ব্রাসেলস সম্মেলনে নেতারা ইইউ ভূক্ত ২৮টি দেশের কাছে প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি অনুমোদন করার সুপারিশ করলে নেতারা তাতে সম্মতি জানান। ডোনাল্ড টাস্ক চুক্তিটি সর্বসম্মতভাবে চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আগেই সম্মেলনের বৈঠক চলার মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী বহুস্লাভ সবৎকা টুইটে ঘোষণা দিয়ে জানান, ‘তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি অনুমোদন পেয়েছে। সমস্ত অবৈধ শরণার্থী যারা তুরস্ক হয়ে গ্রিসে পৌঁছেছে তাদের রবিবার (২০ মার্চ) থেকে ফিরে যাওয়া শুরু করতে হবে।

অভিবাসী

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী দাভুতোগলু।

চুক্তির আগে থেকেই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর বিরোধিতা করে আসছিল। আর শুক্রবার ইইউ-তুরস্কের সমঝোতার খবর প্রকাশের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির ইউরোপ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক জন ডালহুইসেন বলেন, ‘তুরস্ক শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ দেশ নয়।

তার মতে, আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় আইনকে সম্মান করার ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি অনেকটা সায়ানাইডকে চিনির প্রলেপে ঢেকে গিলে খেতে বাধ্য করার মতো ঘটনা। তিনি বলেন, ‘গ্রিক আইল্যাণ্ডে পৌঁছানো  শরণার্থীদের রবিবার থেকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ২৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে প্রতিবেশি দেশ তুরস্ক। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম ইউরোপ এতবড় অভিবাসী সংকটে পড়েছে। ২০১৫ সালে অন্তত ১০ লাখ শরণার্থী ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ