শিশু বিশেষজ্ঞদের পদায়ন এবং বিসিএস’র ব্যাচভিত্তিক জুনিয়র কনসালটেন্ট, সহকারী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালটেন্ট, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদে দ্রুত পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি (বিপিএ)। বুধবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানান শিশুদের চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা জানান, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১৮ বছরের কম প্রত্যেকেই শিশু। এর শতকরা সংখ্যা শতকরা ৪৫ ভাগ। তারা শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলা করে পরিণত হয়। বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা (পেডিয়াট্রিশিয়ান) এই শিশুদের স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য অংশীদার। তারা শিশুদের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং সুস্থ জীবনধারা প্রচারের কাজেও যুক্ত থাকেন। জরুরি চিকিৎসা সেবা ও জটিল রোগ নির্ণয়সহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকদের ভূমিকা অপরিহার্য, যা শিশুদের সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করে। ক্লিনিক্যাল দায়িত্বের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা চিকিৎসা শিক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তারা ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি ও গবেষণা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে জ্ঞান দেন।
স্মারকলিপিতে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, মেন্টরশিপ ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা পরবর্তী প্রজন্মের চিকিৎসকদের গঠন করতে এমবিবিএস, ডিসিএইচ, এমডি এবং এফসিপিএস কোর্সের শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শিক্ষা ও হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেন, যাতে তারা পরবর্তী সময়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে পারেন। জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু হলেও সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ শিশু রোগীর জন্য বরাদ্দ। ফলে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের অন্তবিভাগে শয্যা সংখ্যার কয়েকগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি থাকে, বহির্বিভাগেও থাকে উপচে পড়া ভিড়। জনবলের প্রকট ঘাটতি সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকেন।
চিকিৎসকরা জানান, ঢাকা তথা বাংলাদেশে কোনও সরকারি শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট নাই। বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য অবদানের পরও তারা চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। বৈষম্যবিরোধী সফল আন্দোলনের পর এ ধরনের বৈষম্যের অবসান জরুরি বলে আমরা মনে করি। দিন দিন শিশুরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও সে তুলনায় পর্যাপ্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। অপর্যাপ্ত পদ সংখ্যা, অনিয়মিত এবং ত্রুটিপূর্ণ পদোন্নতি প্রক্রিয়ার কারণে বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকরা কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না। সম্প্রতি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি যোগ্য সব কর্মকর্তাকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকরা দুটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো– বিসিএস’র ব্যাচ ভিত্তিক জুনিয়র কনসালটেন্ট, সহকারী অধ্যাপক, সিনিয়র কনসালটেন্ট, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদে দ্রুত পদোন্নতি; যোগ্য সবাইকে বিসিএস’র সিনিয়রিটি অনুসারে অনতিবিলম্বে কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি দেওয়া, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পদোন্নতি প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ শিশু চিকিৎসকদের ওএসডি হিসাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরে সংযুক্ত করে বা ইনসিটু পদায়ন করা এবং স্বল্পতম সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালের শিশু বিভাগে মেডিক্যাল অফিসার থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত নতুন পদ সৃষ্টি করা।
এছাড়া অন্যান্য ইনস্টিটিউটের মতো ঢাকায় একটি সরকারি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিকস’ স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তারা।









