X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

৪৬ বছর ধরে কালো পোশাক ও খালি পায়ে ইসহাক

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ২১:০০

কখনও রাজনীতি করেননি। ছিলেন না বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনও অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। তবুও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়েছিলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার কৃষক মো. ইসহাক শরীফ (৯২)। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কারণে হত্যার পর থেকে ৪৬ বছর ধরে কালো পোশাক ও খালি পায়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

জীবনের শেষ সময়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি চান ইসহাক। একইসঙ্গে জাতির পিতা কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট বগি ইউনিয়নের উত্তর চরপাড়া গ্রামে ১৯২৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম নেন মো. ইসহাক শরীফ। পারিবারিক নানা সমস্যার মধ্যেও ক্লাস ওয়ান পর্যন্ত পড়ালেখার সৌভাগ্য হয় তার। এরপর জীবন ও জীবিকার খোঁজে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। কখনও দিনমজুর, কখনও কৃষকের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার ৮ সন্তান। তাদের মধ্যে চার ছেলে ও চার মেয়ে। প্রত্যেককেই বিয়ে দিয়েছেন ও তাদের ঘরেও সন্তান রয়েছে।

ইসহাক শরীফ জানান, সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও মুক্তিযোদ্ধাদের যখন যেভাবে পেরেছেন সহযোগিতা করেছেন। যুদ্ধ চলাকালে বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতার ও এর পূর্ববর্তী সময় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, আদর্শ ও দেশপ্রেমে মুগ্ধ হন তিনি। মনের অজান্তেই এক অসীম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সৃষ্টি হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি। তাইতো তার কোনও কর্মসূচি থাকলেই সেখানে হাজির হতেন শুধু একপলক দেখার জন্য।

যুদ্ধ শেষে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। ইসহাক শরীফও বরগুনা থেকে ঢাকায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যার খবর শুনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে সেই সময় জান্তাদের ভয়ে চলে এসেছিলেন বরগুনায় তার গ্রামের বাড়িতে। এরপর থেকে কালো পোশাক ও খালি পায়ে কাটিয়ে দিয়েছেন ৪৬ বছর। 

ইসহাক শরীফ বঙ্গবন্ধুকে যে মাটিতে দাফন করা হয়েছে সেই মাটিতে জুতা পায়ে হাঁটলে তাকে অসম্মান করা হবে তাই জুতা ছাড়াই খালি পায়ে হাঁটছেন বলে জানান ইসহাক শরীফ।

৪৬ বছর ধরে কালো পোশাক ও খালি পায়ে হাঁটার বিষয়ে কথা বলতে তার গ্রামের বাড়িতে গেলে দেখা যায় বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন তিনি। ঠিকমতো চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে এখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা উঠলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।

ইসহাক শরীফ বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের অনুসারী। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর শুনে আমি ধানমন্ডির বাসায় গেলেও মিলিটারিদের ভয়ে ভেতরে ঢুকতে পারিনি। তখন অনেককেই বলতে শুনেছি বঙ্গবন্ধুর অনুসারী আছে কারা তাদেরকেও হত্যা করা হবে। সেই সময় আমি বরগুনায় ফিরে আসি, কিন্তু তার মৃত্যু আমাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে মারছিল। তাই আমি পণ করি তার হত্যাকারীদের বিচার হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি আমৃত্যু কালো পোশাক ও খালি পায়ে থাকবো।

৪৬ বছর ধরে কালো পোশাক ও খালি পায়ে ইসহাক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সন্তোষ জানিয়েছেন ইসহাক, বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, সবার বিচার শেষ হলে আমি শান্তি পাবো। একটা মানুষ তার জীবনের সবটুকু দিয়ে এদেশের জনগণকে ভালোবেসে গেছেন। আর ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে তাকেই হত্যা করেছে নরপশুরা। তাই তাদের শাস্তি ছাড়া আর কোনও কিছুই প্রত্যাশা করি না।

শেষ বয়সে কোনও ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কোন ইচ্ছা নেই। তবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যদি মরার আগে দেখা করতে পারতাম তাহলে শান্তিতে মরতে পারতাম।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছোট বগি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, সারা বিশ্বে কিছু মুজিব পাগল লোক আছে। তাদের একজন ইসহাক শরীফ। ইসহাক শরীফ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কলঙ্কিত ঘটনার পর থেকে কালো পোশাক পরে খালি পায়ে আছেন। তার একটাই চাওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন কিছু দুষ্কৃতিকারীর শাস্তি হলেও তিনি তাতে সন্তুষ্ট নন। তার দাবি বঙ্গবন্ধু হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত সবার যেন বিচার হয়।

/টিটি/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সাপের বিষ থেকে বাঁচতে ট্যাবলেট, কলকাতায় মিলছে সাফল্য
সাপের বিষ থেকে বাঁচতে ট্যাবলেট, কলকাতায় মিলছে সাফল্য
ষষ্ঠ ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
ষষ্ঠ ওয়ালটন প্রেসিডেন্ট কাপ গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ
সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
সুন্দরবনে মাছ ধরা ও পর্যটক প্রবেশে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা
পশ্চিমা নীতির কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: পুতিন
পশ্চিমা নীতির কারণেই বৈশ্বিক খাদ্য সংকট: পুতিন
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত