সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক মাধ্যমে কী করতে পারবেন, কী পারবেন না

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৮আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪৮

সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, বিচার বিভাগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনও কার্যক্রমে জড়ানো যাবে না।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ব্লগসহ যেকোনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী, সাম্প্রদায়িক, বিদ্বেষমূলক, অশালীন, উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, ছবি, ভিডিও কিংবা অন্য কোনও কনটেন্ট প্রকাশ বা শেয়ার করতে পারবেন না। এমনকি অন্য কারও এ ধরনের পোস্টে সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়া দেওয়া বা প্রচারেও অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

নীতিমালায় সরকারি কর্মচারীদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, কৌশলগত পরিকল্পনা, সরকারি নথি, দাফতরিক তথ্য, অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনও সরকারি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না।

এছাড়া বিচারাধীন মামলা নিয়ে এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা সম্প্রদায় নিয়ে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে—এমন বক্তব্য, গুজব, অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য প্রচার থেকেও সরকারি কর্মচারীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রচারণা বা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না, যা সরকারি কর্মচারীর নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সেটি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে প্রতীয়মান না হয়।

কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানহানিকর, অসত্য বা ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রকাশ, অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া প্রকাশ, কপিরাইট লঙ্ঘন, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার বা ভুয়া তথ্য প্রচারও নির্দেশিকার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য, দুর্যোগকালীন সতর্কতা, জরুরি ঘোষণা, নাগরিক সেবা এবং জনসচেতনতামূলক তথ্য প্রচারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, তথ্য যাচাই করে প্রকাশ এবং নিয়মিত তদারকির কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও সরকারি চাকরির আচরণবিধি, গোপনীয়তা রক্ষা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার বাইরে যেতে পারবেন না। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের আওতায় বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে হবে এবং নাগরিকদের প্রশ্ন, অভিযোগ বা মতামতের যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাসম্ভব দ্রুত এবং ভদ্রভাবে সাড়া দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকাশিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা, বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য দ্রুত সংশোধন করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত তদারকি করা এবং অননুমোদিত প্রবেশ বা অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

যা এড়িয়ে যেতে হবে

নির্দেশিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বিষয় পরিহার করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র, সরকার বা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন তথ্য বা মন্তব্য প্রকাশ; গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রচার; সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা বা বিদ্বেষ উসকে দেয়—এমন কনটেন্ট প্রকাশ; আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে অনভিপ্রেত মন্তব্য; রাষ্ট্রের গোপনীয় বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ; কপিরাইট লঙ্ঘন; অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করা; অশালীন, মানহানিকর বা আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার; ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থে অপব্যবহার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এসব বিষয় এড়িয়ে দায়িত্বশীল ও শালীন আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

/এসএমএ/
আজ আবেদনের শেষ দিন যে সকল চাকরির
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
১৬ গোল হজমের পর বাটলার বললেন, ‘আরও সময় ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন’
১৬ গোল হজমের পর বাটলার বললেন, ‘আরও সময় ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োজন’
০৬:৩১ পিএম
আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ নিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের ব্যাখ্যা
আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ নিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের ব্যাখ্যা
০৬:২৬ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসে সিট দখল বন্ধে নতুন সিদ্ধান্ত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসে সিট দখল বন্ধে নতুন সিদ্ধান্ত
০৬:১৭ পিএম
১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান?
১৬ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান?
০৬:১২ পিএম
চাকরি বিভাগের সর্বশেষ
নগদে নিয়োগ, সপ্তাহে দুই দিন ছুটির সুযোগ
নগদে নিয়োগ, সপ্তাহে দুই দিন ছুটির সুযোগ
প্রতিষ্ঠানের সংকট সামলানোও হতে পারে ক্যারিয়ার
প্রতিষ্ঠানের সংকট সামলানোও হতে পারে ক্যারিয়ার
অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ১ অক্টোবর
অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ১ অক্টোবর
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৯ পদে নিয়োগ
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৯ পদে নিয়োগ
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ১০৬ জনের নিয়োগ
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ১০৬ জনের নিয়োগ