মেঘনার পাড়ে হারিয়ে যেতে বসা ইতিহাস, উলানিয়া জমিদারবাড়িতে একদিন

ফিচার ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৬আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৩৬

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া নামটি হয়তো দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর তালিকায় খুব বেশি শোনা যায় না। অথচ মেঘনার পাড়ঘেঁষা এই জনপদে ছড়িয়ে আছে জমিদারি আমলের নানা স্মৃতি। পুরোনো জমিদারবাড়ি, মসজিদ ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনা মিলিয়ে উলানিয়া যেন নদীভাঙন আর ইতিহাসের পাশাপাশি চলতে থাকা এক জনপদের গল্প।

উলানিয়ার অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি। একসময় এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে জমিদার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ছিল। সেই সময়ের স্থাপত্য, বসতবাড়ি ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর কিছু স্মৃতি এখনও এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে অনেক স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়েছে। সবচেয়ে বড় হুমকি এসেছে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে। নদীর গতিপথ ও ভাঙনের কারণে উলানিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর অস্তিত্ব নিয়েও বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উলানিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্ব শুধু জমিদারবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়। এলাকায় রয়েছে পুরোনো মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা, যেগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস ও মানুষের দীর্ঘদিনের বসবাসের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যে পুরোনো সময়ের নির্মাণরীতি ও স্থানীয় সংস্কৃতির ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়। ফলে উলানিয়ায় ঘুরতে গেলে শুধু একটি বাড়ি দেখার বদলে পুরো এলাকাটিকে একটি ঐতিহাসিক জনপদ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে।

উলানিয়ার ইতিহাস বোঝার জন্য মেঘনা নদীকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। নদী যেমন এই জনপদের জীবন ও জীবিকার অংশ, তেমনি এর ভাঙন বহু পুরোনো স্থাপনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন দেখা যায় বিশাল মেঘনার জলরাশি, অন্যদিকে চোখে পড়ে নদীভাঙনে বদলে যাওয়া জনপদের চিত্র। ইতিহাস আর প্রকৃতির এই পাশাপাশি অবস্থানই উলানিয়ার ভ্রমণকে অন্য রকম করে তোলে।

ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া যাওয়া যায়। বরিশাল থেকে সড়ক ও নৌপথের সমন্বয়ে মেহেন্দিগঞ্জে পৌঁছে স্থানীয় যানবাহনে উলানিয়া যাওয়া সম্ভব। নদীপথের যাত্রা বেছে নিলে মেঘনা ও আশপাশের নদীবেষ্টিত জনপদের দৃশ্যও উপভোগ করা যায়।

তবে যাওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে নদীপথ, নৌযান ও রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো। বর্ষা ও নদীভাঙনের সময়ে যাতায়াতের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।

উলানিয়া মূলত একটি ঐতিহাসিক জনপদ, আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র নয়। তাই এখানে ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় খাবার, পানি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জিনিস সঙ্গে রাখা ভালো। পুরোনো স্থাপনায় ওঠানামা বা প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ঐতিহাসিক স্থাপনার দেয়াল, ইট বা কোনো নিদর্শন স্পর্শ করে ক্ষতি করা কিংবা সেখান থেকে কিছু তুলে নেওয়া উচিত নয়। নদীর কাছাকাছি গেলে নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

উলানিয়া তাই শুধু একটি পুরোনো জমিদারবাড়ি দেখার জায়গা নয়। মেঘনার পাড়ে দাঁড়িয়ে এখানে একসঙ্গে দেখা যায় জমিদারি আমলের স্মৃতি, পুরোনো স্থাপত্য, স্থানীয় জনজীবন আর নদীর নিরন্তর পরিবর্তন। হারিয়ে যেতে বসা এই ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখতে চাইলে বরিশালের ভ্রমণ তালিকায় উলানিয়াকে রাখা যেতে পারে।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানল, বদলে যাচ্ছে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা
তাম্বুলখানা থেকে গোবিন্দপুর, পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতির পথে ভ্রমণ
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক
সর্বশেষ খবর
বাসের দরজায় গলা আটকে গুজরাটে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু
বাসের দরজায় গলা আটকে গুজরাটে ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, কী কী সুবিধা পান
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, কী কী সুবিধা পান
ঢামেকের পাশ থেকে ১ জনের মরদেহ উদ্ধার
ঢামেকের পাশ থেকে ১ জনের মরদেহ উদ্ধার
২৫ বছর পর মায়ের কাছে ফরিদ, ভাই বললেন ‘এতদিন মৃত ভেবেছিলাম’
২৫ বছর পর মায়ের কাছে ফরিদ, ভাই বললেন ‘এতদিন মৃত ভেবেছিলাম’
সর্বাধিক পঠিত
মধ্যরাতে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন পোস্ট, কমেন্টে যা লিখলেন সারজিস 
মধ্যরাতে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন পোস্ট, কমেন্টে যা লিখলেন সারজিস 
এক গ্রাহকের ব্যাংকের ৭ লাখ টাকা ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে কীভাবে পাঠালেন চীনা নাগরিক
এক গ্রাহকের ব্যাংকের ৭ লাখ টাকা ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে কীভাবে পাঠালেন চীনা নাগরিক
মধ্যরাতে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
মধ্যরাতে মির্জা ফখরুলের আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট
চুল ও শেভের বিল আড়াই হাজার টাকা, সেলুনে অভিযান চালিয়ে জরিমানা
চুল ও শেভের বিল আড়াই হাজার টাকা, সেলুনে অভিযান চালিয়ে জরিমানা
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার, পরদিনই ডিসি-ইউএনও বদলি, কী ঘটেছিল সেদিন
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার, পরদিনই ডিসি-ইউএনও বদলি, কী ঘটেছিল সেদিন