স্বল্পমেয়াদি বিশেষায়িত কাজের জন্য বিদেশি পেশাজীবীদের নতুন ইলেকট্রনিক প্রো-ভি-৯০ মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা চালু করেছে ভেনেজুয়েলা। বৈশ্বিক অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের এক ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট অনুযায়ী, নতুন এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় অবস্থান করতে পারবেন।
এই ভিসা মূলত এমন পেশাজীবীদের জন্য, যারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন অথবা ভেনেজুয়েলার বাইরের কোনও প্রতিষ্ঠানের হয়ে দেশটিতে গিয়ে স্থানীয় ক্লায়েন্টদের হয়ে স্বল্পমেয়াদি বিশেষায়িত সেবা দেন। অর্থাৎ, ভেনেজুয়েলার কোনও প্রতিষ্ঠানে সরাসরি চাকরিতে যোগ না দিয়েও নির্দিষ্ট পেশাগত কাজের জন্য দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
বাংলাদেশি পেশাজীবী, পরামর্শক এবং দেশের কোনও প্রতিষ্ঠানের হয়ে সাময়িক কাজের জন্য ভেনেজুয়েলা যেতে হয়, এমন কর্মীদের জন্যও নতুন এই ভিসা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। বিশেষ করে যাদের স্বল্পমেয়াদি পেশাগত কাজের জন্য দেশটিতে যেতে হয়, কিন্তু সেখানে কোনও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের অধীনে চাকরি করার প্রয়োজন নেই, তারা এই ভিসার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
প্রো-ভি-৯০ ভিসা কী?
প্রো-ভি-৯০ ভিসা এমন বিদেশি নাগরিকদের জন্য, যারা ভেনেজুয়েলায় নির্দিষ্ট ধরনের পেশাগত কাজে অংশ নেবেন, কিন্তু দেশটির কোনও প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি করবেন না।
এই ভিসার আওতায় প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরিচালনাগত সহায়তা, বক্তব্য বা বক্তৃতা প্রদান, সাংবাদিকতা এবং বিনিয়োগ তদারকিসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত পেশাগত কাজ করা যেতে পারে।
উদাহরণ হিসাবে, বাংলাদেশে কোনও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন পেশাজীবী ভেনেজুয়েলার কোনও ক্লায়েন্টকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য দেশটিতে যেতে পারেন। তবে এ ধরনের সফর এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা প্রো-ভি-৯০ ভিসার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
এই ভিসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যে বিদেশি পেশাজীবীকে ভেনেজুয়েলার কোনও প্রতিষ্ঠান আমন্ত্রণ জানাচ্ছে, তার সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক চাকরির সম্পর্ক থাকা যাবে না। একইভাবে, ভেনেজুয়েলার আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ওই পেশাজীবীকে চাকরিসংক্রান্ত কোনও বেতন, পারিশ্রমিক বা অন্যান্য কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থ দিতে পারবে না। অর্থাৎ, কাজের সম্পর্ক ও পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে তা ভেনেজুয়েলার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি চাকরির আওতায় না পড়ে।
বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের মধ্যে যারা দেশের কোনও প্রতিষ্ঠানের হয়ে স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য ভেনেজুয়েলা যেতে চান, তাদের জন্য প্রো-ভি-৯০ ভিসা একটি সম্ভাব্য পথ হতে পারে। স্বাধীনভাবে বিশেষায়িত পেশাগত সেবা দেওয়া ব্যক্তিরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে এই ভিসার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।
তবে নতুন এই ভিসা ভেনেজুয়েলার অন্যান্য কর্মসংস্থান বা কাজের ভিসার স্বয়ংক্রিয় বিকল্প নয়। তাই বাংলাদেশি কোনও পেশাজীবী ভেনেজুয়েলায় যাওয়ার আগে তিনি কী ধরনের কাজ করবেন, কার হয়ে কাজ করবেন এবং তার পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা কীভাবে হবে এসব বিষয়ের সঙ্গে ভিসার শর্ত মিলিয়ে দেখা জরুরি।
প্রো-ভি-৯০ ভিসার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলায় থাকা যাবে। নির্ধারিত ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হলে বিদেশি নাগরিককে দেশ ছাড়তে হবে। পরবর্তী সময়ে আবার ভেনেজুয়েলায় যেতে হলে নতুন করে ভিসার আবেদন করতে হবে।
অনলাইনে করা যাবে আবেদন
প্রো-ভি-৯০ ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে করা যায়। আবেদনকারীরা ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
ফ্র্যাগোমেনের তথ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত দুই থেকে ১০ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে। ভিসার আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীর ই-মেইলে অনুমোদনপত্র পাঠানো হবে। এজন্য ভেনেজুয়েলার কোনও কনস্যুলেটে গিয়ে পাসপোর্টে শারীরিক ভিসা স্ট্যাম্প সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। ই-মেইলে পাওয়া অনুমোদনপত্র আবেদনকারী প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন।
যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
প্রো-ভি-৯০ ভিসার জন্য আবেদনকারীদের বেশ কিছু নথি জমা দিতে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণপত্র।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবেদন বা অনুরোধপত্র এবং কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটও জমা দিতে হতে পারে।
তবে আবেদনকারীর পেশা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে আবেদন করার আগে ভেনেজুয়েলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। প্রো-ভি-৯০ ভিসার নির্দিষ্ট নথির তালিকা ও আবেদন প্রক্রিয়া সরকারি নির্দেশিকায় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্য তাই ভিসার আবেদন করার আগে ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য কাজ, আমন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা—সবকিছু নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভুল ভিসা শ্রেণিতে আবেদন করার ঝুঁকি কমবে এবং ভ্রমণের প্রস্তুতিও সহজ হবে।









