শীতের ছুটিতে বরফে ঢাকা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে ট্রেনে সফরের স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। এমন অভিজ্ঞতার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ভারতের কাশ্মীর উপত্যকাতেই রয়েছে এমন এক রেলপথ, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অনেকেই সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করেন। শীতকালে পাহাড়, গাছপালা থেকে শুরু করে উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যায় বরফের চাদরে। সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে ট্রেনে সফর করার অভিজ্ঞতাই আলাদা।
কাশ্মীরের রেলপথে যাত্রা করলে চোখে পড়বে বরফে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল, উপত্যকার ছোট ছোট জনবসতি এবং শীতের মনোরম প্রকৃতি। ট্রেন এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে চারপাশের দৃশ্য। সমাজমাধ্যমেও এই রেলপথের একাধিক ভিডিয়ো পর্যটকদের নজর কেড়েছে। অনেকেই কাশ্মীরের শীতকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাগর চৌরাসিয়া ইনস্টাগ্রামে এমনই একটি ভিডিও ভাগ করে নিয়েছেন। সেখানে কাশ্মীরের রেলপথের দু’পাশের বরফে ঢাকা মনোরম দৃশ্য দেখা গিয়েছে।
কোথা থেকে ট্রেনে উঠবেন?
কাশ্মীর উপত্যকার রেলপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বানিহাল। এই স্টেশন থেকে শ্রীনগরসহ উপত্যকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার ট্রেন পাওয়া যায়। রেল পরিষেবা অনুযায়ী বাডগাম ও বারামুল্লার দিকেও যাওয়া সম্ভব।
কোন সময়ে গেলে বরফ দেখতে পাবেন?
কাশ্মীরের বরফে ঢাকা রূপ দেখতে চাইলে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশেষ করে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তুষারপাতের কারণে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা সাদা চাদরে ঢাকা থাকে। তবে আবহাওয়া ও তুষারপাতের উপর বরফ দেখার অভিজ্ঞতা নির্ভর করে।
সকালের দিকে ট্রেনে সফর করলে দিনের আলোয় পাহাড় ও উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ বেশি। বিশেষ করে বানিহাল সংলগ্ন রেলপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
যারা প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালবাসেন, কিংবা শীতের ছুটিতে একটু অন্য রকম অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য কাশ্মীরের এই ট্রেন সফর হতে পারে আকর্ষণীয়। বরফে ঢাকা পাহাড়ের বুক চিরে ট্রেনের জানালা দিয়ে উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।