পাহাড়ের কোলে কাঠের তৈরি এক নান্দনিক ক্যাফে, চারপাশে সবুজ উপত্যকা আর জানালার ওপারে মেঘের আনাগোনা নেটফ্লিক্সের পর্দায় দেখা ‘মুসাফির ক্যাফে’ এখন বাস্তবের ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। সিরিজে দেখানো এই মনোরম জায়গাটি দেখতে এবং সেখানে এক রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা নিতে পর্যটকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ।
তবে এটি কোনও সিনেমার সেট নয়। উত্তরাখণ্ডের মুসৌরীর ঝরীপানি এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ঝরীপানি ক্যাসল-কেই সিরিজে ‘মুসাফির ক্যাফে’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বর্তমানে এটি একটি বিলাসবহুল বুটিক হোমস্টে, যেখানে সীমিত সংখ্যক কক্ষে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
পর্দার ক্যাফে থেকে বাস্তবের পাহাড়ি ঠিকানা
দিব্য প্রকাশ দুবের জনপ্রিয় হিন্দি উপন্যাস ‘মুসাফির ক্যাফে’ অবলম্বনে তৈরি সিরিজে পাহাড়ি পরিবেশে ক্যাফেটির উপস্থাপন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। কাঠের তৈরি স্থাপত্য, কাচের দেয়াল, খোলা ছাদ এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে অনেকেই এখন ‘সেট-জেটিং’-এর অংশ হিসেবে এই জায়গায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
মুসাফির ক্যাফে খুঁজতে গেলে অবশ্য ‘ঝরীপানি ক্যাসল’ নামেই খোঁজ করতে হবে। মুসৌরীর মল রোড থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে, দুন উপত্যকার পাশে অবস্থিত এই স্থাপনাটির রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
একসময় এটি ছিল ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাদের থাকার গেস্ট হাউস। স্বাধীনতার পর এটি পটিয়ালা রাজপরিবারের গ্রীষ্মকালীন আবাস ‘পটিয়ালা হাউস’ হিসেবে পরিচিত হয়। বর্তমানে এটি রিসোর্টে রূপান্তরিত হলেও এর পুরোনো ঐতিহ্য অনেকটাই ধরে রাখা হয়েছে।
কাঠের কটেজে পাহাড়ি থাকার অভিজ্ঞতা
রিসোর্টটির অন্যতম আকর্ষণ হলো লগ হাট ও ডিলাক্স লগ হাট। কাঠের তৈরি কুটিরের মতো এই ঘরগুলো পর্যটকদের দেয় পাহাড়ি গ্রামের ঘরে থাকার বিশেষ অনুভূতি।
সাধারণ লগ হাটে থাকার খরচ সময় ও মরসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। আনুমানিকভাবে প্রতি রাতে দুইজনের জন্য ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। সপ্তাহান্তে খরচ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
ডিলাক্স লগ হাটে রয়েছে আরও উন্নত অন্দরসজ্জা ও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা। এখানে এক রাতের জন্য দুইজনের ঘরের ভাড়া প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ভিক্টোরিয়ান সাজে ভ্যালি ভিউ ঘর
যারা ইতিহাস ও রাজকীয় আবহ পছন্দ করেন, তাদের জন্য রয়েছে ভ্যালি ভিউ ডিলাক্স রুম। ঘরের সাজসজ্জায় রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের ছোঁয়া। ১৯ শতকের ভিক্টোরিয়ান পেইন্টিং, পুরোনো মুসৌরীর ছবি, কাঠের মেঝে ও কাশ্মীরি কার্পেট ঘরগুলোকে দিয়েছে আলাদা আকর্ষণ।
এই ঘর থেকে দুন উপত্যকার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এখানে এক রাত থাকার খরচ প্রায় ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা।
কাচের দেয়ালঘেরা বিলাসী স্যুট
আরও বিলাসী অভিজ্ঞতা চাইলে রয়েছে স্যান্টোরিনি ডিলাক্স ও জাকুজি স্যুট। কাচের দেয়ালঘেরা এই ঘরগুলো থেকে পাহাড় ও উপত্যকার দৃশ্য আরও কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও আকর্ষণীয় অন্দরসজ্জার কারণে এই ঘরগুলোর ভাড়াও বেশি। প্রতি রাতের খরচ শুরু প্রায় ২৫ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকা থেকে। দুই রাত থাকলে করসহ মোট খরচ ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
কেন এত জনপ্রিয় মুসাফির ক্যাফে
পাহাড়ি সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং সিনেমার পর্দায় দেখা পরিচিত আবহ এই তিনের মিলনেই মুসাফির ক্যাফে এখন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের নতুন কেন্দ্র। ব্যস্ত শহুরে জীবন থেকে দূরে, মেঘ-ঢাকা পাহাড়ের মাঝে কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে মুসৌরীর এই ঠিকানা হতে পারে ভ্রমণপিপাসুদের নতুন গন্তব্য।









