ছোট্ট ছুটি, কিন্তু মন চাইছে শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে প্রকৃতির কাছে হারিয়ে যেতে? তাহলে গন্তব্য হতে পারে প্রতিবেশী দেশ ভারতের ওড়িশার এক শান্ত-সুন্দর জায়গা অংশুপা হ্রদ। কটক শহর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঠিকানা ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করার জন্য একেবারে উপযুক্ত।
পরপর তিন দিনের ছুটি মিললেই পরিকল্পনা করা যায় ছোট্ট এক ভ্রমণের। বৃহস্পতিবার রাতেই রওনা দিলে শুক্রবার ভোরে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব অংশুপায়। কলকাতা থেকে কটকের দূরত্ব প্রায় ৪২০ কিলোমিটার। সেখান থেকে আরও প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পেরোলেই পৌঁছে যাবেন এই নিরিবিলি হ্রদের কাছে।
পাহাড়ের কোলে ঘোড়ার খুরের মতো হ্রদ
মহানদীর তীরে বাঁকি ব্লকের কাছে অবস্থিত অংশুপা একটি বিশাল মিঠা পানির হ্রদ। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে শান্ত জলরাশি, এই প্রাকৃতিক মেলবন্ধনই জায়গাটির মূল আকর্ষণ।
অংশুপা নামের উৎপত্তি নিয়েও রয়েছে নানা মত। কারও মতে, হ্রদের আকৃতি ঘোড়ার খুরের মতো বলেই এর নাম হয়েছে। আবার কেউ বলেন, হ্রদের পানিতে ফুটে থাকা পদ্ম এবং সূর্যের আলোয় পানির ঝিকিমিকি প্রতিফলন থেকেই এসেছে এই নাম। কারণ যাই হোক, এখানকার শান্ত পরিবেশ যে কোনও ভ্রমণপ্রেমীর মন ভালো করে দিতে পারে।
নির্জনতায় ভরা প্রকৃতির রাজ্য
কটক থেকে রাজ্য সড়ক ধরে আতাগড় হয়ে পৌঁছানো যায় অংশুপায়। হ্রদের পশ্চিম দিকে রয়েছে সারান্ডা পাহাড়, আর উত্তর-পূর্ব দিকে বিষ্ণুপুর পাহাড়। সারান্ডা পাহাড়ের গায়েই রয়েছে একটি পুরোনো দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, যা এলাকার ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।
ভোরের আলো কিংবা সূর্যাস্তের সময় অংশুপার সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। হ্রদে রয়েছে নৌবিহারের সুযোগ। নৌকায় ভেসে চারপাশের পাহাড় ও সবুজের দৃশ্য দেখা হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
হেঁটে ঘুরে দেখা যায় হ্রদের আশপাশের এলাকা। শীতকালে পরিযায়ী পাখির আনাগোনায় আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অংশুপা। জলের ওপর ফুটে থাকা পদ্মও বাড়িয়ে দেয় এই জায়গার সৌন্দর্য।
ছোট ছুটিতে বড় প্রশান্তি
অংশুপা এমন কোনো জায়গা নয়, যেখানে সারাদিন দৌড়ে বেড়াতে হবে। বরং এখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য হলো কিছুটা ধীর হওয়া, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করা।
ফেরার পথে কটক শহর ঘুরে নেওয়া যায়। দেখে নিতে পারেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত জাদুঘর, কটকচণ্ডী মন্দিরসহ শহরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান।
কোথায় থাকবেন
অংশুপা হ্রদের কাছেই রয়েছে ওড়িশা সরকারের অতিথি নিবাস। গাছপালায় ঘেরা শান্ত পরিবেশে থাকার জন্য এটি ভালো একটি বিকল্প।
কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে সড়কপথে কটক হয়ে অংশুপা যাওয়া যায়। ট্রেনেও কটক পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যাওয়া সম্ভব। দ্রুত যেতে চাইলে ভোরের বন্দে ভারত ট্রেনে কটক পৌঁছে বাকি পথ গাড়িতে পাড়ি দিতে পারেন।
তিন দিনের ছোট্ট ছুটিতে পাহাড়, হ্রদ আর নির্জন প্রকৃতির স্বাদ নিতে চাইলে ওড়িশার অংশুপা হতে পারে এক অনায়াস সুন্দর গন্তব্য।









