জোছনা উৎসব ও বরগুনার শুভসন্ধ্যা সৈকত

Send
সুমন সিকদার, বরগুনা
প্রকাশিত : ১৯:৪০, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫০, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকরাএকদিকে সীমাহীন সাগর, অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট টেংরাগিড়ি। আরেকদিকে ঝাউবনের সবুজ সমীরণ ও তিন নদীর বিশাল জলমোহনা। সাগরের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঝাউগাছগুলো। দক্ষিণে অথৈ সাগরের ঢেউ আর ঢেউয়ের সঙ্গে দোল খেতে থাকা মাছ ধরার ট্রলার ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না।

দখিনা হাওয়া পরম আবেশে ঝাউবনকে ছুঁয়ে যায়। খোলা বাতাসের ছোঁয়ায় উড়তে থাকা চুলের মতো দোলে ঝাউগাছ। জন্ম থেকেই সাগরের হাওয়া গায়ে মেখে বেড়ে ওঠে এগুলো। সমুদ্রের আছড়ে পড়া ঢেউ ও ঝাউগাছের মাঝখানে শূন্য বালুরাশি। সব মিলিয়ে শুভসন্ধ্যা সৈকত যেন নদ-নদী ও বন-বনানীর অপরূপ সমাহার। এটি মূলত বরগুনার প্রধান তিন নদী পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বরের মোহনায় জেগে ওঠা চর। তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের স্নিগ্ধ বেলাভূমিতে এর অবস্থান।

দৃষ্টিনন্দন এই সৈকতে বৃহস্পতিবার পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ জোছনা উৎসব। ত্রিমোহনার রূপালি জলরাশি ঘেঁষে বিস্তীর্ণ সৈকতে বসে হৈমন্তী পূর্ণিমা উপভোগ করবেন হাজারও প্রকৃতিপ্রেমী। জোছনাবিলাসীদের জন্য রয়েছে গান, কবিতা, পুঁথি, পুতুলনাচ, জাদু প্রদর্শনী, যাত্রাপালা, হয়লা গান, নৃত্য, ফানুস ওড়ানো। জলজোছনায় একাকার হবেন সবাই। মুজিববর্ষ উপলক্ষ এর আয়োজন করেছে বরগুনা জেলা প্রশাসক। পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময় বরগুনার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে শুভসন্ধ্যা সৈকতে শুরু হয়েছে বাহারি পণ্যের পসরা সাজানোর প্রস্তুতি। সাগরপাড়ে সবুজের সমারোহে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও পাখির কলতান দেখা যাবে। ঢেউয়ে পা ভিজিয়ে স্নিগ্ধ হাওয়ায় গোধূলি সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত বেশ উপভোগ্য।

শুভসন্ধ্যার পাশেই আশার চর। অসংখ্য মৎস্যজীবীর বসবাস এখানে। শীত মৌসুমে পর্যটকরা বেড়াতে আসেন এখানে। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, গভীর অরণ্য, বিশাল শুঁটকিপল্লী আছে আশার চরে। শুঁটকি উৎপাদনের জন্য চরটিতে বসতি স্থাপন করেন দেশের বিভিন্ন জায়গার মানুষ। বছরে সাত-আট মাস থাকে শুঁটকি উৎপাদনের ব্যস্ততা।

আশার চরের কাছেই তালতলীর বিশাল রাখাইন পল্লী। বঙ্গোপসাগরের তীরে এখানে কূপিবাতি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁতে কাপড় বোনার কাজ। তাঁতশিল্প ছাড়াও রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

আশার চরের শুঁটকি পল্লী, টেংরাগিড়ি ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, সোনাকাটা ইকোপার্কের হরিণসহ বন্যপ্রাণী ইত্যাদি দেখার পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের কর্মব্যস্ততা এবং সৈকতে স্থানীয় শিশুদের উচ্ছ্বাস দৃষ্টিনন্দন।

ফকিরহাট বাজারের ছোট ছোট খাবারের হোটেলগুলোতে নদী ও সমুদ্রের তাজা মাছ পাওয়া যায়। এখানে রয়েছে মাছ, ভাত ও স্থানীয় সব খাবার। খাবার ও মাছের দাম তুলনামূলক সস্তা।

শুভসন্ধ্যা সৈকতে পর্যটকরাযেভাবে যাবেন
বরগুনা থেকে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকতে যেতে সময় লাগে কমবেশি আড়াই ঘণ্টা। বরগুনার নদী বন্দর (লঞ্চঘাট) ও আমতলী লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ে। লঞ্চে কেবিন না পেলে সঙ্গে মাদুর ও বিছানার চাদর রাখলে ভালো। কেবিন ভাড়া ১২০০ টাকা (সিঙ্গেল), ২০০০ টাকা (ডাবল), ডেক ৩০০ টাকা (আসা-যাওয়া)।

সড়কপথে বাসে গোলবুনিয়া, চালতাতলী, লতাকাটা হয়ে ট্রলারযোগে তালতলী যেতে হবে। এরপর তালতলী থেকে মোটরসাইকেলে শুভসন্ধ্যা সৈকত যাওয়ার ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা। পটুয়াখালী থেকে বাসে সরাসরি তালতলী (ভাড়া ১৫০ টাকা)। বরিশালের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে সরাসরি তালতলী (ভাড়া ২০০ টাকা)।

ঢাকার ভ্রমণপ্রেমীরা গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি বরগুনার উদ্দেশে সকাল-বিকাল বাস পাবেন। ভাড়া ৬০০-৭০০ টাকা। এছাড়া ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন বিকাল ৫টা ও সন্ধ্যা ৬টায় দুটি দোতলা লঞ্চ ছাড়ে। ভাড়া ডেক ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১২০০ টাকা ও ডাবল কেবিন ২২০০ টাকা।

/জেএইচ/
টপ