ট্রাভেলগবো-কাপ পুরোটাই যেন স্বাধীনতার রঙ

Send
মহীন রীয়াদ
প্রকাশিত : ২০:৩২, জুলাই ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, জুলাই ১৯, ২০২০

বো-কাপ (ছবি-স্কাই পিক্সেল)দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের সিগন্যাল নামক পাহাড়ের ঢালে অসমতল এলাকায় বিস্তৃত কেপ-মালয় সংস্কৃতির ঐতিহাসিক স্থান ‘বো-কাপ’। আফ্রিকান শব্দটির অর্থ ‘অন্তরীপের ওপরে’। একসময় এই জায়গা মালয় কোয়ার্টার নামে পরিচিত ছিল। হরেক রঙের ভবন ও খোয়া পাথরের দৃষ্টিনন্দন রাস্তার জন্য জনবহুল স্থানটি বিখ্যাত। এখানে রয়েছে ২৬০ বছরের নিদর্শন ও সমৃদ্ধ ইতিহাস।

কেপটাউন সিটি সেন্টার ও ডি ওয়াটারকান্ট থেকে পাঁচ-দশ মিনিট এবং ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলফ্রেড ওয়াটারফ্রন্ট থেকে কুড়ি মিনিটের হাঁটা দূরত্বে বো-কাপের ওয়াল স্ট্রিট। এখানকার সপ্তদশ শতকের গোলাপি, কমলা, চুন-সবুজ, বেগুনি, ফিরোজা, হলুদ, বাদামি, নীলসহ সারিবদ্ধ রঙিন ভবন যেকোনও আলোকচিত্রীর জন্য অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থান, ইসলামি তীর্থস্থান, প্রথম মসজিদ, খাদ্যরস ও কারুশিল্পের বাজার এবং সুস্বাদু কেপ-মালয় রন্ধনশৈলী উপভোগের জন্য বো-কাপের জুড়ি নেই।
ওয়াল স্ট্রিটের দৃশ্য (ছবি: মহীন রীয়াদ)ওলন্দাজ ঔপনিবেশিক আমলে ১৭৬০-এর দশকের শেষের দিকে বো-কাপের ড্রপ ও ওয়াল স্ট্রিটের কাছে জমি কিনেছিলেন ইয়ান দে ভাল নামে একজন ওলন্দাজ। একবছর পর রোজ, খিয়াপিনি ও শর্ট মার্কেট স্ট্রিট পর্যন্ত ভালের ভূ-সম্পত্তি প্রসারিত হয়। মালয় কোয়ার্টার নামে পরিচিতি পাওয়ার আগে এলাকাটি ভালেন ড্রপ (ভালের নামানুসারে) নামে পরিচিত ছিল। স্থানীয়রা এছাড়া স্ল্যামস ব্রুট কিংবা স্কচচেক্লুফ নামেও জায়গাটিকে ডাকে।
১৭৬৩ সালে ইয়ান ভাল এখানে একতলা ভাড়া ঘর নির্মাণ করে নিজের তৎকালীন ক্রীতদাসদের কাছে সেসব বরাদ্দ দিতে শুরু করে। ‘কেপ মালয়েশ’ নামে পরিচিত এই ক্রীতদাসদের বেশিরভাগই মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার। বাকিদের আফ্রিকার অন্যান্য অংশ থেকে কাজের উদ্দেশে কেপটাউনে আনা হয়েছিল। মূলত এজন্যই ‘মালয়’ নামের উৎপত্তি। যদিও বো-কাপে আসা সবাই মালয়েশীয় ও মুসলিম ছিল এমন নয়। তবে একই সময়ে কেপটাউনে ইসলামের প্রবেশ ঘটে। এখানকার ভবনগুলো অধিকাংশই একতলা, যা ১৭৯০ থেকে ১৮২৫ সালের মধ্যে কেপ ওলন্দাজ এবং কেপ জর্জিয়া স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে নির্মিত। যদিও আঠারো শতকের প্রথম দশকে ব্রিটিশ উপনিবেশের কারণে কিছু ভবনে ব্রিটিশ শৈলী নজরে পড়ে।
ওয়াল স্ট্রিটের সারিবদ্ধ ব্রিটিশ শৈলীর ভবন (ছবি: মহীন রীয়াদ)বো-কাপের প্রথম তিনটি প্রাচীন ভবনের (বর্তমানে বো-কাপ জাদুঘর) একটি রয়েছে ৭১ ওয়াল স্ট্রিটে, বাকি দুটি বুয়েটেনগ্র্যাচ স্ট্রিট এবং ৪২ লিউউইন স্ট্রিটে অবস্থিত। মূলত ব্যবসায়ী, কারুশিল্পী ও কারিগরদের বিস্তৃতির সুবাদে এগুলো নির্মিত হয়েছিল। ১৭৬০-এর দশকের শেষে লিজ গ্রহণের সময় সব বাড়ির রঙ সাদা হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। তবে ১৮৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসরা ফিরে এসে এখানকার ভূ-সম্পত্তি ক্রয়ের অনুমতি পেলে নিয়মটি শেষ পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তি লাভের পর মালিকরা তাদের অবদমিত স্বাধীনতার প্রকাশ হিসেবে রঙের এই প্রতীকী চর্চা শুরু করেছিল, যা ১৮০ বছর ধরে বিদ্যমান।

বো-কাপে অনেক পরিবার প্রজন্ম ধরে বসবাস করছে। ২০২০-এর হিসাবে এখানে প্রায় দশ হাজার লোকের বসতি। ঐতিহ্যগতভাবে এলাকাটি বহুসংস্কৃতির অংশ হলেও এর জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম। ১৮২০ সালের দিকে জাভা ও সিলন থেকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত মুসলিমরা এই অঞ্চলে আসতে শুরু করে। বর্তমানে বো-কাপ সম্প্রদায় আফ্রিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ। দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহ্য সম্পদ সংস্থার মতে, এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক-১৮৫০ সালের স্থাপত্যের বৃহত্তম সংকলন রয়েছে। এটাই এখন পর্যন্ত টিকে থাকা কেপটাউনের প্রাচীনতম আবাসিক এলাকা।
বো-কাপের মৌলিক রঙ (ছবি: উইট‌সটিংহাউট)১৯৪৩ সালে বো-কাপ সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছিল, তখন বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি দলের সহায়তায় ১৫টি ঘর পুনরুদ্ধার করে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্মারক কমিশন। ১৯৬৬ সালে এলাকার একটি অংশ জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে মনোনীত হয়েছিল। ১৯৭১ সাল থেকে নগর কাউন্সিল এখানকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। ২০১৯ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বো-কাপ এলাকার ১৯টি স্থান জাতীয় ঐতিহ্যবাহী ঘোষণা করে।
বো-কাপের অধিকাংশ রাস্তা খোয়া পাথরে নির্মিত (ছবি: দ্য কমন ওয়ান্ডার)বো-কাপের অন্যতম আকর্ষণ খোয়া পাথরের রাস্তা। ওলন্দাজ উপনিবেশকালে সপ্তদশ থেকে অষ্টাদশ শতকের দিকে তৎকালীন হল্যান্ড (বর্তমানে নেদারল্যান্ডস) থেকে এসব পাথর আফ্রিকায় আমদানি করা হয়। সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, খোয়া পাথরগুলো ভারি বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে বো-কাপকে সুরক্ষা দেয়। যদিও এটি ওলন্দাজদের নির্মাণ পরিকল্পনার অংশ ছিল না।
নাসের পালঙ্গির আঁকা বো-কাপের ঐতিহ্যবাহী ম্যুরাল (ছবি: লেখক)বো-কাপের প্রায় সব রাস্তায় ম্যুরাল দেখা যায়। এগুলোতে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সংমিশ্রণ ফুটে আছে।
বো-কাপের নিদর্শন

বো-কাপ জাদুঘরবো-কাপ জাদুঘর: ১৯৬০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত বো-কাপের প্রাচীনতম গৃহভবনটি ৭১ ওয়াল স্ট্রিটে অবস্থিত। বর্তমানে এটি বো-কাপ জাদুঘর। এখানকার প্রকৃত ইতিহাস আবিষ্কারের জন্য এবং আদর্শ মালে পারিবারিক জীবনের একঝলক ধারণা পেতে জাদুঘরটি অন্যতম ভূমিকা রাখে। এটি প্রাথমিক মুসলিম বসতি স্থাপনকারীদের সাংস্কৃতিক অবদানকে তুলে ধরে, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল দর্জি, কাঠমিস্ত্রি ও জুতা প্রস্তুতকারক।
জাদুঘরে সংরক্ষিত ঊনিশ শতকের গৃহসজ্জা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কেপ ড্রপ-পাতার ডাইনিং টেবিল, কেপ রিজেন্সি-শৈলীর চেয়ার। এছাড়া নববধূর পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বানানো দাম্পত্য চেম্বার এখানকার গুরত্বপূর্ণ আকর্ষণ। ১৯৬৫ সালে জাদুঘর ভবনটি জাতীয় স্মৃতিসৌধ স্বীকৃতি পায়। ১৯৭০-এর দশকে এটি পুনরুদ্ধার করা হয়। জাদুঘরটি ১৯৭৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংস্কৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের উপগ্রহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
ভবনটির বক্ররেখা-বেষ্টিত বারোক প্রাচীর সংযুক্ত সম্মুখভাগে রয়েছে কেপ-ওলন্দাজ স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ। বাড়ির পেছনে গাছ ও দ্রাক্ষালতা বেষ্টিত খোয়া পাথরের ছোট আঙিনা, যা সংকীর্ণ গলির মাধ্যমে রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত। সপ্তাহের সোম থেকে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘরটি উন্মুক্ত থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ।
আউয়াল মসজিদ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম মসজিদ (ছবি: সামি মলোহি)ইসলামি স্থাপনা

ওলন্দাজ উপনিবেশিক আমলের শেষের দিকে, ১৭৯৪ সালে ড্রপ স্ট্রিটের শেষ প্রান্তে নির্মিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম মসজিদ আউয়াল মসজিদ। ‘আউয়াল’ শব্দের অর্থ প্রথম। তুয়ান গুরু (ইন্দোনেশীয় ভাষায় যার অর্থ মহান শিক্ষক) নামে পরিচিত, ইন্দোনেশীয় যুবরাজ ও ধর্মীয় নেতা আবদুল্লাহ ইবনে কাদি আল-সালাম ১২ বছর আফ্রিকার রোবেন দ্বীপে বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম ইমাম নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় বিদ্যালয় (মাদ্রাসা) হিসেবেও এটি ব্যবহার করেন। ইসলামের স্বীকৃতিস্বরূপ, উপাসনার স্বাধীনতার জন্য কেপ মুসলিমদের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও মসজিদটি বিবেচিত হয়।
তুয়ান গুরুর হাতে লেখা কোরআনের পাতা (ছবি: দ্য কমন ওয়ান্ডার)রোবেন দ্বীপের কারাগারে বন্দি থাকাকালীন তুয়ান গুরু চোরাচালানি কাগজে গোপনে চার কপি মুখস্ত কোরআন রচনা করেছিলেন। মসজিদের অভ্যন্তরে সেগুলোর একটি মূল কপি সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিকদের মতে, চারটি কপিতে মাত্র চারটি ভুল পাওয়া গিয়েছিল! মসজিদটি ক্রিডন ভান সিলন নামের একজন মুক্ত ক্রীতদাসের অধিকৃত ৩৪ ড্রপ স্ট্রিটের বর্তমান ভূখণ্ডে নির্মিত হয়। ইন্দোনেশীয় মুসলিম মতবাদ অনুসারে, এটি শাফিঈ মসজিদ হিসেবে পরিচিত। বো-কাপের ৯০ শতাংশ মুসলিম সুন্নি ইসলামের শাফিঈ ধারার অনুসারী।

লং স্ট্রিটে আঠারো শতকের দ্বিতীয় দশকে নির্মিত দ্বিতীয় প্রাচীন স্থাপনা পাম ট্রি মসজিদ। এর সামনের দৃষ্টিনন্দন পাম গাছের জন্যই এই নামকরণ। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল আবাসস্থল, যা মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছে। কিছু বইয়ে মসজিদটিকে ইয়ান ভ্যান বোগিজ গির্জা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মসজিদটির সামনে রয়েছে শতবর্ষী পাম গাছ।

আউয়াল মসজিদ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বুয়েটেনগ্র্যাচ স্ট্রিটে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় প্রাচীনতম নুরুল ইসলাম মসজিদ। তুয়ান গুরুর ছেলে আবদুল রউফ ১৮৪৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
রানি ভিক্টোরিয়া মসজিদ, যেটি জামে মসজিদ নামে পরিচিতঐতিহাসিকভাবে ১৭৯০ সালে প্রস্তর খননকারীরা নিচু খিয়াপিনি স্ট্রিটে প্রথম জুমার আয়োজন করেছিল। এই ঘটনা সংরক্ষণের উদ্দেশে ১৮৫০ সালে বো-কাপের বৃহত্তম ও দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম প্রাচীনতম রানি ভিক্টোরিয়া মসজিদ নির্মিত হয়, যেটি জামে মসজিদ নামে পরিচিত।
এছাড়া রয়েছে হেলিগার লেন ও খিয়াপিনি স্ট্রিটের কোণে অবস্থিত ১৮৫৯ সালে নির্মিত প্রচীন ইমাম হাজির মসজিদ, যা এখন শাফিঈ মসজিদ নামে পরিচিতি। ড্রপ ও লং স্ট্রিটের কোণে রয়েছে ১৯৮১ সালে নির্মিত হানাফি মসজিদ।

শাফিঈ মসজিদলং মার্কেট স্ট্রিটে কেপটাউনের প্রথম মিনার সংবলিত পিলগ্রিম মসজিদ ১৮৮৪ সালে নির্মাণ করা হয়। কাঠের নির্মিত মূল মিনারটি ১৯৩০-এর দশকে কংক্রিটের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিস্থাপন করায় মূল স্থাপত্যশৈলীর রূপ বদলেছে। ১৯৪০ সালে এর নাম বদলে করা হয় বুরহানোল ইসলাম। ১৯৭০ সালে মসজিদটিকে আফ্রিকার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘোষণা করা হয়। অন্যান্য ইসলামি স্থাপত্যশৈলী নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ১৮৯২ সালে ভারতীয় মুসলমানদের নির্মিত লুপ স্ট্রিটের কাওয়াতুল ইসলাম মসজিদ, ১৮৯৯ সালে ভস স্ট্রিটে নির্মিত নুরুল মোহাম্মদিয়া মসজিদ এবং ১৯৫৮ সালে নির্মিত নুরুল হুদা মসজিদ।

বুরহানোল ইসলাম (ছবি: মাঘেমি)তানা বারু ও ক্রামত: বো-কাপের একটি গুরুত্ববহ স্থান তানা বারু (নতুন স্থল), যা মূলত লং মার্কেট স্ট্রিটের মুখে অবস্থিত মুসলিম সমাধিস্থল। তিনটি সমাধিস্থলের ভিত্তিতে গঠিত এই সমাধি কেপ মুসলমানদের নির্মিত প্রথম সমাধিস্থল। তুয়ান গুরুর সমাধিসহ দক্ষিণ আফ্রিকার সম্মানিত মুসলিম বাসিন্দার কয়েকজনের সমাধি রয়েছে এতে। ১৯৮৩ সালের জনস্বাস্থ্য আইন প্রয়োগের ফলে ১৮৮৬ সালের ১৫ জানুয়ারি সমাধিস্থলটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এই আইনের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের স্বাধীনতা হ্রাস পায়। দুই দিন পর আব্দুল বার্নসের নেতৃত্বে তিন হাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মিছিল তানা বারুর কাছে গিয়ে আমালদিয়ান রোহ নামক এক ব্যক্তির সন্তানকে এখানে সমাধিস্থ করার মধ্য দিয়ে এই আইনের প্রতিবাদ জানানো হয়।
বো-কাপ বাজার (ছবি: মহীন রীয়াদ)খাদ্যরস ও কারুশিল্পের বাজার

উঁচু ওয়াল স্ট্রিটের সাৎশক্লিফে সিভিক সেন্টারে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মন জুড়ানো হস্তশিল্পের বাজার। নকশাকার পোশাক থেকে শুরু করে হস্তনির্মিত গহনা, উটপাখির চামড়ার হাতব্যাগ, জুতা, ব্রোঞ্জের মূর্তিসহ বিস্তৃত দেশীয় হস্তশিল্পের সরবরাহ মেলে এখানে। ঐতিহ্যবাহী খাদ্যরস হিসেবে পাওয়া যায় কেক, সামোসা, কুইস্টার এবং ঘরে তৈরি জ্যামের সঙ্গে কফি।
কেপ মালয় খাবার (ছবি: দ্য কমন ওয়ান্ডার)কেপ মালয় রন্ধনশৈলী

কোনও সংস্কৃতি এবং মানুষকে ভালোভাবে জানার অন্যতম উপায় হলো তাদের খাবারের নমুনা। সর্বাধিক খাঁটি কেপ মালয় খাবার এবং আতিথেয়তার জন্য বো-কাপে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কেপ মালয় রেস্তোঁরা। এখানে উল্লেখযোগ্যভাবে হালাল ও অ্যালকোহল মুক্ত খাবার পরিবেশন করা হয়। ফল, মসলা, সবজি ও মাংস মিশ্রিত কেপ মালয় খাবারের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া। কেপ মালয় খাবার মূলত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার রন্ধনশৈলীর মিশ্রণ। এখানকার ঐতিহ্যবাহী মেন্যুর মধ্যে রয়েছে সামোসা, ব্রিডিজ, কারি ও বোবোটি। এছাড়া দেখা যায় প্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত হলুদ, জাফরান, মরিচ ও মসলার সমাহার।
আনুষঙ্গিক তথ্য

কেপটাউন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার দূরবর্তী বো-কাপে বাস, ট্যাক্সি বা রাইড শেয়ারিং যোগে যাওয়া যায়। এজন্য লাগে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা। রাতযাপনের জন্য এখানে আছে তিন, চার ও পাঁচতারকা মানের আবাসন ব্যবস্থা এবং অবশ্যই কেপ মালয় খাবার।

/জেএইচ/
টপ