স্ত্রী যেন কোনোভাবেই বাড়িতে ফিরতে না পারেন, এমন অদ্ভুত উদ্দেশ্যে কেউ একটি বাঁধ কেটে দিতে পারেন, শুনতে যেন সিনেমার গল্প। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমনই একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে পেয়েছিলেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
ঘটনাটি ১৯৯৩ সালের। সে বছর যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট অঞ্চলে ঘটে ভয়াবহ ‘গ্রেট ফ্লাড’। সেই সময় মিসৌরির ওয়েস্ট কুইন্সি এলাকার একটি বাঁধ ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ওঠে জেমস স্কটের বিরুদ্ধে। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর প্রবল স্রোতের বন্যার পানি প্রায় ১৪ হাজার একর এলাকা প্লাবিত করে। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধ হয়ে যায় এবং আগে থেকেই বন্যাকবলিত অঞ্চলের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
তবে সবচেয়ে আলোচিত ছিল মামলার মোটিভ। আদালতে সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি ছিল, স্কট চেয়েছিলেন তার স্ত্রী বন্যার কারণে আটকে থাকুন এবং বাড়িতে ফিরতে না পারেন। আর সেই সুযোগে তিনি বন্ধুদের নিয়ে নির্বিঘ্নে পার্টি করতে পারবেন। আদালত শেষ পর্যন্ত জেমস স্কটকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তবে এই মামলাটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিতর্কও তৈরি হয়। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্রে তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণ এবং মামলার তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবুও আদালতের দেওয়া রায় বহাল রয়েছে। আজও ঘটনাটি বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত ও আলোচিত অপরাধের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।









