সরকারি প্রকল্পের নামে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার এমন এক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় নেই। মাথা ন্যাড়া করলেই মিলবে ১৫ হাজার টাকা, এমন প্রলোভনে পড়ে তামিলনাড়ুর তিন নারী নিজেরাই মাথার সব চুল ফেলে দেন। পরে জানা যায়, পুরো বিষয়টিই ছিল এক প্রতারকের সাজানো ফাঁদ।
ঘটনাটি ভারতের তামিলনাড়ুর সালেম জেলার একটি গ্রামের। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি নিজেকে তহসিলদার কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের ফোন করতেন। তিনি দাবি করেন, কোভিড-১৯–এর মতো একটি নতুন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই রোগ প্রতিরোধে রাজ্য সরকার নাকি বিশেষ স্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু করেছে।
প্রতারকের দাবি ছিল, বিদেশে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই মাথা ন্যাড়া করেছেন। একইভাবে তামিলনাড়ু সরকারও নাগরিকদের মাথা মুড়িয়ে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
ন্যাড়া হলেই মিলবে টাকা
কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে প্রতারক বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আলাদা আলাদা আর্থিক প্রণোদনার কথাও বলেন।
- নারীদের জন্য ১৫ হাজার রুপি
- পুরুষদের জন্য ৬ হাজার রুপি
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ হাজার রুপি এবং একটি বিনামূল্যের ল্যাপটপ
এক নারীকে তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রকল্পের জন্য তার নাম আগেই নির্বাচন করা হয়েছে। এতে ওই নারীর সন্দেহ আরও কমে যায়।
একজন থেকে তিনজন
প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে ওই নারী শুধু নিজেই মাথা ন্যাড়া করেননি, গ্রামের আরও কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। শেষ পর্যন্ত তিন নারী টাকা পাওয়ার আশায় মাথা মুড়িয়ে ফেলেন।
কিন্তু ন্যাড়া হওয়ার পর প্রতিশ্রুত টাকা তো দূরের কথা, প্রতারকের ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া না পেয়ে বুঝতে পারেন, তারা একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ভাইরাল ভিডিও
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ‘তেলেগু স্ক্রাইব’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। হাজারো মানুষ এটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য বলেছেন, আবার কেউ মজার মন্তব্য করেছেন। তবে অনেকেই এমন প্রতারণার ঘটনায় উদ্বেগও প্রকাশ করেন।
সতর্ক থাকার পরামর্শ
সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া সরকারি প্রকল্প, ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয় এবং আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার কোনও নতুন প্রকল্প চালু করলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন বা সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
তাই ফোনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যেকোনো প্রস্তাব বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই সরকারি সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা উচিত। সামান্য অসতর্কতাই বড় ধরনের প্রতারণার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।









