বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি দুদক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:০৪আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৩২

আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর জড়িত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান।   

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইকবাল মাহমুদের সরে যাওয়া উচিত।’ রবিবার (১২ অক্টোবর) সাভারে ট্যানারি পল্লিতে এক সভায় তিনি বলেন, ‘দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন যে, তিনি কোনও প্রভাবের কারণে ব্যবস্থা নেননি, তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে তার অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত।’
মূলত এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। তিনি বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির বিষয়ে এই কমিশনের সময়ে কোনও মামলা হয়নি। এই কমিশন শপথ ভঙ্গ করেনি। কারও পারসেপশনের ভিত্তিতে আমরা চার্জশিট করতে পারি না। অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণের মতো এখনও কোনও তথ্য প্রমাণ পায়নি দুদক। তাই কমিশন এ নিয়ে চার্জশিট দেওয়ার মতো নির্দেশনা দিচ্ছে না, সময় নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা হাফ ডান চার্জশিট করতে চাই না। বাচ্চুর বিষয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
দুদক চেয়ারম্যান শপথ ভঙ্গ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দিলোয়ার বখত বলেন, ‘কেন শপথ ভঙ্গের প্রশ্ন আসছে আমরা বুঝছি না।’

প্রসঙ্গত, বেসিক ব্যাংকে বিপর্যয়ের শুরু হয় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময়েই ঘটে বড় অংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা।

২০০৯ সালে শেখ আবদুল হাই বাচ্চু চেয়ারম্যান হওয়ার পর ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত (চার বছর তিন মাসে) ব্যাংকটি ৬ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা ঋণ দেয়, যার প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকাই নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে ঋণ বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ার পর প্রথমে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করা হয়। ২০১৪ সালের ২৯ মে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ৪ জুলাই অর্থমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে পদত্যাগপত্র দেন শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। পরে বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৫ সালে সর্বমোট ৫৬টি মামলা করে দুদক। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই মামলাগুলোতে অভিযুক্ত করা হয়নি।

আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণ নেওয়া ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।
ব্যাংকটির তৎকালীন পর্ষদের ১৩ জন সদস্যের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই দায় সেরেছে দুদক।

আরও পড়ুন:

বেসিক ব্যাংক থেকে আট হাজার কোটি টাকা হাওয়া

/ডিএস/এসটি/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি