X
বুধবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

৫০ বছরের পুরনো আপিল নিষ্পত্তি করলেন হাইকোর্ট

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৫৫

সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের বিচারিক আদালতে দিন দিন মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে সঠিক সময়ে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন বিচারপ্রার্থীরা। আবার কোনও কোনও বিচারপ্রার্থী আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় মামলাও ঝুলে থাকছে বছরের পর বছর। ফলে জীবদ্দশায় মামলার শেষ পরিণতি দেখে যেতে পারছেন না অনেক বিচারপ্রার্থী বা তার আইনজীবী। তাই অপ্রত্যাশিত এসব মামলা নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে একসঙ্গে কাজ করার মত আইনজ্ঞদের।

১৯৬৬ সালে সিলেটের চুনারুঘাটের ইউপি সদস্য ছিলেন সাফাত উল্ল্যাহ। রিলিফের পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে দুর্নীতির মামলা করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনস্ত সিলেটের স্পেশাল জজ সাফাত উল্ল্যাহকে ২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ ও ৩৫২ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। সাজার রায়ের পরপরই তিনি হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির আগেই ১৯৮৯ সালে মারা যান তিনি।

ওই আপিল দায়েরের দীর্ঘ ৫০ বছর পর চলতি বছর মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। তখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটিতে পক্ষভুক্ত হয়।

দুদকের আইনজীবী মো. আসিফ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে আমরা মামলাটিতে পক্ষভুক্ত হয়ে শুনানি করি। মূলত সাফাত উল্ল্যাহকে ভুল ব্যক্তিকে দিয়ে আইডেন্টিফাই করা হয়েছিল এবং আপিলকারী আসামি মারা গেছেন। তাই হাইকোর্টে থাকা তার আপিলটি অ্যাবেইট (বাতিল) হয়ে গেছে। একইসঙ্গে তার জরিমানা মওকুফ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২৪ নভেম্বর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিক ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আপিলের ৩২ বছর পর খালাশ পেলেন রমজান

১৯৭৭ সালে সিলেটের জুট প্রোডাক্টশনের সাব ডিভিশনাল অ্যাগ্রিকালচার অফিসার মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মূলত ৩০০ টাকার টিএডিএ বিল তোলার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার  সই জাল করার অভিযোগে দুর্নীতির এ মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিভাগের স্পেশাল জজ আদালত রমজান আলীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও ৩০০ টাকা জরিমানার রায় দেন। ওই রায়ের পর তাকে কিছুদিন জেল খাটতে হয়। এরপর একই বছর তিনি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন।

আপিল দায়েরের পর কেটে গেছে প্রায় ৩২টি বছর। বহুবছর পর মামলাটি চলতি বছর শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। শুনানি শেষে টিএডিএ বিলটির টাকা হস্তান্তর না হওয়ায় দুর্নীতির মামলা থেকে গত ২৪ নভেম্বর খালাস পান আসামি রমজান আলী। গত ২৪ নভেম্বর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিক ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আইনজীবী মো. আসিফ হাসান জানান, কেউ যদি বিনা অপরাধে কারাবাস করেন, তাহলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করার অধিকার তার আছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক সময় মামলার বাদী বা বিবাদী মারা গেলেও মামলাটি ঝুলে থাকে। তারা বিচার দেখে যেতে পারেন না। তাই পুরনো ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। বিশ্বে অনেক দেশেই দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। আমাদের দেশে সেটা হয় না, এটা সঠিক নয়। মামলার বয়স দীর্ঘ হলে বিচারপ্রার্থী বা আইনজীবীদের উচিত মামলাটি আদালতে মেনশন করে শুনানির দিন নির্ধারণ করা।

আইনজীবী মো. আসিফ হাসান বলেন, ‘বিচার বিভাগে মামলার যে জট রয়েছে, তা নিরসনে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। একেকজন অ্যাডভোকেটের কাছে হাজার হাজার মামলা থাকে। সেই আইনজীবী বা সরকারপক্ষকেও (অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস) তাই মামলা নিষ্পত্তি করা নিয়ে চাপে থাকতে হয়। ফলে মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। তারপর যখন মামলা শুনানির জন্য ওঠে, তখন যাবতীয় নথি সংগ্রহে আরও  ধকল পোহাতে হয়।’

‘এছাড়াও মক্কেলদের অনেকে জামিনে চলে গেলে আর আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। এজন্য আইনজীবীদের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। হাতে মামলার চাপ থাকায় তাদের খোঁজ নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তবে আমাদের প্রধান বিচারপতি এসব পুরনো মামলা নিষ্পত্তিতে জোরদার ভূমিকা রেখে চলেছেন। আমরাও দুদক থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্ক: কেন সন্দেহ আর বিদ্বেষ?
শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্ক: কেন সন্দেহ আর বিদ্বেষ?
৩০ জানুয়ারি থেকে শারজাহ যাবে ইউএস-বাংলা
৩০ জানুয়ারি থেকে শারজাহ যাবে ইউএস-বাংলা
আবরার হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনের জেল আপিল হাইকোর্টে
আবরার হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনের জেল আপিল হাইকোর্টে
টিকার সার্টিফিকেট জালিয়াতি চলছেই, টার্গেট প্রবাসী কর্মীরা
টিকার সার্টিফিকেট জালিয়াতি চলছেই, টার্গেট প্রবাসী কর্মীরা
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্ক: কেন সন্দেহ আর বিদ্বেষ?
শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্ক: কেন সন্দেহ আর বিদ্বেষ?
৩০ জানুয়ারি থেকে শারজাহ যাবে ইউএস-বাংলা
৩০ জানুয়ারি থেকে শারজাহ যাবে ইউএস-বাংলা
আবরার হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনের জেল আপিল হাইকোর্টে
আবরার হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৭ জনের জেল আপিল হাইকোর্টে
টিকার সার্টিফিকেট জালিয়াতি চলছেই, টার্গেট প্রবাসী কর্মীরা
টিকার সার্টিফিকেট জালিয়াতি চলছেই, টার্গেট প্রবাসী কর্মীরা
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যানের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যানের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু
© 2022 Bangla Tribune