২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীতে ৮৫ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এর মধ্যে শুধু ৫ আগস্ট ৫০-৫৫ জন শহীদ হয়েছেন বলে জানান তিনি।
রবিবার (২ আগস্ট) ডেমরার নবী টাওয়ার কনফারেন্স রুমে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী: শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের গণশুনানি’তে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘যাত্রাবাড়ীর ঘটনাগুলোকে জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব বিচার সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে।’’
চিফ প্রসিকিউটর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘থানায় থাকা তদন্ত প্রতিবেদনগুলো দ্রুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সব তদন্ত একই সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়।’’
শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক শহীদ ও আহত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।’’
তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘যাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ, ছবি, তথ্য বা অন্য কোনও সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে জমা দিলে বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’’
আমিনুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে একাধিক মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় একটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হয়েছে।
তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত যে কোনও ভিডিও ফুটেজ বা তথ্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দিলে তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।’’
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও তদন্তে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যার কাছে যে তথ্য, সাক্ষ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তা ট্রাইব্যুনালের কাছে পৌঁছে দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা উচিত।’’
গণশুনানিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি, বিচার প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ গণশুনানিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ভুক্তভোগী পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন চিফ প্রসিকিউটর। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত প্রায় ৮৫ জনের নাম-পরিচয়সহ একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।’’
যাত্রাবাড়ীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘পৃথক হত্যা মামলা তদন্ত করলে বিচার দীর্ঘায়িত হবে। তাই ১৬, ১৯ ও ২০ জুলাইসহ বিভিন্ন দিনের হত্যাকাণ্ডগুলো দিনভিত্তিক একত্র করে একটি সমন্বিত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একই বিচারে একাধিক ঘটনা ও একাধিক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।’’

বেনজীরকে ফেরত আনার প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার দুদকের






