একবছরে ৪০০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, উপেক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য

জীবনযাপন ডেস্ক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫১আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫১

দেশে গত একবছরে ৪০০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে—কৈশোর ও তরুণ বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্য এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা কঠিন।

পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ

সমীক্ষা বলছে, ২০২৫ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৯০ জনই স্কুল পর্যায়ের। কৈশোরের এই সংবেদনশীল সময়ে মানসিক ও আবেগীয় বিকাশের ভঙ্গুরতা তাদের ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করেন মনোরোগ চিকিৎসক আতিকুল হক ।

অভিমান ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি: স্কুল শিক্ষার্থীদের ৩২ দশমিক ৬১ শতাংশ আত্মহত্যার পেছনে ‘অভিমান’ কাজ করেছে। এটি আবেগ নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা ও পরিবারের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

একাডেমিক চাপ: ২৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পড়াশোনার চাপ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রধান কারণ। প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা তৈরি করছে।

লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি: স্কুলপর্যায়ে গত একবছরে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ থেকে এটি স্পষ্ট যে, কিশোরী মেয়েরা পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

বয়স ও অঞ্চলভিত্তিক চিত্র

কৈশোর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ: ১৩–১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সর্বোচ্চ—মোট সংখ্যার প্রায় ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। পরিচয় সংকট, সম্পর্কজনিত টানাপোড়েন ও সামাজিক তুলনা এ বয়সে বড় প্রভাব ফেলছে।

শৈশবের করুণ চিত্র: ১–১২ বছর বয়সী ৪৪ শিশুর আত্মহত্যা সমাজের মানসিক ও নৈতিক দুর্বলতার গভীর সংকেত দেয়।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ: ঢাকা বিভাগে ১১৮ জন (২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ) শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও নগরজীবনের চাপ সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উত্তরণের প্রস্তাব

এ সংকট মোকাবিলায় আঁচল ফাউন্ডেশন পাঁচটি সুপারিশ করেছে—

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং চালু করা; শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের লক্ষণ শনাক্তে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া; মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও স্টিগমা কমাতে প্রচারণা জোরদার করা; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণের আওতায় আনা; এবং নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে অভিভাবক-শিক্ষার্থী সংযোগ বাড়ানো।

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ আতিকুল হকের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

/এম/  
সম্পর্কিত
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
আদাবরে ঢাবি শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার ৯
সর্বশেষ খবর
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী