সোশ্যাল মিডিয়ায় অযথা তর্ক এড়িয়ে চলবেন যে কারণে

আতিকুল হক মজুমদার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা প্রায়ই এমন সব তর্কে জড়িয়ে পড়ি, যার শেষ পর্যন্ত কোনও ফল বা সমাধান হয় না। বরং আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, এ ধরনের অনলাইন তর্ক মানসিক শান্তি নষ্ট করে, চাপ বাড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

কেন আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্কে জড়াই?

অ্যামিগডালা হাইজ্যাক: আবেগের কাছে যুক্তির পরাজয়

মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি আবেগ ও বিপদ শনাক্ত করার কাজ করে। যখন কেউ আমাদের বিশ্বাস বা মতের বিপরীত কিছু লেখে, তখন মস্তিষ্ক অনেক সময় সেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। ফলে যুক্তিনির্ভর অংশ—প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সাময়িকভাবে কম সক্রিয় হয়ে যায় এবং আমরা ভেবে-চিন্তে নয়, আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া জানাই।

ডোপামিনের চক্র

সোশ্যাল মিডিয়া এমনভাবে তৈরি, যাতে ব্যবহারকারী বারবার ফিরে আসে। তর্কের মধ্যে কেউ সমর্থন করলে, লাইক বা রিপ্লাই দিলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। এই সাময়িক আনন্দ আমাদের আরও বেশি অনলাইন বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে উৎসাহিত করে।

স্ট্রেস হরমোনের প্রভাব

অপ্রয়োজনীয় তর্কের সময় শরীরে কোর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতিতে থাকলে বিরক্তি, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

অযথা তর্ক এড়ানোর কার্যকর উপায়

'পজ' বা থামার অভ্যাস গড়ে তুলুন: কোনও উসকানিমূলক পোস্ট বা মন্তব্য দেখেই উত্তর দেবেন না। অন্তত ১০–১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, ফোন সরিয়ে রাখুন বা অন্য কাজে মন দিন। এই বিরতিতে আবেগের তীব্রতা কমে এবং যুক্তিনির্ভরভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

কনফারমেশন বায়াস বুঝুন: মানুষ সাধারণত নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মিল থাকা তথ্য সহজে গ্রহণ করে, বিপরীত মত সহজে মানতে চায় না। তাই বেশিরভাগ অনলাইন তর্কে কারও মত বদলে দেওয়া খুবই কঠিন। এই বাস্তবতা মেনে নিলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়ানোর প্রবণতাও কমে যাবে।

নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন: মন্তব্য করার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন— "এই তর্কে জড়ালে কি আমার বাস্তব জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে?" উত্তর যদি 'না' হয়, তাহলে স্ক্রল করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।

ডিজিটাল এমপ্যাথি গ্যাপ মনে রাখুন: স্ক্রিনের ওপারে থাকা মানুষটির মুখ, কণ্ঠ বা অনুভূতি আমরা দেখতে পাই না। তাই অনেক সময় বাস্তব জীবনের তুলনায় অনলাইনে মানুষ বেশি কঠোর বা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। মনে রাখুন, স্ক্রিনের অপর পাশেও একজন বাস্তব মানুষ আছেন। এই উপলব্ধি অনেক অপ্রয়োজনীয় সংঘাত এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

নিজের ডিজিটাল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করুন: প্রতিনিয়ত নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়। কাজের সময় বা ঘুমানোর আগে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। যেসব ব্যক্তি, পেজ বা গ্রুপ নিয়মিত উসকানিমূলক বা নেতিবাচক কনটেন্ট ছড়ায়, প্রয়োজনে তাদের মিউট বা আনফলো করুন। আপনার নিউজফিডের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই।

শেষ কথা

সব তর্কে জেতা জরুরি নয়; অনেক সময় তর্ক থেকে সরে আসাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। মানসিক শান্তি, সময় ও সম্পর্ক—এই তিনটি জিনিস অযথা অনলাইন বিতর্কের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

/এম/
সম্পর্কিত
গুগল ড্রাইভের স্টোরেজ শেষ? জেনে নিন বিনামূল্যে জায়গা খালি করার ৫ উপায়
কিশোরদের দিয়ে খুন করিয়ে ইউরোপ কাঁপাচ্ছে যে চক্র
প্রাক্তনের প্রোফাইলে ঘুরঘুর করেন কেন, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সর্বশেষ খবর
উখিয়া সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত
উখিয়া সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে যুবক আহত
ড্রোনের মতোই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি
ড্রোনের মতোই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইউক্রেন: জেলেনস্কি
রোম সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য, যা হয়তো জানেন না
রোম সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য, যা হয়তো জানেন না
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ দিনমজুর নিহত, আহত ১৫
বগুড়ায় বাসচাপায় ৭ দিনমজুর নিহত, আহত ১৫
সর্বাধিক পঠিত
মিটার একবার, ভাড়া ও চার্জ আজীবন
মিটার একবার, ভাড়া ও চার্জ আজীবন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
ডাকা হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন
অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
আওয়ামী লীগ শত্রু নয় আমাদের মিত্র, অচিরেই আমাদের সঙ্গে মিশে যাবে: বিএনপির এমপি
‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানে মুখরিত সচিবালয় এলাকা 
‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ স্লোগানে মুখরিত সচিবালয় এলাকা