হাত-পায়ে ব্যথা, শরীর ভারী লাগা কিংবা জয়েন্টে অস্বস্তির পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনও একটি কারণ। শরীরে প্রদাহ সব সময় খারাপ নয়। বরং সংক্রমণ বা আঘাতের বিরুদ্ধে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করার সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রদাহ তৈরি হয়। সমস্যা হয় যখন তা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে হৃদ্রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শুধু ব্যথা কমানোর দিকে নজর না দিয়ে জীবনযাপন ও খাবারের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
কোন খাবার কমাবেন?
প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার, বেশি চিনি, অতিরিক্ত ভাজাভুজি এবং অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার অভ্যাস কমানো ভালো।
এর বদলে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন মাছ, শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফল। বিশেষ করে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
রাতে খেতে পারেন আদা-হলুদের নাড়ু
ঘরোয়া উপায়ে তৈরি একটি আদা-হলুদের নাড়ু খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এতে ব্যবহার করা হয় আদা, হলুদ, গোলমরিচ ও গুড়।
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে একটি ননস্টিক পাত্রে ১ টেবিল চামচ গুড়ের সঙ্গে সামান্য পানি দিয়ে জ্বাল দিন। এতে ১ টেবিল চামচ আদাবাটা, ১ টেবিল চামচ হলুদগুঁড়া এবং আধা চা-চামচ গোলমরিচের গুঁড়া দিন। সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে হাতে ছোট ছোট নাড়ুর মতো আকার দিন। চাইলে রাতে একটি ছোট নাড়ু খেতে পারেন।
কেন এই উপকরণগুলো?
আদায় প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। হলুদের অন্যতম সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন নিয়েও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। গোলমরিচে থাকা পিপেরিন শরীরে কারকিউমিনের শোষণে সহায়তা করতে পারে।
তবে এই নাড়ুকে বাত বা জয়েন্টের ব্যথার ওষুধ হিসেবে ধরা যাবে না। শুধু এটি খেলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা প্রদাহ সেরে যাবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। অতিরিক্ত গুড় থাকায় ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার সমস্যা থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার।
ব্যথা থাকলে শুধু ঘরোয়া টোটকায় নির্ভর নয়
হাত-পা বা জয়েন্টের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, ব্যথার সঙ্গে ফুলে যাওয়া, লালচে ভাব বা জ্বর থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ বাতের ব্যথার পেছনে আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।
সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর মূল ভিত্তি।









