পূজার সাজে শাড়ি হোক কিংবা কুর্তি, রুপালি গিলটি করা হার, ঝুমকা, চোকার ও চুড়ি সহজেই নজর কাড়ে। সাশ্রয়ী দামে নানা নকশার গয়না পাওয়া যায় বলে তরুণীদের মধ্যেও এই ধরনের গয়নার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে নিয়মিত ব্যবহারে অনেক সময় গয়নার রং ফিকে হয়ে যায়, কালচে ছোপ পড়ে, হারিয়ে যায় নতুনের মতো উজ্জ্বলতা। সামান্য অসতর্কতাও এর অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই সাধের গয়না দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি।
১. ঘাম জমতে দেবেন না
পূজার মণ্ডপে ঘোরাঘুরি বা দীর্ঘক্ষণ গয়না পরে থাকার ফলে ঘাম জমতে পারে। ঘামের লবণ ও অন্যান্য উপাদান গয়নার ওপর থাকা ধাতব পরতের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাড়ি ফিরে গয়না খুলে নরম, শুকনো কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। তার পর সংরক্ষণ করুন।
২. খোলা জায়গায় ফেলে রাখবেন না
ড্রেসিং টেবিল কিংবা খোলা তাকের ওপর গয়না ফেলে রাখলে বাতাসের আর্দ্রতা ও অন্যান্য উপাদানের সংস্পর্শে তার রং বদলে যেতে পারে। তাই গয়না ব্যবহারের পর শুকনো, পরিষ্কার জায়গায় রাখুন। সম্ভব হলে ছোট জিপলক পাউচ বা গয়না রাখার উপযুক্ত বাক্স ব্যবহার করুন।
৩. পানি বা টুথপেস্ট দিয়ে পরিষ্কার করবেন না
রুপালি গিলটি করা গয়না পরিষ্কারের জন্য পানি, টুথপেস্ট কিংবা ঘষে পরিষ্কার করার উপাদান ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে গয়নার ওপর থাকা রঙের পরত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পরিষ্কারের জন্য নরম, শুকনো কাপড়ই বেছে নিন। গয়নার সঙ্গে বিশেষ পরিচর্যার নির্দেশ থাকলে তা মেনে চলুন।
৪. সব গয়না একসঙ্গে রাখবেন না
হার, ঝুমকা, চুড়ি ও আংটি এক বাক্সে গাদাগাদি করে রাখলে একটির সঙ্গে অন্যটির ঘষা লাগতে পারে। এতে গয়নার উপরিভাগে আঁচড় পড়ার পাশাপাশি রঙের পরতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রতিটি গয়না আলাদা পাউচে অথবা বাক্সের পৃথক খোপে রাখুন।
৫. প্রসাধনী ব্যবহারের পরেই গয়না পরবেন না
পারফিউম, হেয়ার স্প্রে, লোশন ও অন্যান্য প্রসাধনীর রাসায়নিক উপাদান গয়নার রঙের পরতের ক্ষতি করতে পারে। তাই সাজগোজের সময় প্রথমে প্রসাধনী ব্যবহার করে তা শুকিয়ে নিতে হবে। তার পর গয়না পরুন। একইভাবে গয়না খোলার পর তার গায়ে প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ লেগে থাকলে নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন।
রুপালি গিলটি করা গয়নার উজ্জলতা কত দিন থাকবে, তা নির্ভর করে গয়নার গুণমান, ব্যবহারের ধরন ও সংরক্ষণের ওপর। সঠিক যত্ন নিলে পছন্দের হার, ঝুমকা কিংবা চোকার দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব।