বিক্রি বাড়লেও করোনায় চাঙা হয়নি পূজার বাজার

Send
শান্ত সুবোধ
প্রকাশিত : ১৭:৫৫, অক্টোবর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৭, অক্টোবর ২২, ২০২০

শুরু হয়ে গেছে দুর্গাপূজা। উৎসবের কেনাকাটা করতে পূজার কয়েকদিন আগ পর্যন্তও ক্রেতারা ভিড় জমিয়েছিলেন রাজধানীর শপিংমলগুলোতে। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গাউছিয়া এবং বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে। নিউমার্কেট এলাকায় যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নিউ মার্কেটের সামনে রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে বাইরের মতো এত ভিড় ছিল না মার্কেটের ভেতরে।


ছোটদের কাপড়ের দোকানগুলোতে কিছুটা বিক্রি হলেও বড়দের কাপড়ের দোকানে তেমন একটা ভিড় দেখা যায়নি। এতে করে বিক্রেতারা অনেকটাই হতাশ। অভিজাত শপিংমলগুলোতেও ছিল না অতিরিক্ত ভিড়। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি ভালোই।

নিউ মার্কেটের ফুট ওভারব্রিজের নিচে জুতা বিক্রেতা মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে ভালোই লোকজন এসেছে। বিক্রি হয়েছে ভালো বলা চলে। করোনার পরে এবারই প্রথম একটু ভালো বিক্রি হয়েছে।’

জুয়েলারি বিক্রেতা তুষার আহমেদ বলেন, ‘করোনায় ঈদের সময় যতটা বিক্রি হয়েছে, তার চাইতে বেশি বিক্রি হয়েছে এবার। আপনি নিজেই দেখতে পাচ্ছেন মানুষ ভিড় করছে কেমন। বিক্রি খারাপ, এটা কোনোভাবেই বলা যাচ্ছে না।’


গাউছিয়া মার্কেটে শিশুদের পোশাক বিক্রেতা সেলিম বলেন, ‘বিক্রি হচ্ছে মোটামুটি। গত বছর এই সময় যেখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করতাম, এখন সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। এটা খুব ভালো এমনটা বলা যাচ্ছে না।’

উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় নূর ম্যানশনের পূর্ণিমা শাড়ির দোকানে। সেখানের শাড়ি বিক্রেতা মোশাররফ বলেন, ‘আমাদের শাড়ির চাহিদা সারা বছরই থাকে। উৎসবের সময়গুলোতে একটু বেশিই চাপ থাকে। পূজা উপলক্ষেও ভালোই বিক্রি হয়েছে।’

নিউ মার্কেটের প্যান্ট বিক্রেতা ফারুক বলেন, ‘মার্কেটে লোকজনও নেই, বিক্রিও নেই। করোনাকালীন সময়, তাই হয়তো শুধু ছোটদের পোশাকের দোকানে ভিড়। ছোটরা তো সুবিধা-অসুবিধা বোঝে না, ওদের কাছে উৎসব মানেই আনন্দ।’

শার্ট বিক্রেতা অপু বলেন, ‘করোনার আগে বিভিন্ন উৎসবের সময় দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু এখন বিক্রি হয় ২/৩ হাজার টাকা। করোনায় এখন আর আগের মতো ব্যবসা নেই। জানিনা এ দুর্দশা কবে ঠিক হবে।’

নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক মার্কেট ঘুরে যেমনটা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা তার উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে ব্র্যান্ডেড ফ্যাশন আউটলেটগুলোতে। তারা জানিয়েছে পূজা উপলক্ষে বিক্রি ঠিকঠাক হয়েছে। তবে যতটুকু প্রত্যাশা ছিল, করোনার কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

বসুন্ধরা সিটির দেশালের ইনচার্জ আশফাক আহমেদ বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল গত শুক্র ও শনিবার। সে সময়টাতে ভালো বিক্রি হয়েছে। তবে এ কয়েকদিনও ভালো বিক্রি হয়েছে। পূজা উপলক্ষে আনা হয়েছিল বেশ কিছু নতুন ডিজাইন। সব মিলিয়ে খারাপ বলার সুযোগ নেই।’

বিশ্বরঙ এর ম্যানেজার শাহীন আহমেদ বলেন, ‘এবারের পূজায় শাড়ি পাঞ্জাবিসহ সব মিলিয়ে ১৭ থেকে ১৮টি নতুন ডিজাইন আনা হয়েছে। পূজোর বিক্রি কোরবানি ঈদের চেয়েও ভালো হয়েছে। ক্রেতার আনাগোনাও বেশ ভালো ছিল। ক্রেতারা হয়তো করোনা ভুলে আবারো উৎসবে মেতেছে।’

ফ্যাশন আউটলেট সারা'র ম্যানেজার রুমানা বলেন, ‘আমাদের পুরো সময়টাতেই ভালো যায়। পূজা উপলক্ষে সবচেয়ে বেশি ভালো ছিল গত শুক্র ও শনিবার। এছাড়া বাকি পাঁচ দিনে ভালো গিয়েছে। পূজায় এই আউটলেটে এবারের বিক্রি গতবারের চাইতে ভালো হয়েছে।’

পূজার বাজার জমে ওঠা নিয়ে বিক্রেতাদের মতভেদ থাকলেও বেশিরভাগই বলছেন করোনার কারণে স্বাভাবিক বাজার ব্যাহত হয়েছে অনেকটাই। অনেক পরিবারেই কেবল শিশুদের পোশাক কেনা হয়েছে। আর্থিক টানাপড়েনের কারণে অন্যান্য সদস্যরা কেনাকাটা না করেই এবার পালন করছেন পূজা।   

/এনএ/

লাইভ

টপ