চার বছর আগে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত লেখক সালমান রুশদি বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে তার ওপর হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত হাদি মাতারের বিরুদ্ধে চলমান সন্ত্রাসবাদ মামলায় তিনি সাক্ষ্য দেন।
আদালতে রুশদি বলেন, ২০২২ সালের ১২ আগস্ট নিউইয়র্কের চতাকুয়া ইনস্টিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার আগে তার ওপর হামলা হয়। পেছন থেকে মঞ্চে উঠে এসে হাদি মাতার তাকে ১৫ বার ছুরিকাঘাত করেন।
রুশদি জানান, প্রথমে তিনি চোয়ালের নিচে ঘুষির মতো কিছু অনুভব করেন। এরপর তার গলা দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তিনি মঞ্চে পড়ে যান ও চারপাশে প্রচুর রক্ত দেখতে পান।
হামলায় রুশদির ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় । বাঁ হাত কিছু সময়ের জন্য অবশ হয়ে যায়। তাকে কিছু সময় ভেন্টিলেটরেও রাখতে হয়েছিল।
আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রুশদি তার ডান চোখের চশমা খুলে দেখান। তিনি ডান চোখ দিয়ে এখন আর দেখতে পান না। তিনি বলেন, হামলার সময় ছুরিটি মস্তিষ্ক থেকে মাত্র এক মিলিমিটার দূরে ছিল।
২৮ বছর বয়সী হাদি মাতার বর্তমানে একটি পৃথক মামলায় ২৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সেই মামলায় তাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এবার ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
মাতার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীর বক্তব্য, হামলার সময় মাতারের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা প্রমাণ করতে পারেনি সরকার।
অন্যদিকে সরকারি কৌঁসুলিরা বলছেন, সালমান রুশদিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মাতার হামলা করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি রুশদিকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছিলেন। রুশদির উপন্যাস ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশের পর এই ফতোয়া জারি করা হয়।
কৌঁসুলিদের দাবি, ওই ফতোয়া এবং হিজবুল্লাহ-সমর্থিত বক্তব্যের প্রভাবে মাতার রুশদিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের মতে, ২০২০ সাল থেকে মাতার রুশদি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে নিজের ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘আমাদের দ্রুত তাকে হত্যা করতে হবে।’
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, এসব তথ্য দিয়ে হামলার সময় মাতারের মানসিক অবস্থা বা সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় না।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রুশদি বলেন, তিনি জানতেন না মাতারের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না। তবে তার সন্দেহ ছিল।
সালমান রুশদি ১৯৮১ সালে ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ উপন্যাসের জন্য বুকার পুরস্কার পান। ২০২২ সালের হামলার পর তিনি তার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘নাইফ: মেডিটেশনস আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড’ মার্ডার নামে একটি স্মৃতিকথাও প্রকাশ করেন।









