X
সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২
২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

ইন্দিরাকে ছোট দুই ভাইবোনের চিঠি এবং ইন্দিরার জবাব

সংগ্রহ ও ভূমিকা : বাশার খান
১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৩৯আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৪৪

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বের কিছু মহৎপ্রাণ নেতা। এই তালিকায় সবার আগে যাঁর নাম আসে তিনি আমাদের বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের অবদান যেমন সর্বাধিক ছিল তেমনি আন্তর্জাতিক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ইন্দিরা গান্ধীর, এটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতে বৈদেশিক ও রণনীতির বিষয়ে যে বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে তার কেন্দ্রে ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। একইসঙ্গে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি প্রহসনমূলক বিচারে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সর্বাত্মক পরিকল্পনা করে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তখন বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে অগ্রণী ভূমিকাও রাখেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর প্রাণরক্ষা, বাংলাদেশে পরিচালিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা এবং ভারতে আশ্রয় পাওয়া এককোটি শরণার্থীর দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরতে তিনি বিশ্বসফরে বের হন। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সার্বিক দিক বিবেচনায় ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তাঁর প্রতি বঙ্গবন্ধু নিজেও বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানান প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিকামী বাঙালিরা।

দৈনিক বাংলা, ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২

ইন্দিরা গান্ধীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে। ঢাকার মিন্টু রোডের বাসিন্দা দুই কিশোর ভাইবোন পরসা ও সাঈদ, যুদ্ধকালীন নয়মাসের বন্দিজীবন থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতার আনন্দে কৃতজ্ঞতা জানাতে একটি চিঠি লিখেন ইন্দিরা গান্ধীকে। পরসা ও সাঈদ ভাবতেই পারেনি এই চিঠির উত্তর তারা পাবেন দ্রুতই এবং অকৃত্রিম স্নেহ-ভালোবাসায়। ইন্দিরা গান্ধী ‘৭২ এর ৩০ জানুয়ারি চিঠির উত্তর লিখে পাঠান পরসা ও সাঈদকে। সেই চিঠি দুই কিশোর ভাইবোন হাতে পান ফেব্রুয়ারিতে। ইন্দিরা গান্ধীর পাঠানো চিঠিটি ‘৭২-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বাংলা পত্রিকার প্রকাশিত হয়।

পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর হাতে দুই কিশোর ভাইবোনের চিঠি পড়া ও তার আন্তরিক জবার দেওয়ার সময় থাকার কথা না। কিন্তু চিঠির জবাব দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়েও মহৎপ্রাণ ও উদারতার জ্বলন্ত প্রমাণ রাখেন ইন্দিরা গান্ধী। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ্য নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমিক জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুতই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হবে—চিঠিতে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইতিহাস আবেগ নির্ভর নয়। কিন্তু দুই কিশোর ভাইবোন ও ইন্ধিরা গান্ধীর এই কৃতজ্ঞতাপূর্ণ চিঠি বিনিময় আবেগকে স্পর্শ করেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে থাকবে। তাই এই চিঠির ঐতিহাসিক মূল্য অনেক।

পাঠকদের জন্য ইন্দিরা গান্ধীর চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

प्रधान मची भवन

PRIME MINISTER'S HOUSE

NEW DELHI January 30, 1972

Dear Parsa and Sayeed,

Thank you so much for your letter. Even though I am extremely busy, I try to reply to all my letters. You know that we in India have the greatest friendship for the people of Bangla Desh and admiration for their determination and spirit of sacrifice.

The period after independence is always the most difficult but I am sure that with the inspiring leadership of your Prime Minister and the dedication of the entire people, you will be able to overcome obstacles and that Bangla Desh will have a bright future.

With good wishes,
Yours sincerely,

(Indira Gandhi)
Parsa and Sayeed,
9, Minto Road, Dacca-2 (Bangla Desh)

---০---

ইন্দিরা গান্ধীর চিঠি

চিঠির অনুবাদ

প্রধানমন্ত্রী ভবন
নয়দিল্লি
৩০ জানুয়ারি ১৯৭২
প্রিয় পরসা ও সাঈদ,

তোমাদের চিঠিটার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি সত্যিই খুব ব্যস্ত, তবুও আমার সমস্ত চিঠির উত্তর দিতে আমি সবসময় চেষ্টা করি। তোমরা জানো যে আমরা ভারতীয়রা আজ বাংলাদেশের জনগণের বিশেষ বন্ধু। বাংলার জনগণের আত্মত্যাগের মহিমা এবং তাঁদের দৃঢ় সংকল্প আমাদের মনে শুদ্ধার ভাব বয়ে আনে।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়টা সর্বদাই অত্যন্ত কঠিন হয়ে থাকে কিন্তু আমি নিশ্চিত যে তোমাদের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দীপনাময় নেতৃত্বে এবং জনগণের ঐকান্তিক চেষ্টায় তোমরা সকল বাধা দূর করতে সক্ষম হবে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

তোমাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

পরসা ও সাঈদ
৯, মিন্টো রোড
ঢাকা—২ (বাংলাদেশ)


তোমাদের বিশ্বস্ত
ইন্দিরা গান্ধী

 

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আইএমএফ-এর ঋণ পেতে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত মানতে হতে পারে
আইএমএফ-এর ঋণ পেতে বাংলাদেশকে যেসব শর্ত মানতে হতে পারে
তুরাগে ভাঙারির দোকানে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪
তুরাগে ভাঙারির দোকানে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪
রাজশাহীতে পাটের দামে খুশি কৃষকরা
রাজশাহীতে পাটের দামে খুশি কৃষকরা
আমেরিকায় ৪ মুসলিম হত্যা: তীব্র নিন্দা বাইডেনের
আমেরিকায় ৪ মুসলিম হত্যা: তীব্র নিন্দা বাইডেনের
এ বিভাগের সর্বশেষ
সুরের বিকৃতি এবং মৌলবাদ
রবীন্দ্রসংগীতসুরের বিকৃতি এবং মৌলবাদ
লেখক হওয়ার জন্য জন্ম যার ।। পর্ব—১
পথে নেমে পথ খোঁজালেখক হওয়ার জন্য জন্ম যার ।। পর্ব—১
একেকটি শব্দ হয়ে যেতে পারে একেকটি পথ : জাকির জাফরান 
একেকটি শব্দ হয়ে যেতে পারে একেকটি পথ : জাকির জাফরান 
আবুল হাসানের মানবপ্রেম
আবুল হাসানের মানবপ্রেম
তর্জমায় শেষ বলে কিছু নেই : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
তর্জমায় শেষ বলে কিছু নেই : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়