শামসেত তাবরেজীর ‘নামের নকশা’

সাহিত্য প্রচ্ছদ
২৮ মার্চ ২০২২, ১০:০০আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২২, ১০:০২

কবি ও শিল্পী শামসেত তাবরেজীর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে, চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘নামের নকশা’। 
ঢাকার মোহাম্মদপুর ১/১১ ইকবাল রোডের কলাকেন্দ্রে প্রদর্শনী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইন, শিল্পী মুস্তাফা জামান এবং শিল্পী জাভেদ জলিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলাকেন্দ্রের শিল্পী ও কিউরেটর ওয়াকিলুর রহমান। প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে শিল্পীর বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা ৬৫টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন সিলভিয়া নাজনীন।
শামসেত তাবরেজীর জন্ম ১৯৬১ সালে ঢাকায়। পিতৃভূমি টাঙ্গাইল সদর, তারও আগে আটিয়া পরগণা। 
শামসেত তাবরেজীর ‘নামের নকশা’ কিউরেটর সিলভিয়া নাজনীন লিখেছেন, “নাম, বা নামের মধ্যে যেই ক্ষমতা- শামসেত তাবরেজী সেই ক্ষমতাকে বিচূর্ণ করতে চান। আর সেই লক্ষ্যেই তিনি নামকে এবং নামের অন্তর্গত ক্ষমতাচক্রকে ‘নকশা’ বলে অবিহিত করেন। 
অর্থাৎ নাম ও তার ক্ষমতাকে ‘স্যাটায়ার’ কিংবা ‘উপহাস’ করবার প্রতি তিনি অন্যদেরকেও আমন্ত্রণ জানান। 
এবং বলেন, আমাদেরকে নাম ফেলে দিয়ে এক নামহীন পর্যায়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। এবং সেভাবেই আমাদেরকে একাকার হতে হবে। 
তবে প্রশ্ন হলো, শিল্পী তাবরেজীর ছবিও কি সেই কথা বলে? 
তাবরেজী এই প্রশ্নের উত্তর এভাবে দেন- “ছবি আঁকিতে গিয়া দেখিলাম, রেখা তো আজব বস্তু! তাহার আবার গতি আছে, এই গতিই বিন্দুকে যেমন রেখা করিতেছে তেমনি আবার নানাকিছু বানাইতেছে। কতক তাহা দুনিয়াতে ছড়াইয়া ছিটাইয়া বস্তুর নকল, কখনো তাহা কিছুর সঙ্গেই মেলে না, বর্ণাবলেপনে তাহারা যেন সবাক হইতে চাহিতেছে। মজিয়া গেলাম এই খেলায়...”
তাবরেজীর এই উত্তরের পরে আমরা বুঝতে পারি, এই যে বিন্দু, রেখা আর গতির নিজস্ব চলাচলের মধ্য দিয়ে যেই ‘নাই-ভাষা’ বা ‘নামহীনে’র তৈরি হচ্ছে, তিনি তার জন্যই চিত্রভাষার আশ্রয় নিয়েছিলেন। 
তাবরেজী তার দীর্ঘ লেখকজীবনের মধ্য দিয়ে যেই ভাষা, বা অক্ষর বা নামের মধ্য দিয়ে যেই ক্ষমতাস্তম্ভ তৈরি করেছিলেন, এবার তিনি ‘নাই’-য়ের মধ্য দিয়ে সেইসব স্তম্ভকে বিচূর্ণ করতে চান।’”
শামসেত তাবরেজীর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: ‘মুহূর্তমা’, ‘তক্তা’, ‘অবিরাম অরেঞ্জ’, ‘দুজনেষু’, ‘হে অনেক ভাতের হোটেল’ ইত্যাদি। 

/জেডএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম