X
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২
১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
সাক্ষাৎকার

বাংলা সাহিত্য ইরানে সমাদৃত হবে : শাকির সবুর  

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : জাহিদ সোহাগ
১৫ জুন ২০২২, ১৫:৪০আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ১৬:০০

শাকির সবুর এবছর ২৯তম ইরান’স ওয়ার্ল্ড বুক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তার সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা গ্রন্থের জন্য। গত ১৫ মার্চ তেহরানের ওয়াহদাত মিলনায়তনে ইরানের রাষ্ট্রপতি সাইয়েদ ইবরাহিম রায়িসি এই পুরস্কার প্রদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুস সবুর খান, যার লেখক নাম শাকির সবুর। তিনি গল্প-উপন্যাস রচনার পাশাপাশি আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্য ও ফারসি কথাসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম বাংলা ও ফারসি ভাষায় অনুবাদ করছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা বিশের অধিক।


প্রশ্ন : আপনি এবছর মার্চে ইরান’স ওয়ার্ল্ড বুক অ্যাওয়ার্ড পেলেন, এই পুরস্কারপ্রাপ্তিতে আপনার অনুভূতি ও পুরস্কার সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : খুবই ভালো লাগছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় রচিত ১৬০০ বই থেকে আমার ‘সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা’ বইটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত, অভিভূত। আমি মনে করি এই পুরস্কার আমার একার নয়, সমগ্র বাঙালি জাতির।
প্রতিবছর ইসলামি স্থাপত্য, ইসলামি অর্থনীতি, নৈতিকতা, ধর্মতত্ত্ব, ইরান অধ্যয়ন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে ইরানের বাইরে প্রকাশিত গ্রন্থাবলি থেকে বাছাই করে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থটি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়। এ বছর ২০২০ এবং ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত এরকম ১৬০০ গ্রন্থ থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ে ৯৭টি গ্রন্থ নির্বাচিত হয়। পরে ২২ জন রিভিউয়ারের ২৩টি গ্রন্থ পুরস্কারের জন্য প্যানেলভুক্ত হয় এবং জুরিবোর্ড এই ২৩টি গ্রন্থ থেকে ৫টি গ্রন্থকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেন। বাংলাদেশ থেকে আমার ‘সমকালীন ইরানের কবি ও কবিতা’, আমেরিকান লেখক সুসান মখবেরি’র ‘The Persian Mirror : Reflection of the Safavid Empire in Early Modern France’, ব্রিটিশ লেখক সিমন ও মিরা’র ‘The Kaba Orientation : Reading is Islam’s Ancient House, জার্মান লেখক উর্লিচ মার্জল্ফ এর 101 Middle East Tales and Their Impact on Western Oral Tradition এবং চাইনিজ লেখক শেন ইমিং এর ‘Jami’s Baheristan. পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয় একটি ক্রেস্ট, একটি সম্মাননা এবং নগদ দশ হাজার ডলার। ইরানের মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিজহাতে এই পুরস্কার প্রদান করেন।

প্রশ্ন : আপনি ফারসি থেকে বাংলায় এবং বাংলা থেকে ফারসিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখা অনুবাদ করেছেন, বাংলাদেশে ফারসি সাহিত্যের পাঠক কেমন? আমরা জানি মাদ্রাসায় ফারসি পড়ানো হয়, সেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফারসি সাহিত্যের সংযোগ কেমন?
উত্তর : ফারসি ভাষা যেহেতু ১২০৪ থেকে ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাসহ সমগ্র ভারতবর্ষর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক ভাষা ছিল। অপর দিকে এই অঞ্চলের বহু কবি-সাহিত্যিক ফারসি ভাষায় সাহিত্যচর্চা করেছেন এবং ফারসি ভাষার ক্লাসিক কবিদের শ্রেষ্ঠকর্মগুলো অনেক আগ থেকেই বাংলা ভাষায় অনূদিত হচ্ছে, সেকারণে সাহিত্যের পাঠকদের মধ্যে একটা বড় অংশ ফারসি সাহিত্য পাঠে আগ্রহী। তবে আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে যেভাবে ফারসি পড়ানো হয় তা মূলত প্রায়োগিক নয়। প্রাচীন ধারার কিছু কাব্যগ্রন্থ তাঁরা অনেকটা মুখস্থ করার মতোই পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়েই কেবল প্রায়োগিক ফারসি পড়ানো হয়। যেখানে আধুনিক ফারসি ভাষা থেকে শুরু করে চিরায়ত ধারার ফারসি গদ্য-পদ্য এবং সমকালীন ফারসি কাব্যসাহিত্য ও কথাসাহিত্য পাঠদান করা হয়।

প্রশ্ন : আমরা সাধারণ পাঠকেরা ক্লাসিক যুগের সাহিত্য সম্পর্কে কমবেশি জানি; কিন্তু সমকালীন সাহিত্য থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নতা কীভাবে ঘোচানো যায়?
উত্তর : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে বিশ শতকের শেষ দশক থেকেই মূলত সমকালীন ফারসি সাহিত্য বাংলায় অনূদিত হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে অনেকেই সমকালীন ফারসি সাহিত্য অনুবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সমকালীন ফারসি সাহিত্য যত বেশি অনূদিত হবে তার পাঠকও তত বৃদ্ধি পাবে। কারণ সমকালীন ফারসি সাহিত্যও ক্লাসিকযুগের ফারসি সাহিত্যের মতো বিষয়, বক্তব্য ও শৈলীতে সমৃদ্ধ।

প্রশ্ন : আমরা ইরানকে দেখি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, আপনি কীভাবে দেখেন? চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে দেখার সীমাবদ্ধতা আছে কী?
উত্তর : চলচ্চিত্রও সাহিত্যের মতো একটি শিল্পমাধ্যম। ইরানি চলচ্চিত্রের সিংহভাগই নির্মিত হয় সাহিত্য অর্থাৎ কোনো গল্প বা উপন্যাস কিংবা কবিতার ওপর ভিত্তি করে। আর সেকারণেই ইরানি চলচ্চিত্রের কাহিনি এতটা জীবনঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে। আমি মনে করি চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে দেখায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কারণ চলচ্চিত্রের নিজস্ব একটা ভাষা আছে। তাই দর্শককে অন্য ভাষার চলচ্চিত্র দেখার জন্য সেই ভাষাটা আলাদা করে শিখতে হয় না। বরং সাহিত্যের মাধ্যমে দেখাতেই সীমাবদ্ধতা বেশি। কারণ পাঠকের সেই ভাষাটা জানা না থাকলে তাকে অনুবাদের আশ্রয় নিতে হয়।

প্রশ্ন : খোমিনীর ইরান কি মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও সৃজনশীলতাকে নস্যাৎ করেছে? ইরানের লেখকরা কি ইরানে বসে লিখতে পারেন? এ ব্যাপারে জানতে চাই।
উত্তর : মোটেই নয়। বরং খোমেনীর যুগে ইরানের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা পূর্বের শাসকদের তুলনায় অধিক পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে বেশিরভাগ ইরানি লেখকরা ইরানে বসেই তাঁদের শ্রেষ্ঠ লেখাটি লিখছেন। আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ইরানি যত চলচ্চিত্র এবং সাহিত্য তার সবই তো ইরানে বসেই লেখা এবং ইরানের ভেতরই নির্মিত।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের সাহিত্য ফারসি ভাষার পাঠকের কাছে কতটা আদরণীয় হতে পারে, যদি অনুবাদ হয়?
উত্তর : রবীন্দ্রনাথের বহু লেখা ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়ে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবদ্দশায়ই ইরানে পরিচিত এবং জনপ্রিয় হয়েছেন। অথচ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ইরানিরা চিনেছে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে। কারণ এর আগে বাংলাদেশের কোনো কবি-সাহিত্যিকের লেখা ফারসি ভাষায় অনূদিত হয়নি। হুমায়ূন আহমেদের উপান্যাস ‘গৌরিপুর জংশন’ [শাকির সবুর অনূদিত- সম্পাদক] ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ফারসি ভাষায় অনূদিত হলে সেটিও ইরানের বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। সুতরাং, বলা যায় বাংলা সাহিত্য যদি ফারসিতে অনূদিত হয় তা ইরানে অবশ্যই সমাদৃত হবে।

/জেডএস/
পুরস্কার হিসেবে আর মন্ত্রী নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম
পুরস্কার হিসেবে আর মন্ত্রী নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম
খেলনা ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে শিশু নিহত
খেলনা ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে শিশু নিহত
খেলাধুলা পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে: মেয়র আতিক
খেলাধুলা পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে: মেয়র আতিক
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল খারিজ
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল খারিজ
সর্বাধিক পঠিত
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
পোল্যান্ডের জয়ে আরও চাপে মেসিরা
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলো ন্যাটো
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
আবারও নাসিমের অনুসারীদের পেটালো বিএনপির সমর্থকরা
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
মেসি-ফের্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয়
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী
ম্যাজিস্ট্রেটের মামলায় কারাগারে স্বামী