ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর বদলে ইউক্রেনের ওপর চাপ তৈরি করেছেন। সাংবাদিক লুক হার্ডিং তার নতুন বই ‘বিট্রেয়াল: ট্রাম্প, পুতিন অ্যান্ড দ্য নিউ এজ অব কনকোয়েস্ট’-এ এই পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখেছেন।
বইটির মূল বিষয় ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক। হার্ডিং প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প কি শুধু স্বৈরশাসকদের প্রতি আকৃষ্ট, নাকি রাশিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কের পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ আছে?
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে দ্রুত ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলে দেন। তিনি ইউক্রেনকে দেওয়া আগের মার্কিন সহায়তার সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ওপর বিশেষ সুবিধা দাবি করেন। এক পর্যায়ে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়।
এরপর ইউক্রেনের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তাও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থান আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেছিলেন, পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক দ্রুত যুদ্ধবিরতি আনতে পারে। কিন্তু পুতিনের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন। তিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড়ার দাবি থেকে সরে আসেননি।
হার্ডিং তার বইয়ে শুধু রাজনৈতিক বৈঠকের কথা বলেননি। তিনি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রেও গেছেন। ওডেসায় রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি শিশু চিকিৎসাকেন্দ্রের ঘটনাও তিনি তুলে ধরেছেন। এমন অনেক ঘটনার মাধ্যমে তিনি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়েছেন।
বইটিতে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের ভূমিকা এবং ইউরোপকে পুতিনের চাপের মধ্যে রাখার কৌশলও আলোচনা করা হয়েছে। ইউরোপের আকাশসীমায় ড্রোন পাঠানো এবং সমুদ্রের নিচে ইন্টারনেট কেবলে নাশকতার মতো ঘটনাও সেখানে এসেছে।
তবে বইটির সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্ন ট্রাম্পকে ঘিরে। ট্রাম্প কি রাশিয়ার ‘অ্যাসেট’ বা স্বার্থের পক্ষে কাজ করা ব্যক্তি?
হার্ডিং সরাসরি এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তিনি বরং প্রশ্নটি সামনে রেখেছেন। ট্রাম্প কি ক্ষমতাবান স্বৈরশাসকদের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ? নাকি রাশিয়ার হাতে তার বিরুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য কোনো তথ্য আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট। ট্রাম্পের নীতি পুতিনকে সুবিধা দেওয়ার মতো দেখালেও পুতিন নিজেই ট্রাম্পের প্রতি হতাশ হতে শুরু করেছেন। কারণ ট্রাম্প এখনো ইউক্রেনকে তার কাঙ্ক্ষিতভাবে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেননি।
এখানেই বইটির সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তৈরি হয়। ট্রাম্প যদি সত্যিই রাশিয়ার স্বার্থে কাজ করতেন, তাহলে তিনি আর কী করতেন?
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








