‘বইয়ের পাতা স্বপ্ন বলে’ পাণ্ডুলিপি থেকে

Send
সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:২০, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২৬, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২০

অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রথম দিনে প্রকাশিত হয়েছে মৌলি আজাদের কিশোর গ্রন্থ ‘বইয়ের পাতা স্বপ্ন বলে’। বইটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। বইমেলায় আগামী’র ১ নম্বর প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাবে বইটি। প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রব এষ। দাম রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা।

সমকালীন যেসব বিষয় নিয়ে কিশোরদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ রয়েছে সে বিষয়গুলো নয়টি গল্পের মাধ্যমে বইটিতে তুলে ধরেছেন মৌলি আজাদ । নয়টি গল্পের মধ্যে পাণ্ডুলিপি থেকে একটি গল্প বাংলা ট্রিবিউনে পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

ট্রমা

বহুদিন পর সালাউদ্দিন সাহেবের সাথে কেরামত আলির দেখা। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরেন। আলিঙ্গন পর্ব শেষে সালাউদ্দিন সাহেব কেরামত আলিকে বলেন চলুন মেয়ে পিংকির সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।

ও পিংকি মামনি। কতদিন দেখি না তাকে। তা মামনি কোথায়—বলেন কেরামত আলি।

সালাউদ্দিন সাহেব বলেন : আসুন...আসুন।

পিংকি সালাউদ্দিন সাহেবের মেয়ে। বয়স ১২। ক্লাস সিক্সে পড়ে। ফর্সা গোলাপী গায়ের রং। গোলগাল চেহারা। ভীষণ সুইট। স্বভাবে লাজুক। বাড়ন্ত শরীর।

সালাউদ্দিন সাহেব কেরামত আলিকে বলেন, এই যে পিংকি।

কেরামত আলি চোখ ড্যাবড্যাব করে পিংকির দিকে তাকিয়ে বলেন, ওমা। এটা সেই পিংকি। যাকে ছোটবেলায় বাড়িতে গিয়ে বহুবার কোলে নিয়েছি। সেই পিংকি এত বড় হয়ে গেছে!

হ্যাঁ গো হ্যাঁ, আপনাদের পিংকি মামনি এখন ক্লাস সিক্সে পড়ে।

মাশাল্লাহ্ বলেই কেরামত সাহেব পিংকিকে আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরেন।

পিংকির বাবারও কেরামত আলির তার মেয়ের প্রতি স্নেহ দেখে মনটা ফুরফুরে লাগে। আজকালকার দিনে অন্তর দিয়ে কেই বা কাকে ভালবাসে? এখনও কেরামত সাহেবের মত লোক দুনিয়ায় আছে বলেই রক্ষা।

পিংকিকে জড়িয়ে ধরে কেরামত আলি পিংকির চুলে হাত বোলায়। গোলাপী গাল আদর করে জোড়ে টিপে দেয়। অস্বস্তি লাগে পিংকির। হাঁসফাস লাগে।

কিন্তু বাবার বন্ধু বলে কিছু বলতেও পারে না সে। শেষে কোনোরকমে নিজ চেষ্টায় ছাড়া পায় সে। এতক্ষন পিংকির  মনে হচ্ছিল যেন বিরাট একটা অজগর সাপ তাকে পেঁচিয়ে আছে।

দাঁত কেলিয়ে কেরামত আলি পিংকিকে বলে আরও বড় হও। দোয়া করি।

পিংকি কিছু বলে না। মুখ গোমড়া করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে।

কেরামত আলি সালাউদ্দিন সাহেবকে বলেন—খুব ঠান্ডা মেয়ে তোমার ।

একদম ঠিক বলেছ বন্ধু। আমার মায়ের মত হয়েছে। তাইতো ওকে আমি ডাকি আমার দ্বিতীয় মা।

বাহ্ বাহ্। বেশ বেশ। কেরামত আলি আবারও পিংকির মাথায় হাত বোলাতে চায়।

বুদ্ধিমতি পিংকি বুদ্ধি করে যেন একটু পিছিয়ে যায়।

কেরামত আলি আবারও দাঁত বের করে হাসে।

সালাহউদ্দীন সাহেব বলেন আজ তবে আসি। নিশ্চয় আবার দেখা হবে।

নিশ্চয়। নিশ্চয়।

বাড়ি যেতে যেতে সারা রাস্তায় মুখ ভার করে থাকে পিংকি।

পিংকির বাবা বারবার মেয়ের দিকে তাকায়।

কিছু হলো কি পিংকির?

মা পিংকি এত চুপচাপ কেন?

পিংকি কোন উত্তর দেয় না। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে।

তোমার অনুষ্ঠান ভাল লাগেনি?

পিংকি বাইরেই তাকিয়ে থাকে। মনে হয় সে বাবার কথা যেন শুনতেই পায়নি।

অনুষ্ঠানে সমবয়সী খুব বেশি পায়নি বলেই মনটা ভার, পিংকির বাবা ভাবে।

পিংকির কেন যেন ভীষণ-খারাপ লাগে। মনটা খচখচ করে। চোখ ফেটে পানি বের হয়ে আসতে চায়। কিন্তু  বাবার সামনে সে কাঁদতে চায় না।

বাবা জিজ্ঞেস করলে তবে কী বলবে সে? কেরামত কাকুর তাকে এভাবে জড়িয়ে ধরাটা তার কাছে ছিল ভারি অস্বস্তিকর, বিব্রতকর—এ কথাটা কি বাবাকে বলা যায়?

হয়তো বাবা এতে তাকে উল্টো বকা দিবে।

বাবাকে তো সে বোঝাতে পারবে না কাকুর স্পশর্টা ছিল ভীষণ রকমের নোংরা। সে যে বড় হচ্ছে। তার যে শারীরিক পরিবর্তন হচ্ছে। সেটা কি তবে বড়রা বোঝে না? এটা বড়দের কাছে শুধুই আদর, নাকি অন্যকিছু?

বাবাকে বলা যাবে না, তবে কি মাকে বলবে পিংকি?

না না...মাকে বলা যাবে না। মা বলবে যতসব উল্টো-পাল্টা চিন্তা। ইউটিউব দেখে দেখে একদম পেকে গেছো। কোনো কিছুই নরমালি চিন্তা করতে পারো না।

পিংকির কিছু ভাল লাগে না। শুধু ইচ্ছা হয় মরে যেতে।

পিংকি ঠিক করে কাকু নামক এরকম মানুষগুলোর থেকে সে দূরে থাকবে।

 

মোবারক বয়স ১৬। হালকা পাতলা গড়ন। গায়ের রং শ্যামলা। মিষ্টি চেহারা। চুল ছোট। চঞ্চল স্বভাবের। সবসময় হাসিখুশি। ইদানিং ঠোঁটের ওপর হালকা গোঁফের রেখা দেখা যায়। সে মুদি দোকানে কাজ করে। মা মারা যাওয়ার পর বাবাটাও মাস ঘুরতে না ঘুরতেই নতুন মা ঘরে নিয়ে আসে। নতুন মা আসার পর আর কি ঘরে থাকার জো থাকে!

কিছুদিনের মধ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে বুড়ি নানিটার কাছে চলে আসে। নানির কি আর তাকে পালাপোষার সামর্থ আছে? নানির নিজেরই তো দিন চলে না। নানির অসামর্থ্যতা মুখ ফুটে কিছু বলতে হয় না। বুদ্ধিমান ছেলে মোবারক নিজেই তা বুঝে নেয়। নানির সাথে থাকার সময় পান্তা ভাতের সাথে পোড়া মরিচ ডলা দিয়ে দিয়ে মোবারক নানির পাশে বসে খেতো। আর মোবারকের মনে সুখ জাগতো, যখন নানি রাতে ঘুমানোর সময় তার শীর্ণ, খসখসে হাত দিয়ে মোকারকের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতো। নানি ছাড়া এ পোড়াকপালে কেই বা হাত দিয়েছে!

কিন্তু তার যে পোড়াকপাল। নানির হাতের সামান্য ছোঁয়াটুকু পাওয়ারও আর তার উপায় নেই। গত শীতে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় নানি ও যে চোখ বুজেছে। এখন মোবারকের চারদিকে নিজের বলতে কেউ নেই। গরীবের পোলা সে। তার জীবনের চলার পথ যে বড় কঠিন অল্প বয়সেই মোবারকের তা বোঝা হয়ে গেছে। কি আর করা? নিজের জীবন যুদ্ধের হাল সে একাই ধরে।

মুদি দোকানে কাজ করে মোবারক। পাড়ার মোড়ের পাশে দোকানে কতরকম লোকজন যে আসে! দোকানের সামনে নড়বড়ে বেঞ্চে বসে লোকজনে কতো কিছু নিয়ে যে আলাপ করে। দেশের কত রকমের অবস্থার কথা যে মোবারক শোনে। কেউ কেউ বলে দেশটা এমনভাবে চললে আর আমাগো পিছনে ফিরে তাকাইতে হইবে না। আবার কেউ বলে দেশের প্রধান শত্রু হইলো দু...র...নিতি । এটা যে কি সমস্যা মোবারক বোঝবার পারে না। তবে  মনে মনে বুইঝা নেয়। এটা আসলে দেশের জন্য একখান ঝামেলা ।

মুদি দোকানের জিনিসপত্র সাপ্লাইনেয়া, হিসাব রাখার কাজগুলো অল্পদিনেই সে শিখে নেয়। সে তো জানে কাজ না জানলে তার পেটটায় আগুন জ্বলবে কেবল। পেট ঠান্ডা করার জন্য কোন মানুষ তো তার এ দুনিয়ায় নাই। ভাল মত কাজ পারায় মহাজনের মনটা তার প্রতি একটু নরম। প্রায়ই মহাজন বলে ও কেরামত মাঝে-মধ্যে হাউস হলে একটা/দুইটা লেবেন চুষ বোয়াম থাইকা নিয়া খাইস।

মোবারক খায় তবে খুব বেশি না। সে যে মেসে থাকে সেই মেসের এক পোলারে একখান কুকিজ খাওয়ার অপরাধে হেই পোলার মহাজন মাইরা পিঠে দাগ পরাইয়া দিছিল। লেবেনচুষের বয়ামের দিকে তাকাইলে ঐ পোলার পিঠের দাগের কথা মোবারকের মনে পড়ে যায়।

মোবারক আস্তে কইরা জ্বিহবার লকলকানি থামায়। দোকানে চা- সিঙ্গারা- সিগারেট পান- বিড়ির ডিমান্ড। পাড়ায় অবশ্য কিছু মাস্তান কিছিমের পোলাপান আছে। তারা আইসা মাঝে মধ্যে মোবারকরে ধমক দিয়া বাকিতে চা সিগ্রেট খায়। মোবারকের ছোট মাথায় মনে হয়- এইটাই হইল গিয়া দুরনিতি।

পাড়ার মাস্তান কিছিমের লোক এরা। এদের সাথে ঝামেলায় যাওন যাবে না। তাই মোবারক কায়দা কইরা তাদের লাইনে আনে। তাগো সাথে টুকটাক আলাপ করে। মোবারকের মায়াভরা চেহারা আর মিষ্টি মিষ্টি কথায় দিনদিন বাকিতো খাওন তারা কমায়। আসলে এই দোকান আর দোকানের কাস্টমারগুলাই মোবারকের পৃথিবী। মহাজনের হুকুম রাত ১০টা বাজনের সাথে সাথে দোকান বন্ধ কইরা দিতে হইবো।

কিন্তু দোকান বন্ধ করতে মোবারকের ভালো লাগেনা। দোকান বন্ধ করার পরতো আসলে মোবারকের কোন কাজ থাকে না। তার তো পড়ন-লেখন নাই। মাও নাই যে তার জন্য বাসায় বইসা থাকব। দোকান বন্ধ মানে তার মেসে ফেরৎ যাইতে হইবো। একরুমের স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার একটা রুমে তারা সাত আটজন থাকে। কেউ তার মত দোকানদারি করে, কেউ ফেরিওয়ালা, কেউ বা গাড়ির ইঞ্জিন ঠিক করার কাজ করে। আবার ২/১ জন রেস্তোরায় ফুটফরমাইস খাটে।

রুমে তাদের সবারই বয়স প্রায় কাছাকাছি। শুধু একজন বড় ভাই আছেন। লম্বা চওড়া। গায়ের রং কাল। থুতনিতে দাঁড়ি। সে যে কি কাজবাজ করে তা কেউই ঠিকমত জানে না। আর তারা সবাই নিজের জীবনের লড়াইয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, তাদের অন্যদের নিয়ে ভাববার সময়টাই বা কোথায়?

দোকানে বসেই অনেকক্ষন এসব এলোমেলো চিন্তা করে মোতাবেক। দোকানে থাকা ছোট্ট ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখে ঘড়ির কাটা প্রায় দশটার ঘরে। মোবারক আর দেরি করে না। সাটার নামিয়ে দোকান বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

চারদিকে অন্ধকার। তবে ঢাকা শহরের রাত ১০টা কি আর কোনো রাত? রাস্তাঘাটে যেমন মানুষ আর তেমন যানজট। এত মানুষ কেন ঢাকা শহরে তাই ভাবতে ভাবতে হাঁটে মোবারক। পরে নিজেই নিজেকে বলে সে নিজেও তো গেরাম থেকেই এ শহরে আসছে। ঢাকা শহর তাগো মত মানুষদের মমতা না দিতে পারে পেটে ভাতে বাঁচতে তো দিতে পারে। এজন্য এ শহরটাকে তার মন্দ লাগে না। দোকান থেকে তার মেসটা প্রায় আধা ঘণ্টা পথ। রাস্তায় চলতে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা রিক্সায় চড়তে মোবারকের সাধ হয়। ইচ্ছা হয় রিক্সায় চেপে হুড খুলে বাতাস খেতে খেতে মেসে ফিরতে।

কিন্তু তাতে যে বেশ কয়টা টাকা তার পকেট গলে বেড়িয়ে যাবে। তা হয়তো ঝলমলে ঢাকা শহরের বড়লোক মানুষদের কাছে নস্যি। কিন্তু মোবারকের কাছে যে তা অনেক কিছু।

মোবারক তাই হেঁটে চলে। তার পা দুটোই যেন রিক্সা। হালকা পাতলা গড়নের মোবারক রিক্সার মত সাঁই সাঁই করে হেঁটে চলে। হাঁটতে হাঁটতে তার পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়া গাড়িতে থাকা মানুষগুলোকে মোবারকের মনে হয় ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। যাদের ধারে কাছে যাওয়া তো দূর কি বাত তাদের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে থাকাও তার জন্য হয়তো অপরাধ।

এসব ভাবতে ভাবতে খুপড়ি মেসের সামনে সে এসে দাঁড়ায়। পা দুটো যেন ধরে আসে। সারাদিন দোকানে কাজের পর এতখানি পথ হাঁটায় শরীরেও ক্লান্তি ভর করে। মোবারকের মত অন্যান্যরা মেসে ফিরতে শুরু করে। কেউবা আগেই ফিরেছে। বাথরুমে মুখ ধোয়ার জন্য সামান্য পানিই রয়েছে। মোবারক মুখে পানির ছিটা দেয় আরকি। মুখ মুছে রুমের একপাশে রাখা মেসের বুয়ার রান্না করা ঠান্ডা সালুন দিয়ে মোবারক খেয়ে নেয়। খাবার পর ছিড়া গেনজি আর লুঙ্গি পরে মেঝেতে পাতা বিছানায় শুয়ে পড়ে । দুচোখের পাতায় নেমে আসে ঘুম। ঘুমিয়ে পড়লে কি আর কারো হুশ থাকে!

কিন্তু কে যেন ঘুমাতে দেয় না মোবারককে। কে যেন তার লুঙ্গিটা নিচে নামিয়ে আনতে চায়। অন্ধকারে দেখতে পায়না মোবারক। দুজনের মধ্যে জাপটা-জাপটি হয়। পাশে শোওয়া সবাই ঘুমে বেহুশ যেন। হঠাৎই মোবারকের মুখের সাথে না দেখা মানুষটার দাঁড়ির খোঁচা লাগে। মোবারকের বুঝতে দেরি হয় না, কে তার শরীরে চড়াও হয়েছে। লড়াকু মোবারক জায়গা মত বড়ভাইকে সজরে লাথি মেরে বিছানা ছাড়ে।

অন্ধকারে দুজোড়া বাঘের  চোখ যেন মোবারকের দিকে তাকিয়ে থাকে।

কী করবে মোবারক এখন? আজ রাতে তো আর তার দু’চোখের পাতা এক হবে না। মোবারক দৌঁড়ে বাথরুমে ঢুকে। তার দু’চোখ বেয়ে বর্ষার বানের মত পানি নামে। তার তো আপন কেউ নেই যে তাকে সে এসব কথা বলবে। কেউ বিশ্বাস করবে না তাকে। তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিবে। তাহলে। এই মেসে এই নোংরা  বড় ভাইর সাথে সে কীভাবে থাকবে?

সে কি বাঁচতে পারবে? নানা রকমের প্রশ্ন কিশোর মোবারকের মাথায় তাড়া করে কেবল।

কেরামত আলী আর মেসের এই বড়ভাই আসলে  অসুস্থ বিকৃত মানুষ। আমাদের সমাজে এরকম অনেকেই আমাদের চারপাশেই ঘুরছে। এইসব অসুস্থ মানুষের শিকার কিশোর-কিশোরীদের থাকতে হয় ভয়ে। তাদের খোলসের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে হয়।

অনেক সময় এরকম দুঃসময়ে মা-বাবা-বন্ধু-স্কুলের শিক্ষক কাউকেই কিশোর কিশোরীরা পাশে পায় না।

তাহলে উপায়?

পিংকি, মোবারকের মত কিশোর-কিশোরীরা যারা এ ধরনের বিকৃত রুচির মানুষের অস্বাভাবিক আচরনের শিকার এরা কি জীবনকে পরিপূর্নভাবে উপভোগ করার আগেই নিজেকে শেষ করে দিবে? নিজেকে শেষ করে দেয়া যে অন্যায়। একবিংশ শতাব্দীর কিশোর-কিশোরীদের কোন প্রতিকূলতায় কাছেই হেরে গেলে চলবে না। অসুস্থ বিকৃত রুচির এসব মানুষগুলোকে ভয় পেলে চলবে না। খুলতে হবে তাদের মুখোশ। নিজেকে বাঁচাতে হবে। বিকৃত-নোংরা চিন্তাভাবনার এ মানুষগুলোর মুখোস সবার সামনে প্রকাশ করলেই বাঁচবে নিষ্পাপ কিশোর-কিশোরীরা। প্রাণ প্রার্চুযে বাঁচতে হবে প্রতিটি কিশোর কিশোরীকে। মনে সাহস রাখো কিশোর-কিশোরীরা।

//জেডএস//

লাইভ

টপ