প্রথম বই নিয়ে কথানিলয় সুন্দরমের ‘নিখোঁজ সংবাদ’

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মেহেদি হক
প্রকাশিত : ১৩:৪৫, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৭, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে নিলয় সুন্দরমের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নিখোঁজ সংবাদ’, প্রকাশ করেছে ‘নাগরী’, প্রচ্ছদ করেছেন আল নোমান। গ্রন্থমেলায় নাগরীর ২২৫-২২৬ নম্বর স্টলে পাওয়া যাবে বইটি। মূল্য ২১০ টাকা।

প্রথম বই প্রকাশের অনুভূতি এবং সাহিত্য-ভাবনা নিয়ে নিলয় সুন্দরম কথা বলেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।

বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন কীভাবে?

বর্তমান সময়ে লেখালেখির অনেক মাধ্যম থাকলেও লেখক হতে চাওয়া প্রত্যেকেই আমার মতো নিজের বই প্রকাশ করার স্বপ্ন এখনও লালন করেন বলে বিশ্বাস করি। প্রেস থেকে প্রিন্ট হয়ে বই আকারে বাঁধাই হয়ে আসা নিজের লেখার গন্ধ মেখে বুক ভরে শ্বাস নেয়ার আকুতি ও পাঠকের পাঠ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ার ব্যকুলতাই আমাকে নিজের লেখা সাতটি গল্পকে সংকলিত করে বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করেছে।

 

শিল্পমান অথবা পাঠকপ্রিয়তা বিতর্কে কাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?

আমার মতে লেখার শিল্পমান এবং পাঠকপ্রিয়তা দুটি একেবারেই ভিন্ন বিষয়। এখানে একটিকে দিয়ে আরেকটিকে বিচার করাই ঠিক নয় বলে এই দুটি বিষয়কে পাশাপাশি বসিয়ে বিতর্ক তৈরি করাই উচিত নয়। কারণ কোনো লেখার যথাযথ শিল্পমান থাকলেই তা অনেক বেশি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবে তার যেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই, আবার কোনো লেখা অনেকবেশি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করলেই তার শিল্পমান অনেক বেশি বা কম সেটাও ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তবে যে লেখায় যথাযথ শিল্পমান বজায় থাকবে,  সময়ের বিবেচনায় তা পাঠকপ্রিয়তা না পেলেও সাহিত্যের মানদণ্ডে তা একদিন সময়ে স্থান করে নেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তারপরও কথা থাকে যে, লেখার শিল্পমান নির্ণয়ের মানদন্ড কী ও তা কীভাবে নির্নীত হয় এবং পাঠকপ্রিয়তা বলতে শুধু বইয়ের বিক্রি বেশিকে বোঝানো হচ্ছে কি না! তাও ভাবনার বিষয়। তবে আমার কাছে একটি লেখার বিষয় নির্বাচন, নিজস্ব উপস্থাপন ও নির্মাণশৈলী দিয়ে পাঠককে নতুন ভাবনার জগতে নিয়ে গিয়ে পাঠানন্দে পুলকিত করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।

 

সমসাময়িকদের সঙ্গে নিজের অবস্থানকে কীভাবে দেখেন?

নিজের লেখা নিয়ে সমসাময়িক লেখকদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে আমি নারাজ। তাছাড়া প্রত্যেক লেখকেরই একটি স্বকীয়তা থাকে বলে এখানে তুলনা চলে কিনা তাতেও আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারপরও যদি তুলনা করতে হয় তাহলে সে ভার আমি পাঠকদের হাতে তুলে দিতে চাই, আমার মনে হয় আমার বইয়ের পাঠকরাই সেটা ভালোভাবে করতে পারবেন।

 

নিজের লেখার প্রতি আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে জানতে চাই।

‘নিখোঁজ সংবাদ’ আমার প্রকাশিত প্রথম বই হলেও লেখালেখির চর্চাটা পুরাতন। আর এই পুরাতন চর্চাটাই আমাকে বই প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে এবং আমার বিশ্বাস যে, আমার গল্পগুলোর বিষয় নির্বাচন, উপস্থাপন ও প্রকাশভঙ্গি পাঠকদের নিরাশ করবে না।

 

প্রকাশিত বই সম্পর্কে কিছু বলুন...

আমি আগেই বলেছি যে, ‘নিখোঁজ সংবাদ’ আমার প্রকাশিত প্রথম গল্পের বই এবং এখানে মোট সাতটি গল্প রয়েছে। এই সাতটি গল্পে আমি মূলত সাতটি বিষয়কে ধরতে চেয়েছি এবং অধিকাংশ গল্পে বর্তমান সমাজের নানান অবক্ষয় আমাকে যেভাবে ভাবায় সেগুলোকে নিজের মতো করে যাদুবাস্তবতা ও পরাবাস্তবতার আলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

 

পাণ্ডুলিপি গোছানোর ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন?

'নিখোঁজ সংবাদ’ গল্পগ্রন্থের পাণ্ডুলিপি গোছানোর ক্ষেত্রে আমি মূলত নিচের কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চেয়েছি:

ক) গল্পগুলো বর্তমান সময়কে প্রতিনিধিত্ব করছে কিনা!

খ) গল্পে আমি যা বলতে চাই,  তা বলতে পেরেছি কিনা!

গ) গল্পগুলোর বিষয়ে বৈচিত্র্য আছে কিনা!

ঘ) গল্পগুলো পড়ে পাঠক নতুন ভাবনায় আন্দোলিত হবেন কিনা!

ঙ) পুরো বইয়ের গল্পগুলোকে একই সুরে বা একই সূত্রে বাঁধতে পেরিছি কিনা!

 

প্রথম বই হিসেবে গল্প বেছে নিলেন কেন?

আমি এখন পর্যন্ত কিছু গান, কবিতা ও গল্পই লিখতে পেরেছি। এদের মধ্যে গানের বা গীতিকবিতার বই প্রকাশ করার অবস্থা তৈরি হয়নি আর কবিতায় যেহেতু আমি এখনও আমার নিজস্ব কাব্যভাষা নির্মাণ করতে পারনি বলে মনে করছি তাই কবিতার বই প্রকাশ করার চিন্তা মাথায় আসেনি। এই গল্পগুলো গোছানোর পর মনে হয়েছে, আমার এই গল্পগুলো পাঠকের সামনে বই আকারে পৌঁছানো উচিত।

 

অনেকে বলেন লিখতে আসলেও একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। আপনার প্রস্তুতির কথা জানতে চাই।

আমার মনে হয় এটা শুধু অনেকের নয় প্রত্যেকেরই বলা উচিত। প্রস্তুতি ছাড়া যেখানে কোনো কাজই হয় না সেখানে লেখালেখির মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে পূর্ব-প্রস্তুতি থাকা একান্ত প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে আমার প্রস্তুতি  এক কথায় দেয়া মুশকিল। আমার বই পড়ার অভ্যাসটা আগে থেকেই ছিলো এবং ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির চর্চা করতাম। পরে এসে সেই পড়ার অভ্যাসটাকে পর্যবেক্ষকের চোখ দিয়ে দেখে বর্তমান সময়ের কাব্য ও গল্পের ভাষা, উপস্থাপন, নির্মাণশৈলী এসব বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করেছি এবং নিজের লেখায় এগুলোকে সচেতনভাবে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে গল্পগুলো বলতে চেয়েছি এবং লেখালেখির জন্য নিজেকে আপডেট রাখতে এবং সমৃদ্ধ করতে সচেষ্ট থেকেছি। যেহেতু এই প্রস্তুতির কোনো শেষ নেই তাই একেবারে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে লিখতে শুরু করেছি একথা বলারও কোনো সুযোগ নেই।

//জেডএস//

লাইভ

টপ
X