যতক্ষণ বেঁচে আছি, কিছুতেই মরবো না : হাসান আজিজুল হক

Send
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ইসমত শিল্পী
প্রকাশিত : ১১:০৭, জুলাই ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২১, জুলাই ২৭, ২০২০

হাসান আজিজুল হক বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যিক। ষাটের দশকে আবির্ভূত এই কথাসাহিত্যিক তার সুঠাম গদ্য এবং মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য প্রসিদ্ধ। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তার গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। রাঢ়বঙ্গ তার অনেক গল্পেরই পটভূমি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, জেমকন সাহিত্য পুরস্কার-সহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।শুভ সন্ধ্যা স্যার। ইসমত শিল্পী বলছি।

হাসান আজিজুল হক : হ্যাঁ, বলো শিল্পী।

 

স্যার রাজশাহীতে কি বৃষ্টি হচ্ছে এখন?

হাসান আজিজুল হক : এই হচ্ছে। তবে অল্প স্বল্প। বাড়বে হয়তো। বলো। তোমরা সব কেমন? ঢাকাতে?

 

স্যার একটু কথা বলতে চেয়েছিলাম, এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে। আপনার ভাবনা-চিন্তা, অনুভূতি। এই যে করোনা, বিশ্ববিপর্যয়, সারা পৃথিবী জুড়ে এই যে চরম দুঃসময়… এই বির্পযস্ত সময় সম্পর্কে আপনার কিছু কথা শুনতে চাই।

হাসান আজিজুল হক : আমি যেটা প্রথমেই বলতে চাই, মানুষের ইতিহাসই হচ্ছে, সারাজীবন লড়াই করে যাওয়া। আমরা বলি যে, নিশ্চিন্তভাবে পিছিয়ে থাকা, এটা হয় না। কোনো না কোনাভাবে আমাদের সব সময়ই লড়াই করতেই হয়। এই লড়াই কখনো দৃশ্যমান, বাইরে দেখি। কখনো কখনো লড়াইটা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ভেতর থেকে এই লড়াইটা হয়। এটা তো একদিক থেকে পরিচিত। সমগ্র বিশ্ব আতঙ্কিত এবং উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে, একটা ভয়ানক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে, এটা ঠিক কথা। কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় যে, আমাদের কিন্তু এরকম অভিজ্ঞতা আছে। মাঝে মাঝেই এমনটা দেখেছি। তবে করোনা নতুন। এবং বোঝা যাচ্ছে না, দেখাও যাচ্ছে না। নিরবে আক্রমণ করছে, এটা সত্যিই ভয়ংকর বিষয়।

 

মানে, অন্যান্য মহামারিগুলো যেমন হয়েছে, করোনা তেমনই?

হাসান আজিজুল হক : হ্যাঁ, অন্যান্য মহামারি। আমরা ছোটবেলায় দেখেছি। যেমন, কলেরা। কলেরার তখন কোনো ঔষধই ছিলো না, কিছুই ছিলো না। কলেরায় একেকটা গ্রামের সমস্ত মানুষ উজাড় হয়ে গেছে, এরকম দেখেছি। তো, কলেরা দেখেছি, গুটি বসন্ত দেখেছি—যেটা এখন একেবারেই বিলুপ্ত। তারও আগে যক্ষ্মা। আমার আত্মীয় স্বজনের মধ্যেও কয়েকজনের যক্ষ্মায় মৃত্যু হয়েছে।

 

আগে তো এমনই কথা ছিলো—যার হয় যক্ষ্মা, তার নেই রক্ষা।

হাসান আজিজুল হক : যক্ষ্মা হলে কোনো রেহাই নেই, তবে অনেক সময় সারতেও পারতো, তবে সময় লাগতো অনেক। প্রায় সারাজীবনই ভুগতে হতো। আমি দেখেছি, কেশেই যাচ্ছে, কেশেই যাচ্ছে বহুবছর ধরে, তারপরে শুনছি, যক্ষ্মা। তো প্রতিকার করা যেতো না। টাইফয়েডও দেখেছি। আমি নিজেও ভুগেছি টাইফয়েডে। টাইফয়েড এখন প্রায় হয়ই না। আমি ছোটবেলায় দুবার টাইফয়েডে পড়েছি। নিউমোনিয়া আরেকটা রোগ। এখনও একটু ইনফেকশন হলে নিউমোনিয়ার কাছাকাছি অসুখ হতে পারে। কিন্তু আমাদের যেটাকে বলতো ডাবল নিউমোনিয়া; —আই ওয়াজ বর্ন উইথ ইট। আমার জন্মের পরেই আমি ডাবল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি। আমার জন্মের প্রথম রাত্রেই—আমার তো বেঁচে থাকার কথাই নয়। আর সেইরকমভাবে তখন কোনো ঔষধ আবিষ্কৃত হয়নি। বাবা আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন জেলা শহরের ডাক্তারের কাছে। তিনি বললেন যে, এ তো মেরে নিয়ে এসেছেন! একবারে শেষ করে এনেছেন। এ’কে বোধহয় ফেরানো যাবে না।

 

তখন আপনার বয়স কত ছিলো?

হাসান আজিজুল হক : তখন আমার বয়স একদিন/দুদিন। দু’তিন দিনই হবে, তার বেশি হবে না। বাবা বললেন, ‘আপনি একটু চেষ্টা করে দেখুন।’ ডাক্তার বললেন, ‘ঠিক আছে, ঔষধ-টৌষধ দিচ্ছি।’ দিয়েছিলেন ঔষধ। যাই হোক আমি বেঁচে গেলাম। দু’মাস পরে যখন গেলাম, তখন বললেন, ‘বাহ্ বেঁচে গেছে তো ছেলে! তো ঠিক আছে, একে রোদ বৃষ্টি সবকিছুর মধ্যে ছেড়ে দেবেন। তাহলে শরীরটা আরও পোক্ত হবে। ছেড়ে দেবেন, আটকে রাখবেন না।’

 

মানে সবকিছু সহ্য করার ক্ষমতা তৈরি হোক?

হাসান আজিজুল হক : তা বলতে পারো। একেবারেই দাঁত চেপে রেখেছি, মরবো না বলে। আমাদের এগুলো দেখার অভিজ্ঞতা আছে। আবার এই নতুন বিপদ এতোদিন পরে। প্লেগ, বসন্ত, যক্ষ্মা, কলেরা ইত্যাদি পার হওয়ার পরে এই নতুন বিপদটি করোনা, এটা তো জানতাম না। এটা ধূলি বাহিত। প্রধানত দেখতে পাচ্ছি, আমাদের দেশে ইউরোপ থেকে এটার সূত্রপাত হয়েছে। ইটালি, স্পেন, ফ্রান্স এবং পরে ইংল্যান্ড এইসমস্ত জায়গাতে আক্রান্ত হয়েছে। আর আমেরিকাতে তো একেবারে মড়ক লেগেছে। বহুলোক এরকমভাবে মারা গেলো এটাতে, এই অভিজ্ঞতাটা তো আমার আগে ছিলো না! এর একমাত্র উপায় হচ্ছে, বাড়ি থেকে বের না হওয়া। এটা এমনিই মারাত্মক। আশপাশ থেকে খবর পাচ্ছি, ঢাকার অবস্থা খুব খারাপ। ঢাকা নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের খুব খারাপ অবস্থা। যেখানে বসতি খুব ঘন। গায়ে লাগালাগি করে মানুষ বসত করে, সেখানে বেশি। তার মানে এটা বাতাস এবং ধূলি এইগুলোই করোনা জীবাণু বহনের মূল। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ তো পাশাপাশিই। আর চট্টগ্রাম শহর খুব ঘনবসতি। তবে তুলনামূলকভাবে রাজশাহীতে একটু কম। রাজশাহী একটু কম ঘনবসতি তো? আর পাশেই তো পদ্মা। প্রাকৃতিক একটা ব্যাপার রয়েছে এখানে। আর বেশ পরিচ্ছন্নও। রাজশাহীতে এরকম ঘনবসতি এখনো হয়নি। অনেক পড়ে থাকা জায়গা রয়েছে। আদিবাসী গ্রামগুলো আছে, খবর পাচ্ছি। আশেপাশের গ্রামেরও খবর পাচ্ছি। ওরকম ছড়ায়নি। তবে নেই বা আশঙ্কামুক্ত হয়েছি সেটা বলা যাবে না। কারণ প্রতিদিনই তো দেখতে পাচ্ছি, বাড়ছেই। এখনো কোনো প্রতিকার বের হয়নি। সেইজন্য আমরা সকলেই সতর্ক থাকতে হবে। এইজন্য একটাই কথা সবাইকে মানতে হবে, ঘরে থাকুন, বাইরে যাবেন না। বের হওয়া যাবে না।

 

কিন্তু এই যে, অফিস-টফিস সব খুলে দিয়েছে। মানুষকে তো বেরোতে হচ্ছে।

হাসান আজিজুল হক : তা খুলেছে। কাজ তো কিছু করতেই হবে। তবুও অনেক অফিস থেকেই তো নিজের ঘরে বসে বসে কাজ করার জন্য বলেছে। যে কাজগুলো না করলে চলবে না। রাষ্ট্র চলবে না, সে কাজগুলো তো চালাতে হবে। যেমন খবরের কাগজে কথা হলো। বললো, ওরা তেমন বেরোচ্ছে না। যে কয়জন প্রেসে কাজকর্ম করে তাদেরকে কাজ করাতে হচ্ছে। কিন্তু ওদেরকে প্রায় আটকে দেওয়া হয়েছে। ওদের ওখানেই খাবার-দাবার দেওয়া হচ্ছে। ওখানেই থাকছে, কাজ করছে, বের হচ্ছে না। কাজেই সাবধানতা যতটুকু অবলম্বন করা যায় করতে হবে। যদিও বাঙালি করতে চায় না অমন কিছু। মেনে চলাতে অভ্যস্ত নয়, ওভাবে অভ্যেস গড়ে ওঠেনি। কারণ খোলা হাওয়ায় ঘোরা, প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াতে, থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য পায়। তবে এখন আর সেই সহজ ভাবটা নেই। তবে বাংলাদেশের জীবনযাপনটা তুলনামূলকভাবে সহজ। সেইভাবে কঠিন নয়। এখনও অতোটা কঠিন হয়নি। কারণ ঠিক সেইভাবে খাদ্যের অভাবটা দেখা দেয়নি।

আমি শেষ পর্যন্ত মনে করি যে, দেখো, অতীতে মানবজাতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। কয়েকবার এরকম হয়েছে। জনশূন্য হয়েছে পৃথিবী। কিন্তু মানুষ কখনো বিলুপ্ত হয়নি। খেয়াল করা যাচ্ছে, যে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু মানবজাতি যেটা, সেটা—আমি এখনো মনে করি যে, চিরজীবী হয়ে থাকবে। এই করোনার বিষয়েও আমার এই একই কথা শেষ পর্যন্ত। করোনার ব্যাপারেও আমার ওই একই কথা, শেষ পর্যন্ত আমি চলে যেতে পারি, এর থাবায় অনেক মানুষ চলে যাচ্ছে, আমি চলে যেতে পারি। কিন্তু করোনা থেকে একেবারে বাঁচা যাবে না, করোনার থাবা থেকে বাঁচা যাবে না, সব শেষ করে দেবে। তবে পুরো বিশ্বটাকে শেষ করে দেবে এটা আমার মনে হয় না। বিশ্বযুদ্ধে হয়নি। দুর্ভিক্ষে হয়নি। কতকিছুই তো ঝড় আমাদের উপর দিয়ে বয়ে গেছে। কিন্তু এগুলো আমরা তো অতিক্রম করেছি। কত দুর্যোগ পৃথিবীতে এসেছে কিন্তু মানব জাতি ঠিকই টিকে আছে। কখনোই বিলুপ্ত হয়নি, বিলুপ্ত করা যাবে না।

 

এটা তো প্রাকৃতিক দুর্যোগই? প্রকৃতি থেকেই এসেছে, এমন মনে হয়?

হাসান আজিজুল হক : এটা তো মনুষ্যবাহিত রোগ তবুও প্রকৃতিই বলবো। মানুষ তো প্রকৃতি থেকেই এসেছে। প্রকৃতিই একসময় এটাকে ব্যালেন্স করে নেবে ঠিক। আমরা প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতি থেকে এসেছি, প্রকৃতির মাঝেই আমরা থাকবো। আমরা বাতাস, পানি এইসমস্ত জিনিসগুলো না থাকলে তো প্রাণ থাকতোই না। আমরা বেঁচেই থাকতাম না। আমাদের দেহটাও মূলত প্রকৃতি থেকে বাঁচে। বাতাস জল, এগুলো—সবই প্রকৃতি থেকে আসে। সবই এইখান থেকেই আসে, এইখান থেকেই মানব দেহ গঠিত হয়।

আমি আবারও বলি, ব্যক্তি মানুষ পরাস্ত হতে পারে, পরাজিত হতে পারে। মানুষের মৃত্যু হতে পারে বা পরাস্ত হতেই পারে, পরাজিত হতে পারে। কিন্তু মানবজাতির ক্ষয় হলেও, তা কিছুতেই অবলুপ্তি ঘটবে না। তো, করোনার সময় এই কথাটা মনে রাখতে হবে সবাইকে। আমরা যদি সাবধান থাকি, আমরা যদি শক্ত অবস্থানে থাকি। আমাদের যদি লড়াকু মন থাকে তাহলে আমরা করোনাকে অবশ্যই অতিক্রম করে যাবো, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, এটাই আমি সবসময় বলে আসছি।

 

স্যার, প্রক্যেকটি ঘটনা থেকে তো অনেক কিছুর জন্ম হয়, সৃষ্টি হয়। আপনি লেখক, একজন স্রষ্টা। এখনকার অবস্থা থেকে কিছু লেখার বিষয়ে চিন্তা আসছে?

হাসান আজিজুল হক : আমি জানি না কিছু লিখবো কিনা, লিখতেও পারি কিছু। কিন্তু এখন একেবারেই গৃহবন্দি অবস্থা। বাইরে ঘোরাঘুরি না করলে তো বোঝা যায় না। কিছু জানা যায় না। কিছু লেখা যায় না। বিশ্বযুদ্ধগুলো তো মোটামুটি জানাজানির ভিতরে ছিলো। বোঝা যেতো। এটা তো কিছু জানা যাচ্ছে না। করোনাও যদি জানা যেতো কিন্তু তা তো না। একদম নিরবে আক্রমণ করেছে এটা। নিরব মড়ক, একটা নিরব যুদ্ধ, শত্রুকে চোখে দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এই যুদ্ধটা তো কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। কোথায় কীভাবে কী ঘটছে কিছুই যেন জানা-বোঝা যাচ্ছে না। তাই আমি বলছি, নিশ্চিন্ত থাকো।

আতঙ্কগ্রস্ত না হই?

হাসান আজিজুল হক : আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, দরকার নেই। থাকো। কাম হোয়াট মেক—যা খুশি তাই ঘটে যাক। কিন্তু আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার দরকার নেই। বরং যেন মনে হয় যে, আমি যুদ্ধে আছি, পরাস্ত হব না। সেইজন্যেই বলছি যে, মানুষের মৃত্যু হতে পারে কিন্তু ম্যানকাইন্ডকে এমোডিস করা তো সম্ভব হবে না, এই বিশ্বাসকে যাতে না। শক্ত হয়ে লড়াইটা শুধু করে যাও।

 

মানে এটাও একধরনের যুদ্ধ; একেবারে অদৃশ্য একটা যুদ্ধ? এই যুদ্ধে যা করণীয় তাই করে যেতে হবে?

হাসান আজিজুল হক : অদৃশ্য শক্তি তো বটেই। হ্যাঁ, করোনা একটা নিরব যুদ্ধ। শত্রুকে চোখে চোখে দেখা যাচ্ছে না। ওই যে, জীবনানন্দের সেই কথা মনে আছে তোমাদের?

‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন; মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।”

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। তবু চাই কার কাছে? পৃথিবীরই কাছে। বেঁচে থাকা অবস্থায় এর বাইরে যাবার আমাদের উপায় নেই, তাই না? তাই হাস্যকর হলেও এইকথাটাই ঠিক যে, যতক্ষণ বেঁচে আছি, কিছুতেই মরবো না। তার মানে বাঁচার মতো করে বাঁচতে হবে। মরতে চাই না বলেই বাঁচবো।’

 

স্যার, এখন কি আপনি লিখছেন না কিছুই?

হাসান আজিজুল হক : না, ওইভাবে কিছু লিখছি না। হয়তো লিখতেও পারি। কখন লিখবো, তা তো ঠিক জানি না। দুর্ভিক্ষ নিয়েও লিখতে পারি। কিন্তু কোথায় গিয়ে সেই লেখা ঠেকবে তার তো কোনো ঠিক নেই।

দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষ নিয়ে আমি অনেক কথাই বলতে পারি। সেসব কল্পনা করা যায় না। ধরো, বিয়াল্লিশের মন্বন্তরও দেখেছি। সবাই মনে করে যে, বিয়াল্লিশ সালেই হয়েছে বোধহয়। কিন্তু বিয়াল্লিশের মন্বন্তর মানে বিয়াল্লিশ ছেচল্লিশ, সাতচল্লিশ এই সময়েও একটা বিরাট প্রভাব থেকে গেছে তো। বৃটিশদেরও এর জন্যে অনেক কিছু করতে হয়েছে। অজন্মা হওয়া, অ-ফসলা হওয়া। কিন্তু এখন আর ওরকম কিছু হবে বলে মনে হয় না। এখন তো সারা বিশ্বের সাথেই যোগাযোগটা খুব ভালো। তেমন কিছু হলে অন্যান্য দেশও জানাজানি হবে, সেখান থেকে হয়তো সহযোগীতাও আসবে।

 

স্যার, আমাকে সময় দেবার জন্য ধন্যবাদ জানাই। সাবধানে, নিরাপদে থাকবেন।

হাসান আজিজুল হক : তুমিও। তোমরা সবাই ভালো থাকো।

//জেডএস//

লাইভ

টপ