সাক্ষাৎকার গ্রহণ : নুরদ্দিন গলি || ভূমিকা ও তর্জমা : বিধান রিবেরুবুর্জোয়াদের হটানো অনিবার্য : উসমান সেমবেন || পর্ব- ১

Send

প্রকাশিত : ১৩:২৫, জানুয়ারি ০১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩৩, জানুয়ারি ০১, ২০১৬

[উসমান সেমবেনকে (১৯২৩-২০০৭) সম্বোধন করা হয় আধুনিক আফ্রিকার সিনেমার জনক হিসেবে। এতবড় উপাধি দিয়েও তাঁর সামগ্রিক কাজকে ধরা অসম্ভব। তিনি উপন্যাস রচনা করেছেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন এবং সবচেয়ে বড় যে ব্যাপার— তিনি সারাজীবন গণমানুষের রাজনীতিতে আস্থা রেখেছেন। সেমবেন সকল কাজ দিয়েই বলা যায় রাজনৈতিক লড়াই করেছেন— শ্রমিক সংগঠন করার সময়, আবার শিল্প সৃষ্টির সময়েও তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবাদর্শ থেকে সরে যাননি। কারণ শিল্পকে রাজনীতির হাতিয়ার বলেই মনে করতেন তিনি, নয় তো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে গণমানুষের কাছে পৌঁছানোর চিন্তা তাঁকে পেয়ে বসত না। মহাত্মা সেমবেন জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৩ সালের পয়লা জানুয়ারি, সেনেগালের জিগুয়িনেচর গ্রামে এক জেলে পরিবারে। তাঁর কর্মময় জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে ২০০৭ সালের ১০ জুন, তখন সেমবেনের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
জন্মদিন উপলক্ষ্যে সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে ওঠা মানুষটির একটি সাক্ষাৎকার নিচে দেয়া হল। নুরদ্দিন গলির নেয়া সাক্ষাৎকারটি প্রথম প্রকাশ হয় ‘সিনেমা ৭৬’ পত্রিকায়, ১৯৭৬ সালের এপ্রিল মাসে। পরে ডি এইচ ডাউনিংয়ের করা ইংরাজি অনুবাদ প্রকাশ হয় ডাউনিংয়েরই সম্পাদিত ফিল্ম এ্যান্ড পলিটিকস ইন দ্য থার্ড ওয়ার্ল্ড (নিউ ইয়র্ক: প্রেইজার, ১৯৮৭) বইতে। বাংলায় ভাষান্তরের জন্য সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়েছে আনেত বুশ ও ম্যাক্স আনাস সম্পাদিত ‘উসমান সেমবেন: ইন্টারভিউজ’ (যুক্তরাষ্ট্র: ইউনির্ভাসিটি প্রেস অব মিসিসিপি, ২০০৮) বই থেকে। সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ‘ইন্টারভিউ উইথ উসমান সেমবেন’, তবে এখানে শিরোনামটি পরিবর্তন করা হয়েছে।]

গলি : এমিতাই ছবিতে যে গ্রাম দেখা যায় সেটির অস্তিত্ব কি আসলেই আছে?
সেমবেন : ওটা সেনেগালের একটি গ্রাম ছিল, ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনী পুরো গ্রামটাই ধ্বংস করে দিয়েছিল, তারপরও কিন্তু গ্রামটা টিকে আছে। ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্ন রাখার মতই আমরা এসব গ্রাম আমাদের চলচ্চিত্রে রেখেছি। ১৯৪২ সালে আমি আরো তরুণ ছিলাম, তখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেইনি, দায়োলা (Diola) গণহত্যা ঘটল সেসময়। পরে যখন চলচ্চিত্র বানাতে শুরু করি, ইতিহাসের অনেক কিছু নজরে আসতে থাকে, প্রাত্যহিক জীবনের লড়াইটা লক্ষ্য করি, আমি ভাবি সমসাময়িক কিছুর উপর ভিত্তি করে কিছু একটা শুরু করা দরকার।
এটা ঠিক মানুষ সবসময় মহান আফ্রিকার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের নিয়ে কথা বলে, কিন্তু প্রায় লোকেই জানে না আসলে এই যোদ্ধারা দেখতে কেমন, নির্দিষ্ট কয়টি দেশ বা কয়টি গোষ্ঠী (tribe) এই প্রতিরোধে অংশ নিয়েছিল। স্বাধীনতার আন্দোলন কিন্তু এমনি এমনি তৈরি হয়ে যায়নি, এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এর জন্ম হয়েছিল। যদি এই আন্দোলন তথাকথিত ‘নেগ্রিচিউড’ ভাবাদর্শ থেকে জন্ম নিয়ে থাকে তাহলে আমি বলব, আমি এ ব্যাপারে অজ্ঞ, কারণ আমি তখন আমার লোকজনদের সঙ্গেই বসবাস করছিলাম, ওদের মত পরিস্থিতিতেই।
আমি বহুবার দেখানোর চেষ্টা করেছি যে নেগ্রিচিউড আন্দোলন যদি কিছু জন্ম দিয়ে থাকে তো সেটা কেবল সংখ্যালঘুর কর্মকাণ্ডই, কিন্তু দেখুন, এর আগেই মানুষ মুক্ত হওয়ার লড়াই শুরু করে দিয়েছিল। এমিতাইয়ের গল্পটা সেরকমই, গিনি-বিসাউয়ের পাশে দায়োলা গ্রামকে ভিত্তি করে। একই গোষ্ঠী সেনেগালের দক্ষিণে ও গিনি-বিসাউয়ের পশ্চিমে বাস করে।
যখন এই ছবির শুটিং হচ্ছে, তখন গিনি-বিসাউ থেকেও লোকজন (এক্সট্রা) এসেছিল, সেসময়ের যোদ্ধা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা গ্রামবাসীরা আমাদের অনেক সাহায্য করেছিল।
কাসামাসেঁ (সেনেগালের দক্ষিণে একটি অঞ্চল) যখন ফিল্মটির প্রিমিয়ার হয় তখন প্রেসিডেন্ট কাব্রাল (গিনি বিসাউয়ের প্রথম প্রেসিডেন্ট লুই কাব্রাল) কয়েকজন যোদ্ধাসহ এসেছিলেন ছবিটি দেখতে; সবাই যখন চলে যাচ্ছিলেন, তারা সবাই তখন আমাদের এসে বললেন, এই ছবি তাদের জন্যও বানানো হয়েছে, শুধু একক গোষ্ঠীর জন্য নয়, কারণ এই লড়াইটা তারাও করেছেন।
আমি এটা বললাম কারণ, ইউরোপের কয়েকজন বুদ্ধিজীবী আছেন, তাঁরা যখন আফ্রিকার স্বাধীনতা নিয়ে ভাবেন, তখন আফ্রিকার ভেতরের প্রতিরোধের বিষয়টি উপেক্ষা করেন। নয়া উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এসব বিচ্ছিন্ন ও ছোট ছোট সংঘাতগুলোকে সংগঠিত করা অসম্ভব নয়।

গলি : হালা ছবিতে আমিলকার কাব্রালের (গিনি বিসাউয়ের লেখক, জাতীয় চিন্তক ও উপনিবেশবাদ বিরোধী রাজনীতিবিদ) স্থিরচিত্র দেখা যায়, আলহাজ আবদু কাদেরের মেয়ের শোয়ার ঘরে।
সেমবেন : হ্যাঁ, এমিতাই ছবিতে সংগ্রামটা ছিল উপনিবেশ বিরোধী। কিন্তু সেখানে শ্রেণি-সংগ্রাম উপস্থিত ছিল না। হালা হল এক ধরনের রূপক অথবা আরো নির্দিষ্ট করে বললে একটি রূপকথা। এই ছবি বুঝের নানা মাত্রায় কাজ করে আমার জনগণের কাছাকাছি পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে। এমিতাই ও হালার মধ্যে আমরা দু’ধরনের সংগ্রাম দেখতে পাই: প্রথম সশস্ত্র সংগ্রাম উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে, এরপর, হালা ছবিতে দেখি আফ্রিকায় শ্রেণি-সংগ্রামের সূচনা।

গলি : হালাতে শ্রেণি-সংগ্রামের তো অনেকগুলো চেহারা দেখা যায়। সেগুলোর মধ্যে একটি হল ভাষার ভূমিকা: নিম্নবিত্ত শ্রেণির মুখের ভাষা হল উলোফ আর ফরাসি ভাষা ব্যবহার করেন আলহাজ ও তাঁর মত যারা উঁচু শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন তারা।
সেমবেন : আমার মনে হয়, এখনো আমাদের অনেক শাসকদের মধ্যে এই সঙ্কট আছে। আমি হয় তো একটু উপদেশ দেয়ার মত করেই কথা বলছি, আমাকে মাফ করবেন, আমার কাজকে ব্যাখ্যা করছি যেহেতু আমি চেয়েছি আমার ছবিটি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও অবদান রাখুক সেজন্য। সাহারার দক্ষিণে ফরাসি ভাষা চালু আছে এমন দেশগুলোতে অনেক বুর্জোয়ারই কর্মক্ষেত্রের ভাষা ফরাসি। তারা শুদ্ধ পশ্চিম ও পশ্চিমা বুর্জোয়া সংস্কৃতিকে অনুসরণ করে।
অথচ খোদ পশ্চিমে বুর্জোয়া মূল্যবোধকে অস্বীকার করার ঝোঁক দেখা যায়। কিন্তু আফ্রিকার বুর্জোয়ারা কথায় কথায় টেনে আনেন পশ্চিমা প্রসঙ্গ। ডাকার, আবিদজান, লিবখভিল অথবা ইয়াউন্দ— এগুলো স্রেফ ফরাসি প্রদেশের রাজধানী। এসব জায়গা হচ্ছে নয়া উপনিবেশবাদের প্রান্তিক সীমানা, সেখান থেকেই বিপদের উৎপত্তি। এসব জায়গার লোকেরাই যখন সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়, তখন দেখা যায় তারা দেশের জাতীয় ভাষাটাই জানেন না, তারা এক ধরনের বিচ্ছিন্নই বলা যায়, ভেতরে ভেতরে তারা পরাধীন বা কলোনাইজড। তারাই কিন্তু বুলি আওড়ান— মানুষের মনকে উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত হতে হবে, আসলে অন্যদের নয়, তাদের নিজের মানসিকতারই মুক্তি দরকার।
যেমন ধরা যাক, আলহাজ, বিপ্লবের উত্থানের সময় তিনি যখন নিজের ভাষায় বিতর্ক করার চেষ্টা করছিলেন তখন তাকে বলা হয় ফরাসি হল কেজো বা অফিশিয়াল ভাষা, তিনি সেটা তখন মেনেও নেন। অন্যদিকে তাঁরই মেয়ে, ঠিক বা ভুল যেমন করেই হোক, নিজের মধ্যে একটা সমন্বয় সাধন করে এবং নিজের ভাব প্রকাশে নিজের ভাষাকেই ব্যবহার করে। মেয়েটির ঘরে কাব্রালের মত বীরের ছবি আছে, হয় তো সেই ছবিটা শুধু ফ্যাশনের জন্যই সে টাঙিয়েছিল, তারপরও কাব্রালদের সঙ্গে এই মেয়ের সংহতিবোধ তো ছিল।
জাতীয় ভাষায় নিজেকে প্রকাশের জন্য জনগণের কাছে একটিই ভাষা: উলোফ ভাষা। কিন্তু আমাদের আফ্রিকার বুর্জোয়াদের আর কোন লক্ষ্য নেই পশ্চিমা বুর্জোয়াদের নকল করা ছাড়া। আপনি এটা খুঁজে পাবেন স্বাগত জানানোর ভঙ্গিতে, তাদের আদবকেতায়, তাদের কথাবার্তায়— গরিব কৃষকদের সঙ্গেও তারা ফরাসিতে কথা বলে। শতকরা আশিভাগ নিরক্ষর জনগণের দেশে যেখানে কথা বলা উচিত সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষায়, সেখানে বুর্জোয়ারা এমন ভাষায় কথা বলে যা এই আশিভাগের মাথার উপর দিয়ে যায়।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হল, যখন এই বুর্জোয়ারা এসব নিদারুণ ভুল করে, তখন পুরো জনগোষ্ঠীকেই নিজেদের পেছনে দাঁড় করিয়ে দেয়। নগর উন্নয়ন ও এর স্থাপত্য কাঠামোর সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি আর কুলিয়ে উঠতে পারছে না, মানিয়েও নিতে পারছে না। এই বুর্জোয়ারা কেবল ইউরোপিয় স্থপতিদেও দ্বারস্থ হন, এরাও ইউরোপিয় মডেল দিয়ে কাঠামো দাঁড় করাচ্ছেন আফ্রিকায়— এখানকার জীবনধারা, পরিবারের ধরন, আফ্রিকার সভ্যতা— এসব বিবেচনা না করেই। ইউরোপিয় মডেলের বাড়িগুলো দেখবেন নকশা করা হয়েছে একক দম্পতির জন্য, অথচ আফ্রিকার সমাজে বসতবাড়িগুলো দেখবেন অনেক ছড়ানো, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা থাকে। তারা আমাদের জন্য এমন বাড়ি বানায়, যেন আমাদের পরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র কিনতে হয়...।
এই হালা চলচ্চিত্রেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রসহ আরো ছোটখাট যেসব জিনিস চিহ্ন আকারে রয়েছে, আমরা জানি এসব ব্যক্তি মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আর এখানকার সব ব্যবসায়ী হল ঠিকাদার। অর্থনৈতিকভাবে, তাদের নিজের বড় শিল্প গড়ে তোলার মুরদ নেই, আর সেটা তারা পারবেও না কারণ আমরা এরইমধ্যে শিল্পায়নের সূচনাকাল পেরিয়ে এসেছি। আমরা এখন বাস করি একচেটিয়া ব্যবসা, অছিব্যবস্থা (ট্রাস্ট) ও বহুজাতিক সংস্থার যুগে।

গলি : মূল চরিত্রের (আলহাজ) কাজ মনে হয় খুব সতর্কভাবে বাছাই করা হয়েছে: উনি শুধু মধ্যস্থতাকারী, বাম হাতে গ্রহণ করে ডান হাতে প্রদান করেন...।
সেমবেন : তিনি ভোগ্যপণ্য পান আর সেটা স্রেফ পরিবেশন করেন। তিনি একজন ঠিকাদার মাত্র। এই লোক নিজে কোন কিছু কেনেন না, কোন কিছু আমদানি করেন না, ব্যাংককেও ঋণ দেননা তিনি। এই লোক শুধু ভর্তুকি পান, এই ভর্তুকি আসে জনগণের কাছ থেকেই। আমাদের জন্য এটা দেখানো জরুরি ছিল— যখন এই ধরনের লোক সবকিছুতে বিরক্ত— তখন তারা ফিরে আসে, জনগণকে পুনর্বার আবিষ্কারের জন্য। যখন তারা সমাজের উচ্চ স্তরে আসীন, তখন তারা বলে ভিক্ষাবৃত্তি চলুক, কারণ ভিক্ষুকরা হল জঞ্জাল। আবার এই উঁচু স্তরের মানুষেরাই যখন শ্রেণিচ্যুত হয় তখন তারা ‘বিপ্লবী’ বনে যান। এই বিষয়টি প্রতীকী আবার একইসাথে সত্যও। একই জিনিস আপনি আফ্রিকা এমনকি এশিয়ার দেশগুলোতেও খুঁজে পাবেন। যখনই কোন অগ্রণী বুর্জোয়া নিজের ধরনের জন্য পতিত হন তখন তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ফিরে যান এবং একভাবে নিজের অতীতকে বিশোধন করার চেষ্টা করেন...।
গেল জানুয়ারিতে (১৯৭৬) ভারতের বোম্বে উৎসবে হালা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করা হয়, সেখানে ভারতীয়রা আমাকে বলেছেন, ছবির বিষয়বস্তু নাকি ভারতের সমাজের জন্যও প্রযোজ্য। তাদেরও ভিক্ষুক ও বুর্জোয়া আছে এমন, আর এজন্যই সেনেগাল থেকে নিজেদের দোরগাড়ায় এমন একটি ছবি আনতে হয়েছে, যেখানে অনেক অভিন্ন জিনিস রয়েছে।
দরিদ্র কৃষকের অর্থ যে পকেটমার চুরি করে সে আসলে প্রতীকী অর্থে ওই লোকটাই, যে পরে ব্যবসায়ী হয়, এবং আচমকা নিজেকে আবিষ্কার করে সমাজের উঁচু আসনে। একটা গরিব মানুষ বড়লোক হয়ে গেল। যদিও এখানে বহু অসঙ্গতি রয়েছে, তারপরও আমাদের সমাজের উন্নয়নের দিকে যদি তাকাই, দেখব এমনটাই ঘটে। হাঙ্গর মাছের মত কিছু মানুষ আছে, তারা সবসময় মৃতের শরীরের উপরই জীবন ধারণ করে। আমরা তাদের ডাকতে পারি— দ্রোণকাক... সমস্যাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এই সমস্যা কি করে ক্রিয়াশীল সেটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। আপনি শুধু জনগণকে সূত্রগুলো ধরিয়ে দিতে পারবেন, বিশেষ করে যারা চলচ্চিত্র দেখতে যান। আর হালা চলচ্চিত্রটি, কর্তিত হওয়া সত্ত্বেও, সেনেগালে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে।

গলি : সম্ভবত দশটি জায়গায় কর্তন করা হয়েছিল। নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলছি— ফ্রান্সে যে সংস্করণটি পাঠান হয়, সেটি তো অকর্তিত ছিল। আপনি কি বাদ দেয়া দৃশ্যগুলো সম্পর্কে কিছু বলবেন? আপনি কি এর কারণ জানতেন?
সেমবেন : আমি জানি না। কারণ এই সমস্যা আসলে সেন্সরশিপে আবদ্ধ ছিল না। সেটাই তদন্ত করা দরকার। ছবির শুরুতে (অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্রান্সের রানি) মারি আঁতোয়ানেতের আবক্ষমূর্তি সরিয়ে ফেলার দৃশ্য আছে। আমি বুঝি না, এই দৃশ্য কি করে কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে। কিন্তু এই দৃশ্য কর্তন করা হল— ঐ যে একই গুরুত্বপূর্ণ কারণ— ফরাসি ভাইবেরাদরদের মনে দুঃখ দেয়া যাবে না।
ছবিতে আরো একটা দৃশ্য আছে যেখানে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্রিফকেস খুলছে আর ব্যাংক বিল বার করছে। এটাও অনেককে আহত করেছে। চ্যাম্বার অব কমার্সের সামনে পুলিশ প্রধান ও একজন ইউরোপিয়র একটি দৃশ্য ছিল সেটিও কাটা গেছে। এগুলো হতেই পারে, আপনি জানেন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন শেতাঙ্গ সেনেগলি, তিনি ফরাসি ছিলেন, এখন তিনি সেনেগালেই থিতু হয়েছেন।

লাইভ

টপ