X
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
উপন্যাস

বিকল্প অর্থনীতি ও গ্রাম্য কায়কারবার

সাজেদুল ইসলাম
০২ মার্চ ২০২৪, ০০:০০আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০৯:৫৮

হায়দার মোড়লের উত্তরপুরুষ রিহিলের ঘরে ফেরা জিরাকাঠি গ্রামের অনেকের মনে বিস্ময়ের জন্ম দিলো। তাদের ভিতরে জমে থাকা দীর্ঘ অনিশ্চয়তার সমাপ্তি টেনে এতোবছর পর কেউ ফিরে বাড়ি এলো। মানুষের অভাবে যে বাড়িকে চারিদিক থেকে লতা-গুল্ম ঘিরে ধরেছে সেই বাড়ি তার মালিককে অবশেষে ফিরে পেলো। তারপরও অনিশ্চয়তা কেটেও যেন কাটলো না। ফিরে আসা মালিক চেনা না-জানা না। কোন ছোটবেলায় একবার নাকি এসেছিলো বাবার সঙ্গে। ছোটবেলার চেহারা-সুরতের সঙ্গে কি মানুষের বড়বেলার রূপ মেলে কোনোদিনও। এখন এতদিন পর এসে বলছে– আমি রেয়াসত মোড়লের একমাত্র সন্তান। হায়দার মোড়লের নাতি। জিরাকাঠির প্রতাপশালী সাবেক চেয়ারম্যান হায়দার মোড়লের উত্তরাধিকার। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ ভেবেছিলো মোড়লের ভিটায় হয়তো কোনোদিন আর বাতি জ্বলবে না। এতদিন বাদে জ্বললো তবে। ততোদিনে বহু দেরি হয়ে গেলো বটে। ঘরের সামনের শানের ইট বৃষ্টির তোড়ে ক্ষয়ে যাওয়ার উপক্রম। প্রতিবছর ডাওরে কিছু ইট বৃষ্টিতে খুলে যায়। কিছু খুলে নেয় পাশের লোভী প্রতিবেশী। অবশ্য তারাই এসবের বড় হকদার। দেখভাল যদি কিছু করার দরকার হয় তারাই তো করে। তবু যারা এতদিন মোড়লের আঙিনার পতিত জমি নানাভাবে ভোগদখল করেছিলো তারা শঙ্কিত হলো। এমনকি মোড়লের আঙিনায় যে মেয়েটি চুলার জ্বালানি হিসেবে গাছের পাতা কুড়ায়, গাছের অতিরিক্ত ডালপালা ছাটে সেই লাইজুও ভীত হলো– এই ভেবে যে– মোড়ল বাড়ির লোকেরা ফিরে এসেছে, নিজেদের চুলা জ্বালানোর কাজে তারা যদি এখন পাতা কুড়ায়! প্রতিবেশীদের মধ্যে চালাক-চতুর কয়েকজন অন্যদেরকে বুঝালো যে– শহুরে ছেলে এসব কিছু বুঝে নিতে পারবে না। তোমরা তোমাদের জায়গায় বহাল-তবিয়তে থাকবে। পাশের বাড়ির মেয়েটি লাইজুকে বললো, পোলা মানুষ পাতা কুড়াইবো কেমনে। লাইজু বললো, ক্যান, এরপর বৌ নিয়া আহে যুদি। এই শঙ্কার কথা শুনে পাশের বাড়ির মেয়েটি বলে, ধুর বিয়া করছেনি? দেইহা কেমন চেংরা মনে অয়। এই বলে দুইজন খিটমিট করে কিছুক্ষণ হাসলো।

রিহিল অনেক ক্ষেত্রে পেয়েছে তার বাবা রেয়াসত মোড়লের স্বভাব। বাবার মতোই উঁচু তবে লিকলিকে শরীর। বাবার মতো তার মুখ থেকেও যেন কথা বের হয় না। লোকে পাঁচটি জিজ্ঞেস করলে দুটি প্রশ্নের উত্তর দেয়। যেন বাকি তিনটি প্রশ্ন উপেক্ষায় উড়িয়ে দেবে। কথা কম বলা স্বভাব বলে হয়তো সে ভালো শ্রোতা। বিশেষত গ্রামে ফিরে নিত্যনতুন প্রশ্ন যখন তাকে কৌতূহলের কেন্দ্রে নিয়ে গেছে তখনও সে নির্ভার। যেটুকু একান্ত না বললেই নয় কেবল সেটুকুই বলছে। এই নিয়ে অবশ্য বাড়ির লোকেদের আগ্রহের কমতি নেই। কিছু প্রশ্নের উত্তর পেলে অন্তত তাদের কৌতূহল কমাতে পারতো। কিন্তু রিহিল সেসবের ধার ধারছে না। প্রায় পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর বয়সী এক যুবক বাড়িতে ফিরে তালা খুলে ঘরে ঢুকে গেলো। নিরন্ন ঘরে এতদিন যেখানে ইঁদুর-বিড়াল ও ইতর পোকার অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছিলো সেই সেখানে কেউ এসে ঢুকে যেত এতটুকু বেগ পেলো না। ভয়ও পেলো না। অথচ তার পূর্বপুরুষেরা গভীর রাতে বনবিড়াল আগমনের খবরে তটস্থ হতো। রাতে হুতুম পেঁচার ভুতভুতুম ভুতভুতুম ডাকে মনে নিরাপত্তা বিঘ্নের আশঙ্কা সৃষ্টি হতো। রিহিলের শরীরে উত্তরাধিকারের রক্ত প্রবাহিত হলেও সেই ভয় ও শঙ্কার ছিটেফোঁটা কেউ আজ দেখছে না যেন।

নাম-পরিচয় পেয়ে পাশের বাড়ির লোকেরা রিহিলের জন্য কিছু বিছানা-পত্তর এনে দিলো। যেন তাতে কোনোভাবে মাথা গোঁজা যায়। উত্তরের বাড়ির রেনু এসে ঘরদোরের ঝুল ঝেড়ে দিলো। ঝুল ঝাড়তে ঝাড়তে বললো, এতকাল কেউ খালি রাহে ঘর! আমরা তো ভাবছি মোড়লের বংশে মড়ক লাগছে। খোদার শুকরিয়া যে– এহনো এই বংশে বাতি জ্বালানোর লেইগা কেউ বাঁইচা আছে। সত্যি কী সে মোড়লের উত্তরাধিকার না সব মিথ্যা– এই সংশয়ের মধ্যে পাশের বাড়ি থেকে রিহিলের জন্য তিনবেলা খাবারও চলে এলো নিয়ম করে। রিহিল যতই কথা কম বলুক, প্রতিবেশীদের তো নতুন মানুষকে সমাদর না করে উপায় নেই। যত যা-ই হোক সে তো নিজেকে হায়দার মোড়লের নাতি পরিচয় দিয়ে গৃহের দখল নিয়েছে। তাই সমাদরেরও কমতি রাখার জো নেই। রুটিন করে একেক দিন একেক গেরস্থ তার জন্য সাধ্যমতো খাবারের বন্দোবস্ত করতে থাকলো। হিরণের বৌ শহুরে অতিথি রিহিলের জন্য রেঁধে পাঠালো দেশি মোরগের ঝোল। কেবল বাগ দিতে শুরু করেছে যে মোরগ সাত-সকালে খোপ আটকে রেখে সেই মোরগ ধরে রাখলো। শেষে জলের কোলে নিয়ে জবাই করা হলে টকটকে লাল রক্তে একাকার হলো পুরো কলতলা। আলুর বড় বড় টুকরো দেওয়া হলো সেই তাগড়া মোরগের তরকারিতে। শুকনো লাল মরিচ বেটে দেওয়া মাংসের তরকারির উপরে টকটকে লাল তেল ভেসে উঠলে তাতে দেওয়া হলে তেল, পেঁয়াজ ও জিরার মিশ্রণে বাটা ফোরন। ভাত ও মাংসের সঙ্গে টিফিন বাটিতে দেওয়া হলো টাকি মাছের ভর্তা ও লাউপাতা সেদ্ধ। পরের দিন নেয়ামদ্দি মোড়লের বাড়ি থেকে এলো দেশি কইমাছ ভুনা। বাটিতে তিনটি বড় কই মাছের পাশে এলো কয়েক টুকরা কাঁকরোল আনাজ। অন্য বাটিতে খাসির কলিজা দিয়ে বুটের ডাল। সঙ্গে নারিকেল দিয়ে শাপলা-চিংড়ির ভাজি। তারও পরের দিন খাবার দিলো ফিরোজের বৌ। দূর সম্পর্কে রিহিল তার দেবর। সে রাঁধলো মুগ-মুসুর ডালের ভুনা খিচুরি এবং গরুর মাংস। অন্যবাটিতে খেজুর গুড়ের পায়েস। রাতের খাবার হিসেবে দিলো চালের রুটি। রুটি খাওয়ার জন্য সঙ্গে দিলো ছোটো চিংড়ি ও নারিকেলের ঝাল ঝোল। খাবারের পদ সাজাজে সাজাতে সে অন্যদেরকে বললো, দেওরের জন্য ভালো খাওন না কইরা উপায় আছে! খাবারের এতসব পদ দেখে রিহিল বিব্রত হলেও কিছু বলতে পারলো না। নীরবতা যেন শেষপর্যন্ত তার কৃতজ্ঞতার ভাষা হয়ে উঠলো। যারা পরম যত্নে মেজবান ডালা সাজালো তারা এই ভাষা বুঝতে পারলো কি-না বুঝা গেলো না। তারা ধরে নিলো ছেলেটি হয়তো এমনই– গ্রামের রীতি-নীতি বোঝেনা কিছু।

পরের দিন নেয়ামদ্দি মোড়ল সকাল সকাল এজমালি পুকুর পাড়ে রিহিলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পিছন থেকে ডাক দেয়। জিজ্ঞেস করে, বেটা, তোমার আব্বা কেমন আছে? নেয়ামদ্দি মোড়লের কথায় রিহিল সাড়া দেয় না। সম্ভবত সে শুনতেও পায়নি। অথবা পুকুরে হেলে পড়া খেজুর গাছের দিকে চেয়ে কিছু একটা দেখতে দেখতে বেখেয়ালে ডুবেছিলো। নেয়ামদ্দি মোড়ল এবার জোর গলায় বলে, বাবা রেয়াল, বাড়িঘর কেমন লাগতাছে। ততক্ষণে নেয়ামদ্দি রিহিলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। রিহিল এবার বলে, চাচা আমি ভালো আছি, আপনার শরীর-স্বাস্থ্য কেমন আছে? নেয়ামদ্দি বলে, আমারে চিনতে পারছো? আমার নাম নেয়ামদ্দি মোড়ল। জি চাচা আপনার নাম আমি বাবার কাছ থেকে শুনেছি। চাচা, আমার নাম রিহিল। রিহিল তার নাম শুধরে দিতে চাইলেও সেদিকে নেয়ামদ্দি ভ্রুক্ষেপ না করে ফের বললো, তোমার বাবা আর আমি একলগে বড় অইছি। ছোডকালে নেংটা অইয়া খালে ডুবাইতাম। প্যান্ট খুইলা বাড়িতে রাইখা এক দৌড়ে গিয়া খালে লাফ দিতাম। বাড়ি থেইকা যহন দৌড় শুরু করতাম তখন দৌড়াইতে দৌড়াইতে গলা ছাইড়া গাইতাম– আমাগো বাড়ি গাবগাছ, তোগো বাড়ি ডাবগাছ/মোড়ল বাড়ির ব্যাল,/গাঙ দিয়া ভাইসা গেল জাহাজ ভরতি ত্যাল। এই বলে নেয়ামদ্দি হো হো করে হেসে ফেললো। সে ফের বলতে লাগলো, আমাগোর লগে তহন আরো পোলাপান জুইটা যাইতো। একলগে খালে ঝাপাইতাম। বাবার সঙ্গে দূর সম্পর্কের চাচা নেয়ামদ্দির শৈশব স্মৃতি শুনে রিহিল মুচকি হাসলো। রিহিল শুধু বললো, নদী থেকে জাহাজভর্তি তেল ভেসে যাওয়ার কথা কেন বলতেন? নেয়ামদ্দি এই প্রশ্ন শুনে বললো, তোমার তো মেলা বুদ্ধি বাবা। একটা ভালো প্রশ্ন করলা। আমাগো ছোডকালে একবার এক তেলের ট্যাংকার এই নদী দিয়া যাইতেছিলো। যাওয়ার কালে ট্যাংকারের লগে বালু বোঝাই ব্লাকহেডের সংঘর্ষ অইলে সারা গাঙ ত্যালে ভাইসা যায়। হাড়ি-পাতিল আর কলসিতে ভইরা আমরা সগলে তেল ধরছিলাম। হেই ত্যাল হাটে বেইচা জামাকাপড়ও কিনছিলাম। হেরপর থেইক্যা আমরা এই ছড়া বানাইছি। নেয়ামদ্দি মোড়ল এবার বললো, ছোটবেলায় মেলা দুষ্টু আছিলাম আমরা। বুড়া হইয়া গেছি তবু মনডা আগের মতই আছে যেন। তোমার আব্বা অনেক বদলায়ে গেছে মনে অয়। নেয়ামদ্দি মোড়লের কথায় এবারও সায় দেয় না রিহিল। নেয়ামদ্দির বয়স ষাট পেরিয়েছে আরো কয়েক বছর আগে। দেখলে সত্তোরোর্ধ্ব মনে হয়। চুল-দাড়ি সব সাদা হয়ে গেছে। মাথায় চুলও কেমন হালকা হয়ে এসেছে। ছয় ছেলে-মেয়ে নিয়ে নেয়ামদ্দি মোড়লের সংসার। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নেয়ামদ্দি মোড়লের সময় কাটে গ্রামের বিচার-সালিস ও জমি-জিরাতের কাজ করে। মেম্বার হওয়ার পর তার স্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে। পূর্বদিকে ধানের জমি কিনেছে প্রায় দুই বিঘা। বাড়িতে চৌচালা আধাপাকা ঘর দিয়েছে আলীশান।

বাড়ির উত্তরদিকের পুকুরটি হায়দার মোড়ল ও তার বাকি দুই ভাইয়ের এজমালি সম্পত্তি। বাড়ির যাবতীয় সম্পত্তি ভাগাভাগি হলেও পুকুরটি শেষপর্যন্ত ভাগ করা যায়নি। ফলে হায়দার মোড়ল ও তার দুইভাইয়ের উত্তরপুরুষেরাই মিশেমিলে পুকুরের দেখাশোনা ও ভোগদখল করার কথা। মোড়লের সন্তানেরা কেউ বাড়িতে না থাকায় অন্য দুইভাইয়ের সন্তানেরা ভালো-মন্দ দেখভাল করে। পুকুরের একেকটি পাড় একেক গেরস্থ দেখাশোনা করে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে জেলে ডেকে মাছ ধরা হয়। শীতের শেষে শ্যালো পাম্প বসিয়ে পুকুরকে জলশূন্য করে তুলে ফেলা হয় সব মাছ। জলহীন গহীন পুকুরের কাদায় নেমে পড়ে একদল লোক। হাড়ি-পাতিলে তুলে আনে শিং, কৈ, ভেদা, পুঁটি, খলিশা, কালিবোয়াশ, বোয়াল ও শোল মাছ। বড় ঠ্যাং উচিয়ে উঠে আসে গলদা চিংড়ি। বাইম মাছের সঙ্গে পাওয়া যায় কুচিয়া ও কাঁকড়ার ঝাঁক। রুই-কাতলা খুব বেশি ধরা পড়ে না পুকুরে। কারণ বছরের অন্যান্য সময়ে কয়েকবার জাল টেনে বড় মাছ ধরার রীতি আছে। এমনিতে পুকুরটিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ হয় না। পুকুরের সঙ্গে মোটা দুটি পাইপ দিয়ে খালের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নদীর নানা জাতের মাছ খাল হয়ে ওই পাইপ দিয়ে পুকুরে ঢুকতে পারলেও আর বের হতে পারে না। বছর ঘুরলে বিনা যত্নে মাছ বড় হয়। শীত এলে মোড়ল বাড়ির লোকের আহার হয়ে পেটের ঢোকে। এই হলো এজমালি পুকুরের মাছের চূড়ান্ত জীবনচক্র। সকালে রিহিল সেই পুকুরের পাড়ে যখন দাঁড়িয়ে ছিলো তখন তার চোখে পড়লো পুরোনো গোরস্থান। পুকুরের পশ্চিম পাশে মোড়লের পারিবারিক গোরস্থান। গোরস্থানের প্রাচীর চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। বাইরের দিকে লাল-খয়েরি রঙ– ঠিক যে কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয়েছিলো ঘরের সম্মুখ শান। সম্ভবত স্থাপনাদুটি সমসাময়িকও। গোরস্থানের ভিতরে কয়েকদফায় মাটি ফেলায় মাটি এখন উঁচু হয়ে প্রাচীর ছুঁয়েছে। মাটির চাপে প্রাচীরের চারদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। এই কবরখোলায় হায়দার মোড়ল ও তাঁর সুন্দরী স্ত্রীরা ঘুমিয়ে রয়েছে কয়েক যুগ হয়। এখানেই চিরনিদ্রায় রয়েছে তাঁর পূর্বপুরুষেরাও। এই নিদ্রা অনন্তকালের পথে নিয়ে গেছে তাদের। যেন অনিঃশেষ এই কালঘুম। তবে কে কোথায় শুয়ে আছে তার ন্যূনতম স্মৃতিচিহ্নও অবশিষ্ট নেই আর। গোরস্থানজুড়ে আছে কেবল ঘাস, লতা-গুল্ম এবং বিরাট বিরাট সবুজ বাঁশ। প্রতিটি ঝাঁড়ে থাকা একেকটি বাঁশ আকাশ স্পর্শ করে ফের মাটি ছুঁয়েছে। হায়দার মোড়লের অবর্তমানে ঘরের শান, পুকুর এবং এই গোরস্থানই যেন কেবল তার কথা বলছে।

ডাওরে এই কবরপাড়া জুড়ে বাড়তি নিঃশব্দ যোগ হয়। যেন কোনো কালেও এখানে কেউ ছিলো না। এক তীব্র হাহাকার হয়ে এখানে বৃষ্টি ঝরে। রিহিল ভাবে পৃথিবীর রূপ-রঙ কতো বিচিত্র। নানা প্রান্তে এই এক ধরা কত বর্ণে উপস্থিত। হায়দার মোড়লের স্ত্রী আম্বালার পৃথিবী এই মোড়ল বাড়ি। তারপর কেবলই এক অন্তত ঘুমের পথ। সকলে তার নিজের পৃথিবীটা শুধু দেখে। রোজ তো ওই একই রকম– দিন শেষে রাত। যে পৃথিবী তার নিজের নয়– সেই পৃথিবীটাকে কয়জন দেখতে পায়। দেখলে তো বুঝতে পারতো– সেটি কতো সুন্দর। কতো তফাৎ।

চলবে

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সংকট থেকে উত্তরণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান মেননের
সংকট থেকে উত্তরণে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান মেননের
কানে ঝুলছে বাংলাদেশের দুল!
কান উৎসব ২০২৪কানে ঝুলছে বাংলাদেশের দুল!
ধোনি-জাদেজার লড়াই ছাপিয়ে প্লে অফে বেঙ্গালুরু
ধোনি-জাদেজার লড়াই ছাপিয়ে প্লে অফে বেঙ্গালুরু
হীরকজয়ন্তীর পর সংগঠনে মনোযোগ দেবে আ.লীগ
হীরকজয়ন্তীর পর সংগঠনে মনোযোগ দেবে আ.লীগ
সর্বাধিক পঠিত
মামুনুল হক ডিবিতে
মামুনুল হক ডিবিতে
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের স্থান পরিদর্শন প্রধান বিচারপতির
সুপ্রিম কোর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের স্থান পরিদর্শন প্রধান বিচারপতির
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভালো সড়ক কেটে ২ বছর ধরে খাল বানিয়ে রেখেছে
নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভালো সড়ক কেটে ২ বছর ধরে খাল বানিয়ে রেখেছে