X
বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২
২ ভাদ্র ১৪২৯

বুভুক্ষাই জন্ম দিয়েছে ইরোটিকার

অনুবাদ : দিলওয়ার হাসান
০২ জুলাই ২০২২, ১৭:৪২আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ১৭:৪২

(ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন ডায়েরি লেখক, প্রবন্ধকার, কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও ইরোটিকা বা যৌনকামনাবিষয়ক গল্পকাহিনির লেখক আনাইস নিনের জন্ম পারিতে ১৯০৩ সালে। বাবা-মা ছিলেন কিউবার অধিবাসী। তাঁর শৈশব কাটে স্পেন ও কিউবায়। বাবা জোয়াকুইন নিন ছিলেন কম্পোজার আর মা রোসা কালমেল ক্ল্যাসিক্যাল ঘরানায় প্রশিক্ষিত সঙ্গীতশিল্পী।
অন্য এক নারীকে বিয়ে করে তাঁর বাবা চলে গেলে মা তাঁকে ও তাঁর দুভাইকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। পরে বিয়ে হলে স্বামীর সঙ্গে পারিতে চলে যান আনাইস, আর প্রায় ষোলো বছর সেখানে অবস্থান করেন। তাঁর প্রথম বইটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে। তারপর একে একে বের হয় হাউস অব ইনসেস্ট, উইন্টার অব আর্টিফিস, ল্যাডার টু ফায়ার, চিলড্রেন অব আলব্রাট্টোস, অ্যা স্পাই ইন দ্য হাউস অব লাভ অ্যান্ড সিডাকসন অব দ্য মিনোটাওর, আন্ডার অ্যা গ্লাস বেল, অ্যা ওম্যান স্পিকস, দ্য আর্লি ডায়ারিস অব আনাইস নিন আর ইরোটিক গল্পের সংকলন ডেল্টা অব ভেনাস ও লিটল বার্ডস। খ্যাতনামা মার্কিন লেখক হেনরি মিলারের সঙ্গে তাঁর সখ্য ও আবেগময় সম্পর্ক নানান কাহিনির জন্ম দেয়। শেষজীবনে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৭৩ সালে ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব আর্ট তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। ১৯৭৭ সালে নিন লস অ্যাঞ্জেলেসে মারা যান। এই লেখাটি ‘ডেল্টা অব ভেনাস’ বইয়ের ‘মারিন’ গল্পের ভূমিকা হিসেবে রচিত হয়েছিল।)  : অনুবাদক


খুবই চিত্তাকর্ষক একটা তথ্য—খুব কম লেখকই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে ইরোটিক গল্পকাহিনি বা স্বীকারোক্তিমূলক রচনা লিখতে প্রবৃত্ত হন। এমনকি ফরাসি দেশে যেখানে মনে করা হয় মানুষের জীবনে ইরোটিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে সেখানেও লেখকগণ ঠেকায় না পড়লে বা টাকা-পয়সার দরকার না থাকলে ইরোটিকা লিখতে বসেন না।
একটা উপন্যাস বা ছোটগল্পে যৌনকামনাবিষয়ক গল্প যুক্ত করা এক কথা আবার ওই বিষয়ের প্রতি তাবৎ মনোযোগ প্রদান করা ভিন্ন ব্যাপার। প্রথম বিষয়টিকে জীবনের মতোই একটা ব্যাপার বলে গণ্য করা যায়। এটাকে বলা যায় স্বাভাবিক, আন্তরিক একটা বিষয় যা এমিল জোলা বা ডিএইচ লরেন্সের লেখাগুলোতেও পাওয়া যায়; কিন্তু পুরো ব্যাপারটাতে যৌনজীবনের ওপর দৃষ্টি নিবন্ধ করলে বিষয়টা আর স্বাভাবিক থাকে না। সেটা কোনো বারবনিতার জীবনের মতো হয়ে পড়ে—এক ধরনের অস্বাভাবিক কার্যকলাপ যা বারবনিতাকে যৌনতার বাইরে নিয়ে যায়। লেখকগণ এই বিষয়টা ভালোভাবেই জানেন।
যে-কারণে তাঁরা একখানা মাত্র স্বীকারোক্তিমূলক রচনা কিংবা খান কয়েক ছোটগল্প লিখেছেন; অন্যভাবে বললে বলা যায় জীবন সম্পর্কে তাদের সাধুতার সন্তোষ বিধান করতে তারা এটা করছেন, যেমনটা করেছিলেন মার্ক টোয়েন।
কিন্তু সেই একদল লেখক সম্পর্কে কী বলবেন আপনি? যারা নেহাত টাকার অভাবে নিজেদের সকল সক্ষমতা ইরোটিকা রচনার কাজে নিবেদন করেছিলেন? এই বিষয়টা তাদের বাস্তব জীবনে, জগতের প্রতি তাদের আবেগ অনুভূতির ক্ষেত্রে কিংবা লেখালিখির ওপর কতটা প্রভাব সৃষ্টি করেছিল?

তাহলে খুলে বলি আপনাদের, এ ধরনের লেখকদের একটি দলের আমি ধাত্রী-স্বীকারোক্তিকারী। নিউইয়র্ক নগরীতে সবকিছু তখন কঠিন হয়ে পড়েছিল, শুধু কঠিন নয়—একেবারে নির্দয় নির্মম। বেশকিছু মানুষের দায়দায়িত্ব ছিল আমার কাঁধে, চারপাশে সমস্যার পাহাড়। আমার চরিত্র যেহেতু ছিল একেবারে জরজে সঁন্দের মতো যিনি নিজের শিশুদের লালনপালন, প্রেমিক আর বন্ধুদের আদর আপ্যায়নের জন্যে সারা রাত ধরে লেখালিখি করতেন। তেমনি আমাকেও কাজ খুঁজে নিতে হতো। এ কারণে আমি যাকে বলা যায়, একটা সাহিত্য-গণিকালয়ের ‘মাসিতে’ পরিণত হয়েছিলাম। ওই বাড়িটা ছিল সত্যিকার অর্থেই শিল্পীত। স্কাইলাইটসমেত ছোট্ট একটা ঘর। প্যাগান ক্যাথিড্রালের জানালার মতো যাতে দেখায় তার জন্যে আমি ঘরটা রং করেছিলাম।
ওই পেশায় ঢোকার আগে আমি একজন কবি ও স্বাধীন নারী হিসেবে পরিচিত ছিলাম। লিখতাম নিজের আনন্দের জন্যে। বেশকিছু তরুণ লেখক, কবি আমাদের এখানে আসতেন। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করতাম, আলাপ আলোচনা করতাম, হাতে যে-কাজ থাকত তা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতাম। চরিত্র, আচার ব্যবহার, ভালো লাগা মন্দ লাগা, শখ, আর পাপ-পুণ্য নানান রকমের হলেও এই লেখকদের একটা কমন ব্যাপার ছিল—তা হচ্ছে তারা সবাই ছিল দরিদ্র। খুবই দরিদ্র। প্রায়ই আমার ছোট্ট ওই গৃহকোণ একটা ক্যাফেটেরিয়ায় পরিণত হতো। তারা প্রচণ্ড খিদে নিয়ে ওখানে আসতেন। চুপচাপ বসে থাকতেন। আমরা একসঙ্গে কোয়েকার বা ওটস খেতাম, কারণ ওগুলোই ছিল সবচেয়ে সস্তা। ওই খাবারেই আমাদের পুষ্টি বিধান হতো।

অধিকাংশ ইরোটিকাই লেখা হয়েছে অভুক্ত অবস্থায়। কল্পনাশক্তি জাগিয়ে তোলার জন্যে ক্ষুধা সর্বোত্তম। এতে কোনো যৌনশক্তি উৎপাদিত হতো না, যৌনশক্তি কোনো অস্বাভাবিক অ্যাডভেঞ্চারেরও জন্ম দেয় না। খিদে যত বেশি, আকাঙ্ক্ষাও ততো বেশি। কারাগারে বন্দি মানুষগুলোর মতো আদিম ও ভীতিজনক। আমাদের যে-জগৎটা ছিল তাকে একেবারে খাঁটি যাকে বলা যায়, যেখানে ফুটত ইরোটিকার শতফুল।

আর আপনার যদি এখানে প্রচণ্ড খিদে লাগে, আর ব্যাপারটা যদি হয় ঘনঘন তাহলে আপনাকে নিষ্কর্মা বা ভবঘুরে না বলে উপায় নেই। ইস্ট রিভার, ঘরবাড়ির প্রবেশদ্বার আর বোয়েরি এলাকায় যারা ঘুমায় তাদের যৌনজীবন বলে কিছু থাকে না। আমার লেখক বন্ধুদের কেউ কেউ বোয়েরি এলাকায় থাকলেও তখনও ওই পর্যায়ে পৌঁছেননি।
আমি যখন ইরোটিকা লেখার কাজে আত্মনিয়োগ করি আমার মূল লেখাগুলো একপাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছিল। এসব ছিল বেশ্যাবৃত্তির জগতে আমার অ্যাডভেঞ্চার। ওইসব বিষয় পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসাটা প্রথম দিকে ছিল খুব কষ্টকর। আমাদের কবি, লেখক, শিল্পী যার কথাই বলুন না কেন তাদের যৌনজীবন নানা স্তরে ঢাকা থাকে। ঠিক একজন পর্দানশীন নারীর মতো, যেন অর্ধেক স্বপ্ন।...

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের ওপর আইনজীবীদের হামলা
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের ওপর আইনজীবীদের হামলা
সামরিক সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনের সঙ্গে আলোচনা রাশিয়ার
সামরিক সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনের সঙ্গে আলোচনা রাশিয়ার
মহাসড়কে প্রাণ গেলো অটোরিকশায় থাকা ৩ কিশোরের
মহাসড়কে প্রাণ গেলো অটোরিকশায় থাকা ৩ কিশোরের
প্রতীক্ষিত জেআরসি বৈঠক এ মাসেই, ফোকাস গঙ্গা-কুশিয়ারায় 
প্রতীক্ষিত জেআরসি বৈঠক এ মাসেই, ফোকাস গঙ্গা-কুশিয়ারায় 
এ বিভাগের সর্বশেষ
প্রান্তরে জীবনের বীজ
শামসুর রাহমানপ্রান্তরে জীবনের বীজ
দুলে ওঠে ঘর না কারবালা
দুলে ওঠে ঘর না কারবালা
কফিনের পোস্টার
কফিনের পোস্টার
লেফট রাইট লেফট
লেফট রাইট লেফট
একটাই তর্জনী
একটাই তর্জনী