X
সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২
২৪ শ্রাবণ ১৪২৯
কবিতা

একটি কবিতা  

অর্ণব রায়
১১ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০০আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০০

১  
কোথায় তোমার গাছ?
কথা ছিল নিজের শান্তি নিজে উৎপাদন করে নেওয়ার,
কথা ছিল, সভ্যতার নীল চক্রে, কোথাও মুখোমুখি দেখা হয়ে গেলে
আকাশের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে একটি পূর্ণ গ্রহের ওপর ভেঙে পড়বে।
আমাদের চলা মানুষের থেকে সামান্য দুইঞ্চি ওপরে
আমাদের গা থেকে কস্তুরী গন্ধ 
আমাদের পোশাক ধীর ও ধাবমান,
গৃহস্থে আমাদের বিষয়ে কম্বুকণ্ঠে প্রতিবেশীকে সাবধান করে দেয়,
দৈবাৎ স্পর্শ ঘটে গেলে তার ভাষা,
তার উচ্চারণের উচ্চাবচ ঢেউ,
মৃতের মতো শান্ত হয়ে নেমে আসে,
চিরকালের মতো স্বর হারিয়ে সে যত্রতত্র
অতিরিক্ত গদগদ হয়ে পড়ে—

এখানে যারা আসে, তাদের সকলকে আমরা চিনি,
তারা আমাদের যেন চিনে ফেলে অবয়ব থেকে,
প্রতি মুহূর্তে কালো কাগজের ছাই উড়তে দেখে, 
এছাড়া আমাদের সংস্পর্শে সর্বদা একটি কিশোর গাছ
কোথাও না কোথাও গ্র্যাভিটি অগ্রাহ্য করে ভাসমান থাকেই,
কথা উৎপাদনে আমরা স্বাবলম্বী,
সভ্যতার সমান্তরালে সর্বদাই যে সর্বনাশ উচ্চারণের ধারা বহমান, 
সাধারণ শ্রবণ ক্ষমতার তলদেশে, খাদে,
কল্পান্তে একটিবার তা গীত হয়, আমরা গাই 


আশপাশের দুঃখ থেকে আমরা সম্পূর্ণ বিচ্যুত।
দুঃখ বিদেশি ভাষার গান ও আমরা বধির। 
মানুষের শাবকেরা তাদের ক্ষমতার মতো ভঙ্গুর,
স্বল্প বৃত্তে উড়তে সক্ষম,
হামেশাই ফিনফিনে জালওয়ালা ডানা থেবড়ে 
পালে পালে সভ্যতার কোনায় পড়ে থাকে।
তাদের কীই-বা ক্রোধ কীই-বা আকাঙ্ক্ষা!
নিজের ছায়াকে তারা অন্ধকার বলে
আর তা থেকে আমাদের অবয়ব কল্পনার চেষ্টা রাখে                               


আমাদের তারা বিরাট ভাবে,
তাদের কল্পনার মাপ
তাদের দুঃস্বপ্নের মাপের থেকে কিছু বড়
ভেবে তারা নিশ্চিন্ত হয়,
এছাড়াও তারা ভাবে আমরা দুরান্তের কেউ
তাদের সবেধন সভ্যতার দিকে চোখ রেখে আছি
আর তা আমাদের খেলনাসম্ভার,
অথবা তারা ভাবে আমরা খুব কাছেই
কোনও পর্দার আড়ালে তাদের গায়ের ওপর শ্বাস ফেলছি
মুহূর্তের যোগাযোগে ধাপ্পা বলে লাফিয়ে পড়ব—

আমরা তাদের ভুল ভাঙি না
আমরা তাদের ঠিক ভাঙি না
তারা নিজেদের মতো খলবল করে
ও যত্রতত্র আমাদের যথেচ্ছ আকার দেয়


কল্পনাবাস্প ফুরিয়ে এলে তারা আমাদের ডাকে।
আমাদের দণ্ডায়মান ভেবেছিল
আমাদের বৃহৎ বৃহৎ চেয়ারে বসিয়েছিল কেউ কেউ,
মঙ্গল অমঙ্গলের ধারণাবুদ্বুদ গড়ে 
বিন্দু বিন্দু সভ্যতার ভেতর বিন্দুতর ঘরবাড়ি গড়ে
বাস্পের মতো শ্বাসবায়ুর মতো আমাদের পুরে ফেলবে ভাবে,
করতলে জল রেখে তাকে স্থির করবার চেষ্টায় রত হয়,
ভাবে, সে জল আয়না হবে,
ভাবে, সেই আয়নায় তাদের আকাশ থেকে 
কোনও দুর্লভ মুহূর্তে আমরা উঁকি দিয়ে ফেলতে পারি

রূপরহস্য না বুঝে তারা আমাদের ডাকে
তাদের দেখা ভাবা স্বপ্নে এসে পড়া রূপের 
বাইরের কিছু ধারণা সম্বল করে 
আমাদের চেহারা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষায় মাতে,
আমাদের একরূপে ভাবে
কখনও বহুরূপে ভেঙে দেয়,
কেউ কেউ কখনও সখনও কি যেন দেখে ফেলে করতলে,
ওরা ভাবে আমাদের দেখবার আভাস তারা পেয়ে গেছে বুঝি,
সকলে হইহই করে তাদের অকালে দেবতা বানিয়ে ছাড়ে 


তাদের কল্পিত ঈশ্বরগুলি বাঁদর, শূকর, টিয়াপাখি, শুশুক
তাদের কল্পিত ঈশ্বরগুলির অনায়াসে মুণ্ডচ্ছেদ করা যায় যথেচ্ছ, 
মনুষ্যেতর বিশ্বাসে তারা আমাদের বুকে জড়াতে যায়
মনুষ্যবুদ্ধিতে পরক্ষণে নস্যাৎ করে।

তারা ভাবে এই ভাবনাগুলি বুঝি পরপর আসে
তারা ভেবে বসে, ভাবনার কোনো পূর্বাপর তো নেই,
যে আশ্চর্য ব্যবস্থার ভেতর তারা জাগে জাগে জাগে 
ও শেষপর্যন্ত না পেরে ঘুমে ঢলে পড়ে,
সে আশ্চর্য ব্যবস্থাও অন্যতর কোনো ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ বলে ধরে নেয়,
তাদের ভাবনা এই ব্যবস্থার ভেতর ব্যবস্থাকে বড় ও ছোট 
পিতা-পুত্র এমনকি কারাগারের ভেতর কারাগার ইত্যাদি ধারণা করে,
তাদের ভাবনার সীমা সম্পর্কিত এইসব কথাবার্তাকে তারা 
আমাদের ভাবনা ও ভাষার নিগড়ে বাঁধা
আমাদেরই কথাবার্তা বলে ধরে নেয় হয়তো 

/জেডএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব ৬ হাজারের বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে ৯ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব ৬ হাজারের বেশি
সাত দলের জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’র আত্মপ্রকাশ
সাত দলের জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’র আত্মপ্রকাশ
স্টিভ ওয়াহরা যা পারেনি, মেগ ল্যানিংরা সেটাই করে দেখালো  
স্টিভ ওয়াহরা যা পারেনি, মেগ ল্যানিংরা সেটাই করে দেখালো  
এক গুদামে মিললো ১৫ হাজার বস্তা সার
এক গুদামে মিললো ১৫ হাজার বস্তা সার
এ বিভাগের সর্বশেষ
মানুষ এত কই যায়
মানুষ এত কই যায়
কোন মুখে বলো, সব ঠিক আছে, ভালো আছি বড়ো
কোন মুখে বলো, সব ঠিক আছে, ভালো আছি বড়ো
চক্রব্যূহ
চক্রব্যূহ
মারুফা মিতার কবিতা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১মারুফা মিতার কবিতা
দিপন দেবনাথের কবিতা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কার ২০২১দিপন দেবনাথের কবিতা