X
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২
১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

গণরুমেও জায়গা হচ্ছে না জাবি শিক্ষার্থীদের

ওয়াজহাতুল ইসলাম, জাবি
২৪ আগস্ট ২০২২, ১১:৫০আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ১১:৫৬

দেশের একমাত্র ‘পূর্ণাঙ্গ আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়’ খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) হলে চরম আসন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক হলে একটি আসন বরাদ্দের কথা থাকলেও, দিতে ব্যর্থ হচ্ছে হল প্রশাসন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিগত বছরগুলোতে ভর্তি হওয়ার পর হলের গণরুমে থাকতে পারলেও, বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী জায়গা না পেয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে মেস ভাড়া নিয়ে থাকছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য আটটি করে মোট ১৬টি আবাসিক হল রয়েছে। এতে আসন সংখ্যা আট হাজার ২৭৮। আসনের বিপরীতে বৈধ শিক্ষার্থী (৪৫ থেকে ৫০ ব্যাচ) রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৯৩৮ জন। তবে অনেক শিক্ষার্থী হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।

ছাত্রদের আট হলে পাঁচ হাজারের মতো আসন থাকলেও, প্রায় সবগুলো হলেই ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন ছাড়ার ব্যাপারে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের সদিচ্ছার অভাব, সেশনজট ও হল প্রশাসনের যথাযথ মনিটরিং না থাকাসহ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্ররা রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন হলে অবস্থান করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে নতুন ছয় হলের কাজ শেষ না করতে পারাকেও দায়ী করছেন অনেকে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রবীণ শিক্ষার্থীদের অনেকের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে নতজানু হল প্রশাসন। বেগম সুফিয়া কামাল হল ব্যতীত আসন সঙ্কট সমস্যা ছাত্রীদের হলগুলোতেও। কয়েকটি হলে কিছু ছাত্রী আসন পেলেও অনেকেই অবস্থান করছে গণরুমে। এছাড়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও অবস্থান করছেন গণরুম ও ক্যাম্পাসের পাশে বিভিন্ন ভাড়া বাসায়।

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য হলে একটি আসন থাকার কথা থাকলেও দিতে ব্যর্থ হচ্ছে হল প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ ব্যাচের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ) ৩৪টি বিভাগের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ বিভাগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই হিসাবে বর্তমানে ৪৫ থেকে ব্যাচের (২০১৫-১৬ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, এখনও ৪২, ৪৩ ও ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ চাকরি পেয়েও আসন ছাড়ছেন না। আবার তাদের কেউ কেউ একাই দখল করে আছেন দুই ও চার আসনের কক্ষ।

এদিকে ছাত্রত্বের মেয়াদ শেষ হওয়া শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, প্রবীণরা হল ত্যাগ না করে আসন ধরে রাখাই সঙ্কটের অন্যতম কারণ। এর ফলে এখন গণরুমেও থাকার জায়গা নেই।

ছাত্রদের আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, গণরুমে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরা। কোনও হলে ছাত্র সংসদ, কোথাও হলের ডাইনিং কিংবা কমনরুমে কোনোরকমে দিন-রাত পার করতে হচ্ছে তাদের। আবার কোনও হলে থাকার জায়গা না পেয়ে মেস ভাড়া নিতে হয়েছে। এখনও আসন পাননি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাও। মিনি গণরুম নামে চারজনের কক্ষে একসঙ্গে ১০-১৫ জন করে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক হলে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও চার জনের কক্ষে ৬-৮ জন মিলে থাকছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এবার বঙ্গবন্ধু হলে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ছাত্র সংসদ কক্ষে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রুম ছোট হওয়ায় ৩০ জন গাদাগাদি করে থাকছি। অন্যরা জায়গা না পেয়ে ক্যাম্পাসের আশপাশে মেস ও আত্মীয়দের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও চুরি হচ্ছে। ঈদে বাড়ি থেকে এসে দেখি তিনটি ফ্যান চুরি হয়ে গেছে। রিডিং রুমে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় পড়ার সুযোগও হয় না।’

শহীদ সালাম বরকত হলের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দ্বিতীয় বর্ষ প্রায় শেষের পথে। এখনও সিট পাইনি। হলে পড়ালেখার পরিবেশ নেই। রিডিং রুমেও জায়গা পাওয়া যায় না। একই অবস্থা লাইব্রেরিতেও। যতই দিন যাচ্ছে হতাশা বাড়ছে।’

এক্ষেত্রে হল প্রশাসনের অদক্ষতাকেও দুষছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাসহ অংশীজনরা। তাদের দাবি, হল প্রশাসনের দায়িত্ব হলের দেয়ালে হল ত্যাগের নোটিশ টাঙানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর বাইরে হল প্রশাসন হলগুলোতে কত সিট খালি রয়েছে তা কখনও মনিটরিং করেছে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। গণরুমেও হর-হামেশাই চুরি হচ্ছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এ নিয়েও নেই কোনও মনিটরিং।’

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিক সময়ে কাজ শেষ করলে নতুন ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীরা হলে সিট পেতেন। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবের চেয়ে বড় বড় বিল্ডিং করার চিন্তা বেশি প্রশাসনের। তারা যদি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করতো তাহলে দ্রুত সময়ে হলগুলোর কাজ শেষ করার প্রতি মনযোগ দিতো। এছাড়া হলে প্রায় ১৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রানিং ব্যাচ ছয়টি। সেই হিসাবে শিক্ষার্থী থাকার কথা ১২ হাজারের মতো। এর বেশি শিক্ষার্থী অবশ্যই মেয়াদ শেষ হওয়া অথবা বাইরের কেউ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি হলে সিট বণ্টনের ক্ষমতা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হাতে। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের কাছে বিভিন্ন সভায় আমরা এটাও শুনি যে, “আপনারা সারারাত যাতে ঘুমাতে পারেন সেজন্য আমরা জেগে থাকি, সিট বণ্টন করে থাকি”। অথচ এই দায়িত্ব থাবার কথা হল প্রশাসনের। সবকিছু মিলিয়ে এটা মনে করি, হল প্রশাসন আসলে আন্তরিক নয় এবং প্রশ্নের বিষয় যে হলো, দায়িত্ব পালনে প্রশাসন অপারগ কিনা তা বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী বলেন, ‘নতুন হলগুলোর কাজ শেষ হলে আসন সঙ্কট কমে যাবে। আশা করি দ্রুতই হলগুলোর কাজ শেষ হবে। আমার হলে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া কোনও শিক্ষার্থী নেই। এছাড়া ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীদের এখন হলে থাকার কোনও অধিকারও নেই। অন্য কোনও হলে থাকলে আমাদের জানালে ব্যবস্থা নেবো।’

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মতে হলের অনেক কক্ষেই এক বা দুটি করে আসন খালি রয়েছে। হলগুলোতে কয়টি সিট খালি আছে তা নির্ধারণের জন্য কোনও মনিটরিং ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসন খালি আছে কিনা তা বলতে পারছি না। আসনই পাওয়া যায় না আবার খালি থাকবে কীভাবে?’

হলে আসন সঙ্কট নিরসনে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও রিসিভ হয়নি।

/এসএইচ/
পূর্ব ইউক্রেনে সফরে যাবেন পুতিন: ক্রেমলিন
পূর্ব ইউক্রেনে সফরে যাবেন পুতিন: ক্রেমলিন
ছেলেকে ঘরে থাকতে বলে ফিরতে পারলেন না রুবিনা
ছেলেকে ঘরে থাকতে বলে ফিরতে পারলেন না রুবিনা
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালাবে সিএনএন
এফবিসিসিআইয়ের সমঝোতা চুক্তি সইবাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালাবে সিএনএন
কেএসআরএম অষ্টম গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
কেএসআরএম অষ্টম গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
সর্বাধিক পঠিত
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
আয়াত হত্যারিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে আবিরের মা-বাবা
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
শাহবাগে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড: রমনা ডিসি
আকাশছুঁই পারিশ্রমিক হাঁকছেন রাজ, দিলেন ব্যাখ্যা
আকাশছুঁই পারিশ্রমিক হাঁকছেন রাজ, দিলেন ব্যাখ্যা
চট্টগ্রামে ৩০ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামে ৩০ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলো ক্যামেরুন
ব্রাজিলকে হারিয়ে দিলো ক্যামেরুন