নেতা ডেকে সিনিয়রকে হেনস্তা করানোয় হল থেকে ছাত্রী বহিষ্কার

ইবি প্রতিনিধি
২১ অক্টোবর ২০২২, ১৯:৩৪আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২২, ১৯:৩৪

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সিনিয়র এক আবাসিক ছাত্রীকে হেনস্তা ও তার বন্ধুকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে মারধর করানোর অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে হল প্রশাসন। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, হল প্রভোস্ট ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতে হলের টিভি রুমে ছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই তথ্য জানানো হয়।

এই ঘটনায় উভয়পক্ষ হল প্রভোস্ট বরাবর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী। তিনি বলেন, আজ কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টর স্যারসহ আমরা ছাত্রীদের সঙ্গে বসেছি। সেখানে হলের দেড় শতাধিক ছাত্রীর স্বাক্ষরসহ অভিযুক্ত ছাত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তার সিট বাতিল ও হেনস্তার বিচারের দাবি করেছে। হল কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি এবং হেনস্তার অভিযোগ থাকা ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার জন্য প্রক্টরিয়াল বডির কাছে সুপারিশ করেছি। এ ছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। এর আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন হলের হাউজ টিউটর নাজমুল হুদা। এ ছাড়া সদস্য করা হয়েছে শিক্ষক মাহবুবা সিদ্দিকা ও নাহিদা আক্তারকে।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে বহিষ্কার হওয়া ছাত্রীও আলাদাভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছে। এর তদন্তেও একই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া হলের এক সিনিয়র আবাসিক ছাত্রীকে হেনস্তা ও তার বন্ধুকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় হলের দেড় শতাধিক ছাত্রী হলগেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা হেনস্তা ও মারধরকারীদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভ চলাকালে রাত ৮টায় প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্য ও আবাসিক এক শিক্ষক এবং সাড়ে ৮টায় প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী হলে আসেন। তারা ছাত্রীদের আশ্বাস দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতার রেফারেন্সে হলের গণরুমে সিটপ্রাপ্ত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী দ্বিতীয় তলার কক্ষে ওঠেন। সেখানে তাকে পছন্দমতো সিট না দেওয়ায় হলের সিনিয়র ছাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই জুনিয়র ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় ওই জুনিয়র তার পরিচিত ছাত্রলীগ নেতাকে জানালে বৃহস্পতিবার শাখা ছাত্রলীগ নেতা শাহিন আলমের নেতৃত্বে হাফিজ ও মাসুমসহ কয়েকজন হলের ওই সিনিয়র ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রাস্তা আটকে হেনস্তা করে। এই সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অভিযুক্তরা শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের অনুসারী।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তারা কয়েকজন মিলে জিজ্ঞেস করে আমাকে হলে কে উঠাইছে, কে সিট দিয়েছে? আমি যখন হল প্রভোস্ট ম্যামের কথা বলি তখন তারা আমাকে বলে যে এখানে সিট দিই আমরা, সিট কি ম্যাম দেয়? ম্যাম কি জানে কোনও রুমে কোন সিট ফাঁকা আছে? পরে আমি ম্যামের সঙ্গে কথা বলে জানাতে চাইলে তারা আমার ওপর তেড়ে এসে আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। এই সময় আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমি র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছি। এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই। এই সময় রুমের ভিতরে অবস্থানরত ছাত্রীদের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পথিক দাবি করেন, হাফিজের প্রেমিকাকে সিটে ওঠানো নিয়ে সিনিয়র ওই ছাত্রীকে বিকালে ডাকে হাফিজ। পরে এই নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে থাপ্পড় মারে সে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সিনিয়ররা হলের নিয়ম অনুযায়ী ওই জুনিয়রের সঙ্গে কথা বলি। বিষয়টি সে তার পরিচিত বড় ভাইকে জানালে প্রথমে আমাকে বান্ধবীর মাধ্যমে হুমকি দেয়। পরে বিকালে আমাকে হেনস্তা করে ও আমার বন্ধুকে মারধর করে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত শাহিন আলম দাবি করেন, হেনস্তা ও মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কথা বলার একপর্যায়ে হাফিজকে হুমকি দেয় পথিক। এই নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে শুধু ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

/এফআর/
সম্পর্কিত
বগুড়ার সেই এনসিপি নেতাকে টিটিসি থেকে বহিষ্কার
জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে অশ্লীল নৃত্য, সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার
সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী